চেক পোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

রাজশাহী শহরের সমস্ত বর্জ্য যায় পদ্মা নদীতে

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
রাজশাহী শহরের সমস্ত বর্জ্য যায় পদ্মা নদীতে
পদ্মায় একসময় ছিল স্বচ্ছ পানির ধারা। এখন পানি আলকাতরার মতো কালো। রাজশাহী নগরীর বর্জ্য যাচ্ছে নদীতে। এটি ছাড়াও স্বরমঙ্গলা, বারাহী, নবগঙ্গা, বারনই ও হোজা নদী এবং এগুলোর সংলগ্ন অন্তত ছয়টি বিল দূষিত হচ্ছে নগরীর অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে। হাসপাতাল এবং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যও যাচ্ছে নদীতে। এই পানি ব্যবহার করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের শরীরে দেখা দিচ্ছে চর্মরোগ। দূষিত পানি কৃষি জমিতে ছড়িয়ে পড়ায় খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। পদ্মা ছাড়া অন্য পাঁচটি নদী ধীরে ধীরে বর্জ্যবাহী নালায় পরিণত হয়েছে। রাজশাহী নগরী ও আশপাশ দিয়ে বয়ে গেছে এগুলো। বারাহী নদী পদ্মা থেকে উৎপন্ন হয়ে শহরের ভেতর দিয়ে বায়া বাজার হয়ে বারনই নদীতে মিশেছে। একইভাবে স্বরমঙ্গলা ও নবগঙ্গা নদীর সব বিষাক্ত বর্জ্য শেষ পর্যন্ত পবা উপজেলার বায়া এলাকায় বারনই নদীতে গিয়ে পড়ছে। নদীর মোহনায় গিয়ে দেখা যায়, কুচকুচে কালো পানির ওপর ভাসছে প্লাস্টিক, পলিথিন আর কেমিক্যাল মিশ্রিত ফেনা। স্থানীয়দের দাবি, এই দূষণ নাটোরের চলনবিল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। পদ্মা থেকে নিউমার্কেটের কাছ দিয়ে বারাহী নদী বয়ে গেছে। নদীটি নগরীর মুন্নুজান স্কুলের পাশ দিয়ে পদ্মা থেকে উৎপন্ন হয়ে সিটি ভবনের পশ্চিম পাশ দিয়ে রেলভবন, পলিটেকনিক, বিজিবি ক্যাম্প হয়ে বায়াবাজার দিয়ে বারনই নদীর সঙ্গে মিলেছে। বারাহী নদীতে এক সময় পালতোলা নৌকা চলত। জেলেরা মাঝ ধরত। নদীটি এখন মৃত। সিটি করপোরেশনের সব বর্জ্য পানি ও মেডিকেল বর্জ্য এই মৃত নদীতে সরু খালের মতো প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে বারনই নদীতে। এলজিইডি ২০২৩ সালে নদীটির নাম পাকুরিয়া খাল হিসেবে উল্লেখ করে বায়া আফি নেপালপাড়ায় ২৪ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু করেছে। এই সেতুর নিচে মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায় শহরের কালো বর্জ্য পানি প্রবাহিত হয়ে মিশে যাচ্ছে বারনই নদীতে। বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত পানিতে সাদা ফেনা বয়ে যাচ্ছে। পানি থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। এই নদী প্রসঙ্গে গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ‘এক পয়সা দিয়ে বারাহী নদী পার হয়ে স্কুলে যেতাম। নদীটি এখন শহরের বর্জ্য বয়ে যাওয়ার ড্রেন।’

চেক পোস্ট

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


রাজশাহী শহরের সমস্ত বর্জ্য যায় পদ্মা নদীতে

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬

featured Image
পদ্মায় একসময় ছিল স্বচ্ছ পানির ধারা। এখন পানি আলকাতরার মতো কালো। রাজশাহী নগরীর বর্জ্য যাচ্ছে নদীতে। এটি ছাড়াও স্বরমঙ্গলা, বারাহী, নবগঙ্গা, বারনই ও হোজা নদী এবং এগুলোর সংলগ্ন অন্তত ছয়টি বিল দূষিত হচ্ছে নগরীর অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে। হাসপাতাল এবং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যও যাচ্ছে নদীতে। এই পানি ব্যবহার করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের শরীরে দেখা দিচ্ছে চর্মরোগ। দূষিত পানি কৃষি জমিতে ছড়িয়ে পড়ায় খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। পদ্মা ছাড়া অন্য পাঁচটি নদী ধীরে ধীরে বর্জ্যবাহী নালায় পরিণত হয়েছে। রাজশাহী নগরী ও আশপাশ দিয়ে বয়ে গেছে এগুলো। বারাহী নদী পদ্মা থেকে উৎপন্ন হয়ে শহরের ভেতর দিয়ে বায়া বাজার হয়ে বারনই নদীতে মিশেছে। একইভাবে স্বরমঙ্গলা ও নবগঙ্গা নদীর সব বিষাক্ত বর্জ্য শেষ পর্যন্ত পবা উপজেলার বায়া এলাকায় বারনই নদীতে গিয়ে পড়ছে। নদীর মোহনায় গিয়ে দেখা যায়, কুচকুচে কালো পানির ওপর ভাসছে প্লাস্টিক, পলিথিন আর কেমিক্যাল মিশ্রিত ফেনা। স্থানীয়দের দাবি, এই দূষণ নাটোরের চলনবিল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। পদ্মা থেকে নিউমার্কেটের কাছ দিয়ে বারাহী নদী বয়ে গেছে। নদীটি নগরীর মুন্নুজান স্কুলের পাশ দিয়ে পদ্মা থেকে উৎপন্ন হয়ে সিটি ভবনের পশ্চিম পাশ দিয়ে রেলভবন, পলিটেকনিক, বিজিবি ক্যাম্প হয়ে বায়াবাজার দিয়ে বারনই নদীর সঙ্গে মিলেছে। বারাহী নদীতে এক সময় পালতোলা নৌকা চলত। জেলেরা মাঝ ধরত। নদীটি এখন মৃত। সিটি করপোরেশনের সব বর্জ্য পানি ও মেডিকেল বর্জ্য এই মৃত নদীতে সরু খালের মতো প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে বারনই নদীতে। এলজিইডি ২০২৩ সালে নদীটির নাম পাকুরিয়া খাল হিসেবে উল্লেখ করে বায়া আফি নেপালপাড়ায় ২৪ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু করেছে। এই সেতুর নিচে মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায় শহরের কালো বর্জ্য পানি প্রবাহিত হয়ে মিশে যাচ্ছে বারনই নদীতে। বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত পানিতে সাদা ফেনা বয়ে যাচ্ছে। পানি থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। এই নদী প্রসঙ্গে গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ‘এক পয়সা দিয়ে বারাহী নদী পার হয়ে স্কুলে যেতাম। নদীটি এখন শহরের বর্জ্য বয়ে যাওয়ার ড্রেন।’

চেক পোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত