মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬১৯
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
মার্চ মাসে সারা দেশে ৬১৬ সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ নিহত ও ১ হাজার ৫৪৮ জন আহত হয়েছেন। এই মাসে রেলপথে ৪৫ দুর্ঘটনায় ৫৪ নিহত, ২২৯ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৯ দুর্ঘটনায় ৯ নিহত, ১৯ আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৬৭০ দুর্ঘটনায় ৬৮২ নিহত এবং ১ হাজার ৭৯৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো মার্চ মাসের দুর্ঘটনা প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সংবাদপত্রে স্থান না পাওয়ায় তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৬০ দুর্ঘটনায় ১৭০ নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে ৩০ দুর্ঘটনায় ২৭ নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন।
সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৯ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৫৭ চালক, ৯০ পথচারী, ১৭ পরিবহন শ্রমিক, ৬৮ শিক্ষার্থী, ১৫ শিক্ষক, ৭৮ নারী, ৮৬ শিশু, ৩ চিকিৎসক, ৪ সাংবাদিক, এক বীর মুক্তিযোদ্ধা, এক আইনজীবী, ৩ প্রকৌশলী এবং ১৩ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— ৫ পুলিশ সদস্য, এক আনসার সদস্য, এক বিজিবি সদস্য, এক ফায়ার সার্ভিস সদস্য, এক চিকিৎসক, এক বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৫০ বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৮৪ পথচারী, ৭৪ নারী, ৮২ শিশু, ৬৭ শিক্ষার্থী, ১২ পরিবহন শ্রমিক, ১৪ শিক্ষক, এক আইনজীবী, ৩ প্রকৌশলী ও ৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল; জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং এবং সড়কবাতির অভাব; রেলক্রসিংয়ে হঠাৎ বাস উঠে আসা; সড়কের মিডিয়ানে ডিভাইডার না থাকা; অন্ধবাঁকে গাছপালার কারণে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা; মহাসড়কের নির্মাণত্রুটি; যানবাহনের বিভিন্ন ত্রুটি; ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা; উল্টো পথে যান চলাচল; সড়কে চাঁদাবাজি; পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন; অদক্ষ চালক; ফিটনেসবিহীন যানবাহন; অতিরিক্ত যাত্রী বহন; বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং চালকদের অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানো।
এ ছাড়া ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের কারণে বাসের ছাদে, খোলা ট্রাক ও পিকআপে, ট্রেনের ছাদে এবং বাসের ইঞ্জিন বনেটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতকেও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ভাড়া আদায়ে স্মার্ট পদ্ধতি চালু করা; মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ করা; জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা; দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে যানবাহনের ফিটনেস প্রদান; বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলের সরকার নির্ধারিত ৬০ ঘণ্টার ইনক্লুসিভ প্রশিক্ষণ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা।
এ ছাড়া পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, রোড সাইন ও মার্কিং স্থাপন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত, নিয়মিত রোড সেফটি অডিট পরিচালনা এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট চালুর কথাও বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঈদযাত্রায় বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানোও জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত