কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। দুই দলই একে অপরের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতাকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ঝটিকা মিছিল ও সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসার পর এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে দলগুলোর অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে করা মামলায় ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর গুলশান থানার ওসি ও গুলশান বিভাগের ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত ডিসিকেও বদলি করা হয়েছে।
বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, জামায়াতের কথিত গোপন সমঝোতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাস্তায় নামতে উৎসাহিত করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে উৎসাহিত করার জন্য জামায়াতের কিছু কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াতে ইসলামী।
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পেছনে সরকারের সমর্থন থাকতে পারে। তবে এটি জামায়াতের রাজনৈতিক অভিযোগ; এর স্বাধীন প্রমাণের বিষয়টি আলাদা।
জামায়াতের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিএনপির অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জামায়াত বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে।
এ ছাড়া ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর, মালিবাগ, মহাখালী, কেরানীগঞ্জ, বাড্ডা ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তাদের মতে, কে কাকে মদদ দিচ্ছে এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সহিংসতা বা নাশকতার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
ফলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধেরও নতুন ইস্যু হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। দুই দলই একে অপরের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতাকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ঝটিকা মিছিল ও সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসার পর এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে দলগুলোর অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে করা মামলায় ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর গুলশান থানার ওসি ও গুলশান বিভাগের ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত ডিসিকেও বদলি করা হয়েছে।
বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, জামায়াতের কথিত গোপন সমঝোতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাস্তায় নামতে উৎসাহিত করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে উৎসাহিত করার জন্য জামায়াতের কিছু কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াতে ইসলামী।
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পেছনে সরকারের সমর্থন থাকতে পারে। তবে এটি জামায়াতের রাজনৈতিক অভিযোগ; এর স্বাধীন প্রমাণের বিষয়টি আলাদা।
জামায়াতের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিএনপির অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জামায়াত বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে।
এ ছাড়া ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর, মালিবাগ, মহাখালী, কেরানীগঞ্জ, বাড্ডা ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তাদের মতে, কে কাকে মদদ দিচ্ছে এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সহিংসতা বা নাশকতার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
ফলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধেরও নতুন ইস্যু হয়ে উঠেছে।
