বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

আর্কাইভ

রামপালে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ আলী স্ট্যান্ড রিলিজ

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
রামপালে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ আলী স্ট্যান্ড রিলিজ

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা-এ আলোচিত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ আলীকে দুর্নীতি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ (সংযুক্তি প্রত্যাহার) করে বদলি করা হয়েছে। তাকে কোটচাঁদপুর উপজেলা-এ পদায়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি স্বেচ্ছাচারিতা, ঘুষ বাণিজ্য এবং বিভিন্ন খাতে অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় অস্থিরতা সৃষ্টি করেন। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় শিক্ষকরা জানান, উপজেলার ১২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশেই শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকদের অন্তঃকোন্দল শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শিক্ষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, শোকজ নোটিশ দিয়ে পরে অর্থের বিনিময়ে তা নিষ্পত্তি এবং নানা উপায়ে আর্থিক সুবিধা আদায় করতেন।

সরকারি স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) খাত থেকেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট ও আয়কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, অভিযোগ অনুযায়ী অতিরিক্ত ২০ শতাংশ হারে টাকা আদায় করে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকার অনিয়ম করা হয়েছে।

এছাড়াও প্রাক-প্রাথমিক পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বদলি বাণিজ্য এবং বিভিন্ন দিবসের নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষকদের একটি অংশ দাবি করেন, রামপাল সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।

রামপাল উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধের কারণে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মো. ফরহাদ আলী বলেন, তিনি দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেছেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে চেষ্টা করেছেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, একটি বেনামি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


রামপালে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ আলী স্ট্যান্ড রিলিজ

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা-এ আলোচিত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ আলীকে দুর্নীতি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ (সংযুক্তি প্রত্যাহার) করে বদলি করা হয়েছে। তাকে কোটচাঁদপুর উপজেলা-এ পদায়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি স্বেচ্ছাচারিতা, ঘুষ বাণিজ্য এবং বিভিন্ন খাতে অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় অস্থিরতা সৃষ্টি করেন। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় শিক্ষকরা জানান, উপজেলার ১২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশেই শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকদের অন্তঃকোন্দল শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শিক্ষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, শোকজ নোটিশ দিয়ে পরে অর্থের বিনিময়ে তা নিষ্পত্তি এবং নানা উপায়ে আর্থিক সুবিধা আদায় করতেন।

সরকারি স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) খাত থেকেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট ও আয়কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, অভিযোগ অনুযায়ী অতিরিক্ত ২০ শতাংশ হারে টাকা আদায় করে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকার অনিয়ম করা হয়েছে।

এছাড়াও প্রাক-প্রাথমিক পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বদলি বাণিজ্য এবং বিভিন্ন দিবসের নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষকদের একটি অংশ দাবি করেন, রামপাল সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।

রামপাল উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধের কারণে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মো. ফরহাদ আলী বলেন, তিনি দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেছেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে চেষ্টা করেছেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, একটি বেনামি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত