সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফটোকার্ডের বক্তব্য নিয়ে ফের আলোচনায় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। ওই ফটোকার্ডে তার নামে দাবি করা হয়, চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ‘পাপ’ করেছেন তিনি এবং মৃত্যুর আগে সেই পাপ ধুয়েমুছে যেতে চান। তবে এমন কোনো কথা তিনি বলেননি বলে স্পষ্ট করেছেন পপি।
সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ফটোকার্ডে লেখা হয়, ‘যতটা পাপ কামিয়েছি, তার সবটা ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।’ বিষয়টি নজরে আসার পর এর প্রতিবাদ জানান এই অভিনেত্রী। তার দাবি, কোনো যাচাই ছাড়াই সম্পূর্ণ মনগড়া বক্তব্য তার নামে প্রচার করা হয়েছে।
পপি বলেন, চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সুনাম, সম্মান, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন। তাই অভিনয় কিংবা চলচ্চিত্রকে তিনি কখনোই ‘পাপ’ হিসেবে দেখেননি। প্রায় তিন দশকের চলচ্চিত্রজীবন নিয়ে বরং গর্বিত তিনি।
নিজের বক্তব্য পরিষ্কার করে পপি বলেন, ‘আমি আমার বক্তব্যে একবারের জন্যও বলিনি যে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পাপ করেছি। মানুষ কি তার নিজের ভুল বা ভুলত্রুটির জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাইতে পারে না?’
তিনি আরও বলেন, মানুষ জেনে-না জেনে নানা ভুল করে। সেসব ভুলের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাওয়া অন্যায় নয়। নিজের জীবনের কোনো ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে শান্তিতে থাকতে চাইলে তা নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা বা জলঘোলা করার কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চলচ্চিত্রের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়ে পপি বলেন, যে শিল্প তাকে যশ, খ্যাতি, সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছে, সেই চলচ্চিত্রকে ছোট করার প্রশ্নই আসে না। এই মাধ্যমে দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জন করেছেন তিনি।
একটি সিনেমা নির্মাণের পেছনে অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক, প্রযোজক, টেকনিশিয়ানসহ অসংখ্য মানুষ কঠোর পরিশ্রম করেন। তাই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষের উপার্জনকে ‘পাপ’ বা অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত করারও সুযোগ নেই বলে মনে করেন পপি।
চলচ্চিত্রজীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেশের কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে দেখেন তিনি। রাজ্জাক, আলমগীর, কবরী, শাবানাসহ বহু গুণী শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক ও কলাকুশলীর সঙ্গে কাজ করেছেন পপি। তার কাছে চলচ্চিত্রের মানুষগুলো একটি পরিবারের মতো।
পপির নামে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটি শেয়ার করেছিলেন অভিনয়শিল্পী ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। পরে সেখানে মন্তব্য করেন চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ।
তাদের প্রতিক্রিয়ায় কষ্ট পেয়েছেন বলে জানান পপি। তার অভিযোগ, বক্তব্যের সত্যতা যাচাই না করেই সেটিকে সত্য ধরে নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে।
পপি জানান, পরিবারকে ঘিরে অতীতে কিছু অভিমান থেকে তিনি কিছু কথা বলেছিলেন। অভিনয়জীবনে পরিবারের জন্য অনেক ত্যাগও করেছেন। কিন্তু সেই কথাগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাকে অপমানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
বর্তমানে নিয়মিত অভিনয়ে না থাকলেও দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই পপির। তার মতে, একজন শিল্পী রাতারাতি তৈরি হন না। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, কষ্ট ও ত্যাগের মাধ্যমেই একজন শিল্পীর অবস্থান তৈরি হয়।
ভবিষ্যতে পছন্দসই গল্প পেলে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে চান তিনি। নিজের জীবন বা বায়োগ্রাফি নিয়ে নির্মিত কোনো সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছাও রয়েছে তার। পাশাপাশি নিয়মিত অভিনয়ে না ফিরলেও প্রযোজক হিসেবে চলচ্চিত্রে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।
ভক্ত ও সহকর্মীদের উদ্দেশে পপির অনুরোধ, তার নামে ছড়িয়ে পড়া কোনো বক্তব্য যাচাই না করে যেন কেউ বিশ্বাস না করেন। তার কাছে চলচ্চিত্র এখনো ভালোবাসা, সম্মান ও দীর্ঘ পরিশ্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফটোকার্ডের বক্তব্য নিয়ে ফের আলোচনায় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। ওই ফটোকার্ডে তার নামে দাবি করা হয়, চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ‘পাপ’ করেছেন তিনি এবং মৃত্যুর আগে সেই পাপ ধুয়েমুছে যেতে চান। তবে এমন কোনো কথা তিনি বলেননি বলে স্পষ্ট করেছেন পপি।
সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ফটোকার্ডে লেখা হয়, ‘যতটা পাপ কামিয়েছি, তার সবটা ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।’ বিষয়টি নজরে আসার পর এর প্রতিবাদ জানান এই অভিনেত্রী। তার দাবি, কোনো যাচাই ছাড়াই সম্পূর্ণ মনগড়া বক্তব্য তার নামে প্রচার করা হয়েছে।
পপি বলেন, চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সুনাম, সম্মান, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন। তাই অভিনয় কিংবা চলচ্চিত্রকে তিনি কখনোই ‘পাপ’ হিসেবে দেখেননি। প্রায় তিন দশকের চলচ্চিত্রজীবন নিয়ে বরং গর্বিত তিনি।
নিজের বক্তব্য পরিষ্কার করে পপি বলেন, ‘আমি আমার বক্তব্যে একবারের জন্যও বলিনি যে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পাপ করেছি। মানুষ কি তার নিজের ভুল বা ভুলত্রুটির জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাইতে পারে না?’
তিনি আরও বলেন, মানুষ জেনে-না জেনে নানা ভুল করে। সেসব ভুলের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাওয়া অন্যায় নয়। নিজের জীবনের কোনো ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে শান্তিতে থাকতে চাইলে তা নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা বা জলঘোলা করার কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চলচ্চিত্রের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়ে পপি বলেন, যে শিল্প তাকে যশ, খ্যাতি, সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছে, সেই চলচ্চিত্রকে ছোট করার প্রশ্নই আসে না। এই মাধ্যমে দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জন করেছেন তিনি।
একটি সিনেমা নির্মাণের পেছনে অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক, প্রযোজক, টেকনিশিয়ানসহ অসংখ্য মানুষ কঠোর পরিশ্রম করেন। তাই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষের উপার্জনকে ‘পাপ’ বা অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত করারও সুযোগ নেই বলে মনে করেন পপি।
চলচ্চিত্রজীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেশের কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে দেখেন তিনি। রাজ্জাক, আলমগীর, কবরী, শাবানাসহ বহু গুণী শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক ও কলাকুশলীর সঙ্গে কাজ করেছেন পপি। তার কাছে চলচ্চিত্রের মানুষগুলো একটি পরিবারের মতো।
পপির নামে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটি শেয়ার করেছিলেন অভিনয়শিল্পী ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। পরে সেখানে মন্তব্য করেন চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ।
তাদের প্রতিক্রিয়ায় কষ্ট পেয়েছেন বলে জানান পপি। তার অভিযোগ, বক্তব্যের সত্যতা যাচাই না করেই সেটিকে সত্য ধরে নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে।
পপি জানান, পরিবারকে ঘিরে অতীতে কিছু অভিমান থেকে তিনি কিছু কথা বলেছিলেন। অভিনয়জীবনে পরিবারের জন্য অনেক ত্যাগও করেছেন। কিন্তু সেই কথাগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাকে অপমানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
বর্তমানে নিয়মিত অভিনয়ে না থাকলেও দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই পপির। তার মতে, একজন শিল্পী রাতারাতি তৈরি হন না। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, কষ্ট ও ত্যাগের মাধ্যমেই একজন শিল্পীর অবস্থান তৈরি হয়।
ভবিষ্যতে পছন্দসই গল্প পেলে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে চান তিনি। নিজের জীবন বা বায়োগ্রাফি নিয়ে নির্মিত কোনো সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছাও রয়েছে তার। পাশাপাশি নিয়মিত অভিনয়ে না ফিরলেও প্রযোজক হিসেবে চলচ্চিত্রে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।
ভক্ত ও সহকর্মীদের উদ্দেশে পপির অনুরোধ, তার নামে ছড়িয়ে পড়া কোনো বক্তব্য যাচাই না করে যেন কেউ বিশ্বাস না করেন। তার কাছে চলচ্চিত্র এখনো ভালোবাসা, সম্মান ও দীর্ঘ পরিশ্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
