চেক পোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

সৈয়দপুরে দেড় মাস ধরে শহরের প্রধান সড়ক ড্রেনের নোংরা পানিতে সয়লাব, চরম জন ভোগান্তি

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
সৈয়দপুরে দেড় মাস ধরে শহরের প্রধান সড়ক ড্রেনের নোংরা পানিতে সয়লাব, চরম জন ভোগান্তি
নীলফামারীর সৈয়দপুর প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। এই পৌর শহরের প্রধান সড়কটি ড্রেনের নোংরা পানিতে সয়লাব হয়ে হাটু পরিমাণ ডুবে থাকে দিন রাত। প্রায় দেড় মাস ধরে শহরের প্রাণ কেন্দ্রে এমন দূরাবস্থা বিরাজ করলেও নির্বিকার প্রশাসন। ফলে ওই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। সেই সাথে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সকলকে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের স্বাধীনতা ভবন (সাবেক মুক্তিযোদ্ধা অফিস) মোড়সহ দুই পাশের প্রায় ৫০ গজ এলাকা জুড়ে ড্রেন উপচে দুর্গন্ধময় নোংরা পানি। যা সড়কের দুই তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সয়লাব করে ফেলেছে। একইসাথে থ্যাংকস ক্লথ স্টোর গলি ও শহীদ জহুরুল সড়কগামী গলিও পানিতে ডুবে গেছে। এমনকি রাস্তার অপর পাড়েও পানির উপস্থিতি। এসময় স্বাধীনতা যুদ্ধে সৈয়দপুরের প্রথম শহীদ মাহাতাব বেগের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাহউদ্দিন বেগ বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে এত বিশ্রী পরিবেশ বিরাজ করলেও পৌর কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। এলাকার ব্যবসায়ীরাসহ আমরা বার বার বলার পরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নোংরা গন্ধযুক্ত পানি মারিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও লোকজন। প্রায়ই ঘটছে অঘটন। সৈয়দপুরের সবচেয়ে বৃহৎ কাপড়ের দোকান থ্যাংকস ক্লোথ স্টোরের মালিক এনামুল হক বলেন, পঁচা পানির দুর্গন্ধে দোকানে বসে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতা আসতে পারছেনা। ফলে বেচা বিক্রি নেই। দেড় মাস ধরে চরম ভোগান্তিতে আমরা। রমজান চলে আসলো তবুও এই দুর্ভোগ লাঘবে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা পৌরসভা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কয়েকদিন পৌরসভায় গেলাম। কিন্তু পৌর প্রশাসকের দেখা মেলেনি। তাঁর অবর্তমানে অন্য কেউ কোন দায় দায়িত্বও নিচ্ছেনা। সৌখিন টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী পারভেজ আলম বলেন, এখানে দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড কোম্পানির শোরুম, অধিকাংশ টেইলারিং দোকান। পাশেই কাপড় মার্কেট। এছাড়া কয়েকটি ব্যাংকের শাখা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এটি। অথচ এখানেই গত দেড় মাস ধরে ড্রেনের পানি জমে দুঃসহ অবস্থা। গাড়িগুলো যাওয়ার সময় নোংরা পানি ছিটকে দোকানে ঢুকছে। কিন্তু দেখার যেন কেউ নাই। প্রথম শ্রেণির একটা পৌরসভার এই কি নাগরিক সেবার মান? উপস্থিত একজন অটোচালক বলেন, সৈয়দপুরের নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন মাসে মাত্র ১০ দিন পৌরসভায় এসেছেন। নাগরিক সেবা পাচ্ছেনা সৈয়দপুরবাসী। উপজেলায় গেলেও একই অবস্থা। এমনকি মোবাইলেও তাঁকে পাওয়া যায়না। এপথে যাওয়ার সময় নোংরা পানির উপর দিয়ে গাড়ি নিতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় এই দুর্গন্ধ পানি ছিটে যাত্রীসহ আমাদের গায়ে লাগছে। এব্যাপারে পৌর প্রশাসক ফারহা ফাতেহা তাকমিলার মতামত জানতে একাধিকবার মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদে গিয়েও তার দেখা পাওয়া যায়নি। ফলে তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, মূলত: পাশের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা শহীদ জহুরুল হক সড়কের ড্রেন সংষ্কার করা হচ্ছে। একারণে ওই ড্রেনটি বন্ধ করা হয়েছে। এতে ওই পানি শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের ড্রেনে পানির চাপ বেড়েছে। তাই পানি উপচে রাস্তায় এসেছে। পানি সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে কেন কাজ করছেন জানতে চাইলে তিনি নিরবতা পালন করেন।

চেক পোস্ট

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


সৈয়দপুরে দেড় মাস ধরে শহরের প্রধান সড়ক ড্রেনের নোংরা পানিতে সয়লাব, চরম জন ভোগান্তি

প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
নীলফামারীর সৈয়দপুর প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। এই পৌর শহরের প্রধান সড়কটি ড্রেনের নোংরা পানিতে সয়লাব হয়ে হাটু পরিমাণ ডুবে থাকে দিন রাত। প্রায় দেড় মাস ধরে শহরের প্রাণ কেন্দ্রে এমন দূরাবস্থা বিরাজ করলেও নির্বিকার প্রশাসন। ফলে ওই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। সেই সাথে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সকলকে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের স্বাধীনতা ভবন (সাবেক মুক্তিযোদ্ধা অফিস) মোড়সহ দুই পাশের প্রায় ৫০ গজ এলাকা জুড়ে ড্রেন উপচে দুর্গন্ধময় নোংরা পানি। যা সড়কের দুই তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সয়লাব করে ফেলেছে। একইসাথে থ্যাংকস ক্লথ স্টোর গলি ও শহীদ জহুরুল সড়কগামী গলিও পানিতে ডুবে গেছে। এমনকি রাস্তার অপর পাড়েও পানির উপস্থিতি। এসময় স্বাধীনতা যুদ্ধে সৈয়দপুরের প্রথম শহীদ মাহাতাব বেগের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাহউদ্দিন বেগ বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে এত বিশ্রী পরিবেশ বিরাজ করলেও পৌর কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। এলাকার ব্যবসায়ীরাসহ আমরা বার বার বলার পরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নোংরা গন্ধযুক্ত পানি মারিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও লোকজন। প্রায়ই ঘটছে অঘটন। সৈয়দপুরের সবচেয়ে বৃহৎ কাপড়ের দোকান থ্যাংকস ক্লোথ স্টোরের মালিক এনামুল হক বলেন, পঁচা পানির দুর্গন্ধে দোকানে বসে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতা আসতে পারছেনা। ফলে বেচা বিক্রি নেই। দেড় মাস ধরে চরম ভোগান্তিতে আমরা। রমজান চলে আসলো তবুও এই দুর্ভোগ লাঘবে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা পৌরসভা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কয়েকদিন পৌরসভায় গেলাম। কিন্তু পৌর প্রশাসকের দেখা মেলেনি। তাঁর অবর্তমানে অন্য কেউ কোন দায় দায়িত্বও নিচ্ছেনা। সৌখিন টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী পারভেজ আলম বলেন, এখানে দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড কোম্পানির শোরুম, অধিকাংশ টেইলারিং দোকান। পাশেই কাপড় মার্কেট। এছাড়া কয়েকটি ব্যাংকের শাখা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এটি। অথচ এখানেই গত দেড় মাস ধরে ড্রেনের পানি জমে দুঃসহ অবস্থা। গাড়িগুলো যাওয়ার সময় নোংরা পানি ছিটকে দোকানে ঢুকছে। কিন্তু দেখার যেন কেউ নাই। প্রথম শ্রেণির একটা পৌরসভার এই কি নাগরিক সেবার মান? উপস্থিত একজন অটোচালক বলেন, সৈয়দপুরের নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন মাসে মাত্র ১০ দিন পৌরসভায় এসেছেন। নাগরিক সেবা পাচ্ছেনা সৈয়দপুরবাসী। উপজেলায় গেলেও একই অবস্থা। এমনকি মোবাইলেও তাঁকে পাওয়া যায়না। এপথে যাওয়ার সময় নোংরা পানির উপর দিয়ে গাড়ি নিতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় এই দুর্গন্ধ পানি ছিটে যাত্রীসহ আমাদের গায়ে লাগছে। এব্যাপারে পৌর প্রশাসক ফারহা ফাতেহা তাকমিলার মতামত জানতে একাধিকবার মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদে গিয়েও তার দেখা পাওয়া যায়নি। ফলে তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, মূলত: পাশের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা শহীদ জহুরুল হক সড়কের ড্রেন সংষ্কার করা হচ্ছে। একারণে ওই ড্রেনটি বন্ধ করা হয়েছে। এতে ওই পানি শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের ড্রেনে পানির চাপ বেড়েছে। তাই পানি উপচে রাস্তায় এসেছে। পানি সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে কেন কাজ করছেন জানতে চাইলে তিনি নিরবতা পালন করেন।

চেক পোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত