এসআই নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সরব বঞ্চিতরা, তদন্ত চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ পুলিশ-এর সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, বৈষম্য ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা। তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
জানা গেছে, ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত (৩৩তম থেকে ৩৮তম ব্যাচ) এসআই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, ভাইভা পরীক্ষার আগেই ‘বিতর্কিতভাবে’ পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং উদ্দেশ্যমূলক নেতিবাচক রিপোর্টের কারণে তারা চূড়ান্ত তালিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী প্রার্থীদের ভাষ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধ, স্থানীয় প্রভাব কিংবা অসংশ্লিষ্ট তথ্যকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে ভেরিফিকেশন রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রার্থীরা আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কনস্টেবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, যা গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এসআই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এখনো কোনো তদন্ত না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে বঞ্চিত প্রার্থীরা বলেন, কনস্টেবল নিয়োগের মতোই এসআই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। এতে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
এদিকে, বিষয়টি ইতোমধ্যে বিচারিক পর্যায়েও গড়িয়েছে। এ সংক্রান্ত একাধিক রিট পিটিশন বর্তমানে বাংলাদেশ হাইকোর্ট-এ বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা আশা করছেন, আদালতের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পাবেন এবং বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে।
আবেদনে প্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, ভেরিফিকেশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং বঞ্চিত প্রার্থীদের পুনর্বিবেচনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী প্রার্থী রেজাউল করিম রাজু বলেন, “আমরা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। কিন্তু অস্বচ্ছ ও পক্ষপাতদুষ্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার কারণে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। আমরা এর ন্যায়সংগত সমাধান চাই।”
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত