বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

রাজনীতি

এক দল বলছে গোপন সমঝোতা

আওয়ামী লীগকে মদদ দিচ্ছে কে? বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আওয়ামী লীগকে মদদ দিচ্ছে কে? বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। দুই দলই একে অপরের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতাকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ঝটিকা মিছিল ও সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসার পর এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে দলগুলোর অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিল হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ১৫০ থেকে ২০০ জনের মতো লোক গুলশান রোড-৩-এর কেএফসির পাশের একটি গলিতে জড়ো হয়ে মিছিল করেন। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে পুলিশ জানায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে করা মামলায় ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পর গুলশান থানার ওসি ও গুলশান বিভাগের ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত ডিসিকেও বদলি করা হয়েছে।

গুলশানের ঘটনার পর বিএনপির কয়েকজন নেতা আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতার জন্য জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেন।

বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, জামায়াতের কথিত গোপন সমঝোতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাস্তায় নামতে উৎসাহিত করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে উৎসাহিত করার জন্য জামায়াতের কিছু কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াতের নেতাদের দাবি, সরকারের কোনো অংশের ‘সবুজ সংকেত’ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের তৎপরতা চালানো সম্ভব নয়।

দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পেছনে সরকারের সমর্থন থাকতে পারে। তবে এটি জামায়াতের রাজনৈতিক অভিযোগ; এর স্বাধীন প্রমাণের বিষয়টি আলাদা।

জামায়াতের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিএনপির অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জামায়াত বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে।

এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আরেকটি ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর, মালিবাগ, মহাখালী, কেরানীগঞ্জ, বাড্ডা ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

তাদের মতে, কে কাকে মদদ দিচ্ছে এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সহিংসতা বা নাশকতার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টিও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ফলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধেরও নতুন ইস্যু হয়ে উঠেছে।

#জামায়াত #বিএনপি #আওয়ামীলীগ

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আওয়ামী লীগকে মদদ দিচ্ছে কে? বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। দুই দলই একে অপরের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতাকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ঝটিকা মিছিল ও সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসার পর এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে দলগুলোর অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিল হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ১৫০ থেকে ২০০ জনের মতো লোক গুলশান রোড-৩-এর কেএফসির পাশের একটি গলিতে জড়ো হয়ে মিছিল করেন। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে পুলিশ জানায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে করা মামলায় ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পর গুলশান থানার ওসি ও গুলশান বিভাগের ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত ডিসিকেও বদলি করা হয়েছে।

গুলশানের ঘটনার পর বিএনপির কয়েকজন নেতা আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতার জন্য জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেন।

বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, জামায়াতের কথিত গোপন সমঝোতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাস্তায় নামতে উৎসাহিত করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে উৎসাহিত করার জন্য জামায়াতের কিছু কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াতের নেতাদের দাবি, সরকারের কোনো অংশের ‘সবুজ সংকেত’ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের তৎপরতা চালানো সম্ভব নয়।

দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পেছনে সরকারের সমর্থন থাকতে পারে। তবে এটি জামায়াতের রাজনৈতিক অভিযোগ; এর স্বাধীন প্রমাণের বিষয়টি আলাদা।

জামায়াতের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিএনপির অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জামায়াত বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে।

এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আরেকটি ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর, মালিবাগ, মহাখালী, কেরানীগঞ্জ, বাড্ডা ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

তাদের মতে, কে কাকে মদদ দিচ্ছে এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সহিংসতা বা নাশকতার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টিও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ফলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধেরও নতুন ইস্যু হয়ে উঠেছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত