চেক পোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

তিনি সব নির্বাচনে অংশ নিলেও জয়ী একটিতেও হননি, তবু থামেননি প্রচারনা

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
তিনি সব নির্বাচনে অংশ নিলেও জয়ী একটিতেও হননি, তবু থামেননি প্রচারনা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে গাইবান্ধা-৩ আসনের নির্বাচনী মাঠ এখন সরগরম। বড় দলগুলোর প্রার্থীরা বিশাল কর্মীবাহিনী, গাড়ির বহর আর উচ্চবাজেটের প্রচারণায় ব্যস্ত। ঠিক সেই সময়েই ভিন্ন এক দৃশ্য কৌতূহল জাগাচ্ছে ভোটারদের মনে। একটি পুরনো বাইসাইকেল, কাঁধে ঝোলানো একটি হ্যান্ডমাইক, এই সামান্য সম্বল নিয়েই গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছুটে চলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজিজার রহমান (বিএসসি)। পেশায় তিনি সাদুল্লাপুর উপজেলার দড়ি জামালপুর রোকেয়া সামাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বাড়ি ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোদা বকস গ্রামে। ব্যক্তিগত জীবনের মতো তার রাজনৈতিক প্রচারণাও অত্যন্ত সাদামাটা ও নিরাভরণ। নেই কোনো মোটরসাইকেল, জীপ কিংবা প্রচারণার গাড়ি। নেই বেতনভুক্ত প্রচারকর্মীর দল। আছে বহু বছরের পুরনো একটি বাইসাইকেল এবং নির্বাচনের জন্য কেনা একটি হ্যান্ডমাইক। প্রতিদিন ভোরে কাঁধে হ্যান্ডমাইক বেঁধে বাইসাইকেলে চড়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। হাট-বাজার, গ্রামের মোড়, মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে একাই করেন ছোট ছোট সভা, মতবিনিময় করেন ভোটারদের সঙ্গে। ইতোমধ্যে তিনি এভাবে শতাধিক স্থানে গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন বলে জানা গেছে। আজিজার রহমানের নির্বাচনী লড়াই এবারই প্রথম নয়। এর আগে তিনি উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদ এবং সংসদ উপ-নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। কখনো জয়ী হতে না পারলেও জনসেবার আগ্রহ থেকেই বারবার নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। এবারও একই প্রত্যয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছেন তিনি। প্রচারণায় তিনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, এবং সরাসরি জনসম্পৃক্ততার অঙ্গীকার তুলে ধরছেন। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি ও আত্মিক যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত। তার এই ব্যতিক্রমী প্রচারণা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার অধ্যবসায়কে ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য’ এবং ‘সত্যিকারের জনসংযোগ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। আজিজার রহমান বলেন, “আমার কাছে বড় কোনো বাহন বা টিম নেই। কিন্তু মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার এই প্রচেষ্টায় আমি তাদের আন্তরিক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়নের কাজ করতে চাই।” এ আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রায় ৫ লক্ষ ৬ হাজার ভোটারের এই আসনে প্রচারণার শেষ সময়ে বড় দলের প্রার্থীরা যখন সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন, তখন আজিজার রহমানের এই নিঃসঙ্গ কিন্তু দৃঢ় প্রচেষ্টা স্থানীয়দের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি জয়ী হোন বা না হোন, তার এই সাইকেলচালিত প্রচারণা ইতোমধ্যেই একটি বড় বার্তা দিয়েছে। রাজনীতির জাঁকজমক ও বাণিজ্যিকীকরণের সময়ে তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন, মানুষের কাছে পৌঁছাতে বড় বাজেট নয়, দরকার সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা। তার এই প্রচারণা শুধু ভোটের লড়াই নয়, এ যেন এক প্রতীকী প্রতিবাদ, এক নীরব বিপ্লব, যা গণতন্ত্রের প্রাণস্পন্দনকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।

চেক পোস্ট

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


তিনি সব নির্বাচনে অংশ নিলেও জয়ী একটিতেও হননি, তবু থামেননি প্রচারনা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে গাইবান্ধা-৩ আসনের নির্বাচনী মাঠ এখন সরগরম। বড় দলগুলোর প্রার্থীরা বিশাল কর্মীবাহিনী, গাড়ির বহর আর উচ্চবাজেটের প্রচারণায় ব্যস্ত। ঠিক সেই সময়েই ভিন্ন এক দৃশ্য কৌতূহল জাগাচ্ছে ভোটারদের মনে। একটি পুরনো বাইসাইকেল, কাঁধে ঝোলানো একটি হ্যান্ডমাইক, এই সামান্য সম্বল নিয়েই গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছুটে চলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজিজার রহমান (বিএসসি)। পেশায় তিনি সাদুল্লাপুর উপজেলার দড়ি জামালপুর রোকেয়া সামাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বাড়ি ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোদা বকস গ্রামে। ব্যক্তিগত জীবনের মতো তার রাজনৈতিক প্রচারণাও অত্যন্ত সাদামাটা ও নিরাভরণ। নেই কোনো মোটরসাইকেল, জীপ কিংবা প্রচারণার গাড়ি। নেই বেতনভুক্ত প্রচারকর্মীর দল। আছে বহু বছরের পুরনো একটি বাইসাইকেল এবং নির্বাচনের জন্য কেনা একটি হ্যান্ডমাইক। প্রতিদিন ভোরে কাঁধে হ্যান্ডমাইক বেঁধে বাইসাইকেলে চড়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। হাট-বাজার, গ্রামের মোড়, মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে একাই করেন ছোট ছোট সভা, মতবিনিময় করেন ভোটারদের সঙ্গে। ইতোমধ্যে তিনি এভাবে শতাধিক স্থানে গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন বলে জানা গেছে। আজিজার রহমানের নির্বাচনী লড়াই এবারই প্রথম নয়। এর আগে তিনি উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদ এবং সংসদ উপ-নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। কখনো জয়ী হতে না পারলেও জনসেবার আগ্রহ থেকেই বারবার নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। এবারও একই প্রত্যয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছেন তিনি। প্রচারণায় তিনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, এবং সরাসরি জনসম্পৃক্ততার অঙ্গীকার তুলে ধরছেন। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি ও আত্মিক যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত। তার এই ব্যতিক্রমী প্রচারণা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার অধ্যবসায়কে ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য’ এবং ‘সত্যিকারের জনসংযোগ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। আজিজার রহমান বলেন, “আমার কাছে বড় কোনো বাহন বা টিম নেই। কিন্তু মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার এই প্রচেষ্টায় আমি তাদের আন্তরিক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়নের কাজ করতে চাই।” এ আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রায় ৫ লক্ষ ৬ হাজার ভোটারের এই আসনে প্রচারণার শেষ সময়ে বড় দলের প্রার্থীরা যখন সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন, তখন আজিজার রহমানের এই নিঃসঙ্গ কিন্তু দৃঢ় প্রচেষ্টা স্থানীয়দের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি জয়ী হোন বা না হোন, তার এই সাইকেলচালিত প্রচারণা ইতোমধ্যেই একটি বড় বার্তা দিয়েছে। রাজনীতির জাঁকজমক ও বাণিজ্যিকীকরণের সময়ে তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন, মানুষের কাছে পৌঁছাতে বড় বাজেট নয়, দরকার সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা। তার এই প্রচারণা শুধু ভোটের লড়াই নয়, এ যেন এক প্রতীকী প্রতিবাদ, এক নীরব বিপ্লব, যা গণতন্ত্রের প্রাণস্পন্দনকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।

চেক পোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত