চেক পোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

কালাইয়ে নারীর উদ্যোগ: হোটেল চালিয়ে পড়াশোনা, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে নাসরিন

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
কালাইয়ে নারীর উদ্যোগ: হোটেল চালিয়ে পড়াশোনা, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে নাসরিন

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বৈরাগীহাট মোড়ে ছোট্ট হোটেল ব্যবসার সঙ্গে পড়াশোনার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ১৮ বছরের মেধাবী শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তার। ১২ বছর আগে তার বাবা মোকাব্বর মন্ডল হোটেলটি চালু করেন।

নাসরিন এসএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়েছেন এবং বর্তমানে কালাই সরকারি মহিলা ডিগ্রী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পরিবার ও পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য তিনি ভোরবেলায় হোটেলের কাজে ব্যস্ত থাকেন।

তিনি নিজেই হোটেলে পুড়ি, পিয়াজু, সিঙ্গারা, ছামুচা, মোগলাই, চানাচুর তৈরি করেন এবং ভাত, মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন তরকারি রান্না ও পরিবেশন করেন। স্বল্প মূল্যে সুস্বাদু খাবার দেওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহকরা আসে।

হোটেলে খাবার খেতে আসা ট্রাকচালক হাফিজুল ইসলাম বলেন, “খাবারের মান ও রান্না খুব ভালো।” পাশের মুদি দোকানী জিহাদুল ইসলাম জানান, “অর্থের কারণে কারিগর না রাখলেও নাসরিন সব দায়িত্ব সামলাচ্ছে। কলেজের পড়াশোনাও চালাচ্ছে।”

নাসরিন জানান, কলেজ ছুটি শেষে বিকাল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হোটেলে কাজ করেন। তিনি বলেন, “পরিবারকে সাহায্য করতে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হোটেলে কাজ করতে হয়।”

তার বাবা মোকাব্বর মন্ডল বলেন, “আমার মেয়ে হোটেলের সব কাজ করে, কলেজের পড়াশোনাও চালাচ্ছে। আমি গরিব মানুষ, তাই কারিগর রাখতে পারি না।”

কলেজ অধ্যক্ষ নাজিম উদ্দিন বলেন, “নাসরিন খুব মেধাবী, কলেজের পক্ষ থেকে তাকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশা করি, সে ভবিষ্যতে স্বপ্ন পূরণ করবে।”

কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান বলেন, “পড়াশোনার সঙ্গে হোটেলের কাজ করা তার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে পড়াশোনার ক্ষতি যেন না হয়, তার জন্য প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করা হবে।”

চেক পোস্ট

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


কালাইয়ে নারীর উদ্যোগ: হোটেল চালিয়ে পড়াশোনা, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে নাসরিন

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৫

featured Image

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বৈরাগীহাট মোড়ে ছোট্ট হোটেল ব্যবসার সঙ্গে পড়াশোনার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ১৮ বছরের মেধাবী শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তার। ১২ বছর আগে তার বাবা মোকাব্বর মন্ডল হোটেলটি চালু করেন।

নাসরিন এসএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়েছেন এবং বর্তমানে কালাই সরকারি মহিলা ডিগ্রী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পরিবার ও পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য তিনি ভোরবেলায় হোটেলের কাজে ব্যস্ত থাকেন।

তিনি নিজেই হোটেলে পুড়ি, পিয়াজু, সিঙ্গারা, ছামুচা, মোগলাই, চানাচুর তৈরি করেন এবং ভাত, মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন তরকারি রান্না ও পরিবেশন করেন। স্বল্প মূল্যে সুস্বাদু খাবার দেওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহকরা আসে।

হোটেলে খাবার খেতে আসা ট্রাকচালক হাফিজুল ইসলাম বলেন, “খাবারের মান ও রান্না খুব ভালো।” পাশের মুদি দোকানী জিহাদুল ইসলাম জানান, “অর্থের কারণে কারিগর না রাখলেও নাসরিন সব দায়িত্ব সামলাচ্ছে। কলেজের পড়াশোনাও চালাচ্ছে।”

নাসরিন জানান, কলেজ ছুটি শেষে বিকাল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হোটেলে কাজ করেন। তিনি বলেন, “পরিবারকে সাহায্য করতে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হোটেলে কাজ করতে হয়।”

তার বাবা মোকাব্বর মন্ডল বলেন, “আমার মেয়ে হোটেলের সব কাজ করে, কলেজের পড়াশোনাও চালাচ্ছে। আমি গরিব মানুষ, তাই কারিগর রাখতে পারি না।”

কলেজ অধ্যক্ষ নাজিম উদ্দিন বলেন, “নাসরিন খুব মেধাবী, কলেজের পক্ষ থেকে তাকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশা করি, সে ভবিষ্যতে স্বপ্ন পূরণ করবে।”

কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান বলেন, “পড়াশোনার সঙ্গে হোটেলের কাজ করা তার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে পড়াশোনার ক্ষতি যেন না হয়, তার জন্য প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করা হবে।”


চেক পোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত