চেক পোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

বিভাগের সবচেয়ে বেশি আসনে জয় তারপরও মন্ত্রী শুন্য খুলনা, হতাশ দলীয় নেতাকর্মী ও নাগরিক সমাজ

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
বিভাগের সবচেয়ে বেশি আসনে জয় তারপরও মন্ত্রী শুন্য খুলনা, হতাশ দলীয় নেতাকর্মী ও নাগরিক সমাজ
খুলনা বিভাগীয় ৩৬ আসনে মাত্র ১১ টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি এরমধ্যে চারটি আসনই খুলনা জেলার সবচেয়ে বেশি আসনে জয় উপহার দেওয়ায় তারেক রহমানের মন্ত্রী সভায় খুলনার নেতাদের আশা করেছিলেন দলের নেতাকর্মী ও নাগরিক সমাজ। কিন্তু শপথ অনুষ্ঠান শেষে হতাশ হতে হয়েছে তাদের। অতীতের মতো বিএনপির বর্তমান সরকারেও মন্ত্রী হননি খুলনা জেলার কেউ। পুরাতন নথি ঘেটে দেখাগেছে,, নব্বই পরবর্তী বিএনপির তিনটি সরকারে খুলনা থেকে কেউ মন্ত্রী হননি। অথচ আওয়ামীলীগের ৫ টি সরকারের মন্ত্রী সভার প্রতিটিতেই খুলনা থেকে পুর্ন মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। নতুন মন্ত্রী সভায় খুলনা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে দীর্ঘ বঞ্চনার অবসানের দাবি ছিল নাগরিক নেতা ও দলটির কর্মীদের। সে আশা পুরন হয়নি। গত ১২ ফেব্রুযারি নির্বাচনে খুলনা বিভাগে ৬ টি জেলার সবগুলো আসনে জয় পেয়েছে জামায়াত। বড় জেলা যশোরের ৬ টি আসনের ৫ টিতেই হয়েছে বিএনপি। বাগেরহাটের ৪ টির মধ্যে তিনটিতেই জয় পায় জামায়াত। ব্যাতিক্রম শুধু খুলনা। এখানকার ৬ টি আসনের মধ্যে ৪ টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি প্রার্থীরা। এজন্য মন্ত্রী সভায় খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে খুলনা জেলা থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি উঠেছিল। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, আঞ্চলিক নেতারা মন্ত্রী হলে এলাকার উন্নয়ন তরাম্বিত হয়। সেই আশা থেকেই বিভাগীয় সদর হিসেবে খুলনায় মন্ত্রী আশা করেছিলাম। কিন্তু হতাশ হতে হয়েছে। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, খুলনার মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সন্মানিত করেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উচিত ছিল খুলনা থেকে মন্ত্রী সভায় একাধিক সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে এই সন্মানের প্রতিদান দেওয়া। খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো করায় আমরা সিনিয়র নেতাদের মধ্যে রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল অথবা আলী আজগর লবীর মধ্যে থেকে একজনকে মন্ত্রী দেখতে চেয়েছিলাম। তবে পার্টির চেয়ারম্যান সহ সিনিয়র নেতারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,সেটা আমাদের জন্য মঙ্গল জনক ধরে নিচ্ছি। এদিকে খুলনা জেলার সাধারণ মানুষ অনেকটা হতাশা নিয়ে বলেছে, খুলনা বিভাগের ৩৬ টি আসনে মধ্যে অধিকাংশ আসনে বিএনপি জয়লাভ করতে পারেনি কিন্তু খুলনা জেলার ৬ টি আসন থেকে বিএনপির চেয়ারম্যানকে ৪ টি আসন উপহার স্বরুপ দেওয়া হয়েছে। আর একারনে খুলনা জেলার মানুষের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি দাবিটাও ছিল বেশি। শিল্পাঞ্চলকে পুনরুজ্জীবিত সহ খুলনার সার্বিক উন্নয়নে রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল কিংবা আলী আজগর লবীদের মধ্যে থেকে একজনকে মন্ত্রী সভায় স্থান করে দেওয়া ছিল অধিকাংশ খুলনাবাসীর প্রানের দাবি। অতচ খুলনাবাসী বলছে, খুলনা বিভাগে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়েছে যেসব জেলায় বিএনপির অধিকাংশ প্রার্থীরা হেরেছেন জামায়াত প্রার্থীদের কাছে। এরমধ্যে ঝিনাইদহ- ১ থেকে মো: আসাদুজ্জামানকে আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মাগুরা - ২ থেকে নিতাই রায় চৌধুরীকে সাংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যশোর- ৩ থেকে অনিন্দ ইসলাম অমিতকে বিদ্যুৎ জালানী প্রতিমন্ত্রী, বাগেরহাট - ৩ থেকে শেখ ফরিদুল ইসলামকে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। অতচ ওই জেলাগুলো থেকে বিএনপির প্রার্থীরা বেশি জয়লাভ না করলেও তারা তারেক রহমানের মন্ত্রী সভায় পুর্নমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। আর একারনেই খুলনা জেলার সাধারণ মানুষেরা অনেকটা হতাশ। এরপরও খুলনাবাসীর নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশা আগামীদিনে খুলনাবাসীর উন্নয়নে বিবেচনা করবেন।

চেক পোস্ট

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


বিভাগের সবচেয়ে বেশি আসনে জয় তারপরও মন্ত্রী শুন্য খুলনা, হতাশ দলীয় নেতাকর্মী ও নাগরিক সমাজ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
খুলনা বিভাগীয় ৩৬ আসনে মাত্র ১১ টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি এরমধ্যে চারটি আসনই খুলনা জেলার সবচেয়ে বেশি আসনে জয় উপহার দেওয়ায় তারেক রহমানের মন্ত্রী সভায় খুলনার নেতাদের আশা করেছিলেন দলের নেতাকর্মী ও নাগরিক সমাজ। কিন্তু শপথ অনুষ্ঠান শেষে হতাশ হতে হয়েছে তাদের। অতীতের মতো বিএনপির বর্তমান সরকারেও মন্ত্রী হননি খুলনা জেলার কেউ। পুরাতন নথি ঘেটে দেখাগেছে,, নব্বই পরবর্তী বিএনপির তিনটি সরকারে খুলনা থেকে কেউ মন্ত্রী হননি। অথচ আওয়ামীলীগের ৫ টি সরকারের মন্ত্রী সভার প্রতিটিতেই খুলনা থেকে পুর্ন মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। নতুন মন্ত্রী সভায় খুলনা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে দীর্ঘ বঞ্চনার অবসানের দাবি ছিল নাগরিক নেতা ও দলটির কর্মীদের। সে আশা পুরন হয়নি। গত ১২ ফেব্রুযারি নির্বাচনে খুলনা বিভাগে ৬ টি জেলার সবগুলো আসনে জয় পেয়েছে জামায়াত। বড় জেলা যশোরের ৬ টি আসনের ৫ টিতেই হয়েছে বিএনপি। বাগেরহাটের ৪ টির মধ্যে তিনটিতেই জয় পায় জামায়াত। ব্যাতিক্রম শুধু খুলনা। এখানকার ৬ টি আসনের মধ্যে ৪ টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি প্রার্থীরা। এজন্য মন্ত্রী সভায় খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে খুলনা জেলা থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি উঠেছিল। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, আঞ্চলিক নেতারা মন্ত্রী হলে এলাকার উন্নয়ন তরাম্বিত হয়। সেই আশা থেকেই বিভাগীয় সদর হিসেবে খুলনায় মন্ত্রী আশা করেছিলাম। কিন্তু হতাশ হতে হয়েছে। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, খুলনার মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সন্মানিত করেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উচিত ছিল খুলনা থেকে মন্ত্রী সভায় একাধিক সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে এই সন্মানের প্রতিদান দেওয়া। খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো করায় আমরা সিনিয়র নেতাদের মধ্যে রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল অথবা আলী আজগর লবীর মধ্যে থেকে একজনকে মন্ত্রী দেখতে চেয়েছিলাম। তবে পার্টির চেয়ারম্যান সহ সিনিয়র নেতারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,সেটা আমাদের জন্য মঙ্গল জনক ধরে নিচ্ছি। এদিকে খুলনা জেলার সাধারণ মানুষ অনেকটা হতাশা নিয়ে বলেছে, খুলনা বিভাগের ৩৬ টি আসনে মধ্যে অধিকাংশ আসনে বিএনপি জয়লাভ করতে পারেনি কিন্তু খুলনা জেলার ৬ টি আসন থেকে বিএনপির চেয়ারম্যানকে ৪ টি আসন উপহার স্বরুপ দেওয়া হয়েছে। আর একারনে খুলনা জেলার মানুষের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি দাবিটাও ছিল বেশি। শিল্পাঞ্চলকে পুনরুজ্জীবিত সহ খুলনার সার্বিক উন্নয়নে রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল কিংবা আলী আজগর লবীদের মধ্যে থেকে একজনকে মন্ত্রী সভায় স্থান করে দেওয়া ছিল অধিকাংশ খুলনাবাসীর প্রানের দাবি। অতচ খুলনাবাসী বলছে, খুলনা বিভাগে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়েছে যেসব জেলায় বিএনপির অধিকাংশ প্রার্থীরা হেরেছেন জামায়াত প্রার্থীদের কাছে। এরমধ্যে ঝিনাইদহ- ১ থেকে মো: আসাদুজ্জামানকে আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মাগুরা - ২ থেকে নিতাই রায় চৌধুরীকে সাংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যশোর- ৩ থেকে অনিন্দ ইসলাম অমিতকে বিদ্যুৎ জালানী প্রতিমন্ত্রী, বাগেরহাট - ৩ থেকে শেখ ফরিদুল ইসলামকে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। অতচ ওই জেলাগুলো থেকে বিএনপির প্রার্থীরা বেশি জয়লাভ না করলেও তারা তারেক রহমানের মন্ত্রী সভায় পুর্নমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। আর একারনেই খুলনা জেলার সাধারণ মানুষেরা অনেকটা হতাশ। এরপরও খুলনাবাসীর নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশা আগামীদিনে খুলনাবাসীর উন্নয়নে বিবেচনা করবেন।

চেক পোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত