গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ৪ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্ত সবুজ ফারাজি গণধোলাইয়ের শিকার, কারাগারে
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খোদ্দকোমরপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দকোমরপুর গ্রামে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে ৪ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত যুবক সবুজ ফারাজি (মহসিন আলী ফরাজির পুত্র) গতকাল বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশুটি বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, সবুজ ফারাজি পাশের বাড়ির ৪ বছরের শিশু মেয়েকে মিষ্টি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে সে শিশুটির ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার পর অভিযুক্ত সবুজ ফারাজি পালিয়ে যায়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে শিশুর পরিবার ও স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তারা অভিযুক্তকে খুঁজতে থাকে এবং তার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। পরে সবুজ ফারাজির পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী পলাশবাড়ী উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
ওই রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত সবুজ ফারাজিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছে। বর্তমানে সে কারাগারে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সবুজ ফারাজি গত বছর আলোচিত একটি ঘটনায় জড়িত খোর্দ্দকোমরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বিএসসির ছোট ভাই। ওই ঘটনায় শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্র বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছিল এবং ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছিল বলে এলাকাবাসীর দাবি। কিন্তু সেই ঘটনায় কোনো বিচার না হওয়ায় পরিবার থেকেই এ ধরনের অপরাধের সূত্রপাত হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
এলাকাবাসী ও শিশুর পরিবারের সদস্যরা এই পৈশাচিক ঘটনার দ্রুততম বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এ ধরনের অপরাধীদের প্রতি কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। শিশুটির সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনেরও দাবি উঠেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানা গেছে, তবে মানসিক ট্রমা থেকে সেরে ওঠার জন্য বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন।
এই ঘটনা আবারও শিশু নির্যাতন ও নারী নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত