অবৈধভাবে ইউরোপে কর্মী প্রেরনের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একজন গ্রেফতার
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
সুনামগঞ্জে অবৈধভাবে বিদেশে কর্মী প্রেরনের নামে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলার এজাহার নামীয় পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে
সুনামগঞ্জ র্যাব-৯, সিপিসি-৩।
পলাতক আসামী হচ্ছে, ছরওয়ার মুর্শেদ ডালিম (৪৮)।
সে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের যুধিষ্ঠিপুর গ্রামের মো. শামসুল হক এর ছেলে।
সুনামগঞ্জ র্যাব-৯, সিপিসি-৩, এবং র্যাব-০১, সিপিসি-৩, রুপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ১৩ এপ্রিল আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার নীলা মার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, ভিকটিম শরীফ উদ্দিন (৫৩) সুনামগঞ্জ জেলার সদর মডেল থানার তেতৈয়া এলাকার বাসিন্দা।
ভিকটিমের এলাকায় ১নং বিবাদী আবুল হোসেন ও ২নং বিবাদী ছরওয়ার মুর্শেদ ডালিম তাদের ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে লোকজনকে কর্মসংস্থানের জন্য ইউরোপের আলবেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠাতে পারবে বলে প্রচার করে। বিবাদীদের উক্ত প্রচারের ভিত্তিতে ভিকটিম ও আরো ৮ জন ব্যক্তি কর্মসংস্থানের জন্য আলবেনিয়া যেতে চাইলে বিবাদীরা তাদেরকে বলে যে, আলবেনিয়ায় যেতে প্রত্যেকের ১২ লক্ষ টাকা লাগবে। প্রথমে প্রত্যেককে ৪ লক্ষ টাকা দিতে হবে এবং আলবেনিয়ায় যাওয়ার সময় বাকী টাকা দিতে হবে। গত ২০২৪ সালের ৬ জুলাই আনুমানিক বিকাল ৪ টায় ভিকটিম ও ৮ জন ব্যক্তি প্রত্যেকে ১ লক্ষ টাকা করে মোট ৯ লক্ষ টাকা বিবাদীদের দেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যাংকের একাউন্ট, বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিবাদীদের সর্বমোট ৭২ লক্ষ ,৮৭ হাজার ৯০০ টাকা দেন। কিছুদিন পর বিবাদীরা ভিকটিম ও ৮ জন ব্যক্তিকে শ্রীলঙ্কা হয়ে আলবেনিয়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ঢাকায় যেতে বললে তারা ঢাকায় বিবাদীদের কাছ যান। অতঃপর ১নং ও ২নং বিবাদী তাদের ৯ জনের মধ্যে ৭ জন ব্যক্তিকে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যায় এবং সেখানে একটি বাসা বাড়িতে রেখে বিবাদীদ্বয় তাদেরকে না জানিয়ে দেশে চলে আসে। পরবর্তীতে উক্ত ৭ জন ব্যক্তি বিবাদীদের কোন সন্ধান না পেয়ে নিরুপায় হয়ে দেশে ফিরে আসেন। উক্ত ঘটনায় ভিকটিম শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ জেলার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এরই প্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে
সুনামগঞ্জ র্যাব-৯, সিপিসি-৩, এবং র্যাব-০১, সিপিসি-৩, রুপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ১৩ এপ্রিল আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার নীলা মার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সুনামগঞ্জ জেলার সদর মডেল থানার মামলা নং-৩৬, তারিখ-১৮/০১/২০২৬ খ্রি., ধারা- বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩ এর ৩১/৩৩/৩৬ তৎসহ ৪০৬/৪২০/১০৯ পেনাল কোড ১৮৬০: এর মূলে আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম শহীদুল ইসলাম জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত