চেক পোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

ভেলা ভাসানি উৎসব: দোহার-নবাবগঞ্জে ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির মিলনমেলা

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
ভেলা ভাসানি উৎসব: দোহার-নবাবগঞ্জে ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির মিলনমেলা

বাংলার লোকসংস্কৃতির ইতিহাসে অন্যতম একটি প্রাণবন্ত উৎসব হলো ‘ভেলা ভাসানি’। প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ বৃহস্পতিবার ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানিগঞ্জসহ আশপাশের গ্রামীণ জনপদে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। শুধু উৎসব নয়, এটি গ্রামীণ ঐক্য, বিশ্বাস ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন।

ভেলা সাধারণত সাত বা পাঁচটি কলাগাছের টুকরা জোড়া দিয়ে বানানো হয়। এরপর বাঁশ, রঙিন কাগজ ও কাপড় দিয়ে ছোট একটি ঘরের মতো কাঠামো তৈরি করা হয়। ভেলাটিকে সাজানো হয় মোমবাতি, আগরবাতি, ফল আর শিন্নি (মিষ্টি প্রসাদ) দিয়ে।

উৎসবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই তাদের ইচ্ছা পূরণের আশায় মানত করে। কেউ মুরগি, কেউ শিন্নি বা ফল, আবার কেউ টাকা-পয়সা নিয়ে আসে। এর একটি অংশ ভেলায় উৎসর্গ করা হয়। বাকি অংশ সবার মধ্যে প্রসাদ হিসেবে ভাগ করে দেওয়া হয়।

দিনভর চলে আধ্যাত্মিক গানের আসর। ঢোলক, একতারা, দোতারা আর সারিন্দার সুরে মুখরিত থাকে আশপাশের গ্রাম। একইসঙ্গে বসে গ্রামীণ মেলা, যেখানে মানুষের মিলনমেলায় উৎসব মুখর হয়ে ওঠে।

দিন শেষে কিংবা ভোর রাতে সাজানো ভেলাটি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রথা বংশপরম্পরায় চলে আসছে। যেমন দোহারের জামালচর গ্রামের পলাশ ফকির জানান, তাঁর দাদা সুরত খাঁ ও বাবা ফুলচান ফকির এই আয়োজন করতেন, আর তিনিও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা এই ভেলা ভাসানি আজও গ্রামীণ জীবনে সজীব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে এটি হয়ে উঠেছে সত্যিকারের সম্প্রীতির উৎসব।

চেক পোস্ট

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


ভেলা ভাসানি উৎসব: দোহার-নবাবগঞ্জে ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির মিলনমেলা

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image

বাংলার লোকসংস্কৃতির ইতিহাসে অন্যতম একটি প্রাণবন্ত উৎসব হলো ‘ভেলা ভাসানি’। প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ বৃহস্পতিবার ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানিগঞ্জসহ আশপাশের গ্রামীণ জনপদে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। শুধু উৎসব নয়, এটি গ্রামীণ ঐক্য, বিশ্বাস ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন।

ভেলা সাধারণত সাত বা পাঁচটি কলাগাছের টুকরা জোড়া দিয়ে বানানো হয়। এরপর বাঁশ, রঙিন কাগজ ও কাপড় দিয়ে ছোট একটি ঘরের মতো কাঠামো তৈরি করা হয়। ভেলাটিকে সাজানো হয় মোমবাতি, আগরবাতি, ফল আর শিন্নি (মিষ্টি প্রসাদ) দিয়ে।

উৎসবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই তাদের ইচ্ছা পূরণের আশায় মানত করে। কেউ মুরগি, কেউ শিন্নি বা ফল, আবার কেউ টাকা-পয়সা নিয়ে আসে। এর একটি অংশ ভেলায় উৎসর্গ করা হয়। বাকি অংশ সবার মধ্যে প্রসাদ হিসেবে ভাগ করে দেওয়া হয়।

দিনভর চলে আধ্যাত্মিক গানের আসর। ঢোলক, একতারা, দোতারা আর সারিন্দার সুরে মুখরিত থাকে আশপাশের গ্রাম। একইসঙ্গে বসে গ্রামীণ মেলা, যেখানে মানুষের মিলনমেলায় উৎসব মুখর হয়ে ওঠে।

দিন শেষে কিংবা ভোর রাতে সাজানো ভেলাটি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রথা বংশপরম্পরায় চলে আসছে। যেমন দোহারের জামালচর গ্রামের পলাশ ফকির জানান, তাঁর দাদা সুরত খাঁ ও বাবা ফুলচান ফকির এই আয়োজন করতেন, আর তিনিও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা এই ভেলা ভাসানি আজও গ্রামীণ জীবনে সজীব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে এটি হয়ে উঠেছে সত্যিকারের সম্প্রীতির উৎসব।


চেক পোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত