সারাদেশের মতো সীমান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জ-এও তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিনের বড় একটি সময় লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ফিডার নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে, ফলে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে।
জানা গেছে, জেলায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৫৩ হাজার। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক প্রায় ৪ লাখ এবং পিডিবির আওতায় শহর ও দিরাই জোনে প্রায় ৫৩ হাজার গ্রাহক রয়েছে।
ইকবালনগর গ্রীড থেকে পিডিবির দুটি এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১০টি উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সেখান থেকে ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়।
পিডিবি সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ শহরের প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াট। ফলে দিনের অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
দিরাই জোনেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে প্রায় ১৯ হাজার গ্রাহকের জন্য দৈনিক ৬ থেকে ৬.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২ থেকে ২.৫ মেগাওয়াট।
অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪ লাখ গ্রাহকের জন্য দিনে ৩৫ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১৯ মেগাওয়াট। রাতে ৫৫ থেকে ৬৫ মেগাওয়াটের স্থলে অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
এতে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পখাতসহ সব শ্রেণির গ্রাহক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। উৎপাদন ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানগুলো কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজারের ব্যবসায়ী বিশ্বজিত রায় বলেন, বিদ্যুতের অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। দিনে ৪-৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা বাবুল মিয়া জানান, জ্বালানি নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়, তার ওপর বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্পও বন্ধ থাকে, ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
দিরাই পৌর এলাকার বাসিন্দা জিয়াউর রহমান লিটন বলেন, শহর এলাকায়ও দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, এতে গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ বলে ধারণা করা যায়।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মিলন কুমার কুন্ডু জানান, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, ফলে সব গ্রাহককে সমানভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল আহমদ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় গত কয়েক দিন ধরে গ্রাহকদের স্বাভাবিক সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী ফিডার নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই সংকট কবে নাগাদ কাটবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
সারাদেশের মতো সীমান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জ-এও তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিনের বড় একটি সময় লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ফিডার নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে, ফলে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে।
জানা গেছে, জেলায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৫৩ হাজার। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক প্রায় ৪ লাখ এবং পিডিবির আওতায় শহর ও দিরাই জোনে প্রায় ৫৩ হাজার গ্রাহক রয়েছে।
ইকবালনগর গ্রীড থেকে পিডিবির দুটি এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১০টি উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সেখান থেকে ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়।
পিডিবি সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ শহরের প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াট। ফলে দিনের অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
দিরাই জোনেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে প্রায় ১৯ হাজার গ্রাহকের জন্য দৈনিক ৬ থেকে ৬.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২ থেকে ২.৫ মেগাওয়াট।
অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪ লাখ গ্রাহকের জন্য দিনে ৩৫ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১৯ মেগাওয়াট। রাতে ৫৫ থেকে ৬৫ মেগাওয়াটের স্থলে অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
এতে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পখাতসহ সব শ্রেণির গ্রাহক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। উৎপাদন ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানগুলো কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজারের ব্যবসায়ী বিশ্বজিত রায় বলেন, বিদ্যুতের অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। দিনে ৪-৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা বাবুল মিয়া জানান, জ্বালানি নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়, তার ওপর বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্পও বন্ধ থাকে, ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
দিরাই পৌর এলাকার বাসিন্দা জিয়াউর রহমান লিটন বলেন, শহর এলাকায়ও দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, এতে গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ বলে ধারণা করা যায়।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মিলন কুমার কুন্ডু জানান, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, ফলে সব গ্রাহককে সমানভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল আহমদ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় গত কয়েক দিন ধরে গ্রাহকদের স্বাভাবিক সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী ফিডার নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই সংকট কবে নাগাদ কাটবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
