শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

শিক্ষা

বিমান টিকিট ও পূর্ণ অর্থায়ন

১১টি গবেষণাপত্রের স্বীকৃতি, চীনে ফুলফান্ড স্কলারশিপ পেলেন জাবিপ্রবির সাবিত হাসান

১১টি গবেষণাপত্রের স্বীকৃতি, চীনে ফুলফান্ড স্কলারশিপ পেলেন জাবিপ্রবির সাবিত হাসান
ছবি: চেকপোস্ট

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ফিশারিজ বিভাগের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাবিত হাসান চীনের মর্যাদাপূর্ণ CAS-ANSO Full Scholarship অর্জন করেছেন। এই স্কলারশিপের আওতায় তিনি চীনের University of Chinese Academy of Sciences (UCAS)-এর Institute of Hydrobiology-এ মাস্টার্স পর্যায়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন।

পূর্ণাঙ্গ অর্থায়নভিত্তিক এ স্কলারশিপের আওতায় তিনি মাসিক ৪ হাজার চীনা ইউয়ান ভাতা, আন্তর্জাতিক বিমান টিকিট, আবাসন ও উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

জাবিপ্রবি থেকে ফিশারিজ বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করা সাবিত হাসানের সিজিপিএ ৩.২৯৮। তবে তাঁর এ অর্জনের মূল ভিত্তি গবেষণায় দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর ১১টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া একাধিক গবেষণা প্রকল্পে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গবেষণা পরিচালনায় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে সাবিত হাসান বলেন, "তুলনামূলকভাবে কম সিজিপিএ এবং শুধু এমওআই নিয়ে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই স্কলারশিপ অর্জন সহজ ছিল না। তবে গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র আমার প্রোফাইলকে শক্তিশালী করেছে। আল্লাহর অশেষ রহমত এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফলেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সবার আগে আমি আমার স্ত্রী ও পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁদের মানসিক সমর্থন আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। ২০২০ সালে শ্রদ্ধেয় সৈয়দ আরিফুল হক স্যারের হাত ধরে গবেষণায় আমার যাত্রা শুরু হয়। পরে নিয়মিত বিভিন্ন গবেষণায় যুক্ত থেকেছি। চীনে এই স্কলারশিপ অর্জনের পেছনে মো. ফখরুল ইসলাম (সুমন) স্যারের দিকনির্দেশনা এবং আমাদের সিনিয়র মো. মেহেদী হাসান (সানি) ভাইয়ের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সাবিতের গবেষণা সুপারভাইজার ও ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ আলী বলেন, সাবিত আমার দুটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করেছে। সে অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং গবেষণার কাজের প্রতি আন্তরিক। এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ তার প্রাপ্য ছিল। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে সে দেশের জন্য আরও বড় অবদান রাখবে।

ফিশারিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে সাবিত চীনে পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ অর্জন করেছে। এটি বিভাগের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের মতে, সাবিত হাসানের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি জাবিপ্রবিতে গবেষণার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

#জাবিপ্রবি #CASANSO #ScholarshipSuccess

চেকপোস্ট

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬


১১টি গবেষণাপত্রের স্বীকৃতি, চীনে ফুলফান্ড স্কলারশিপ পেলেন জাবিপ্রবির সাবিত হাসান

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ফিশারিজ বিভাগের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাবিত হাসান চীনের মর্যাদাপূর্ণ CAS-ANSO Full Scholarship অর্জন করেছেন। এই স্কলারশিপের আওতায় তিনি চীনের University of Chinese Academy of Sciences (UCAS)-এর Institute of Hydrobiology-এ মাস্টার্স পর্যায়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন।

পূর্ণাঙ্গ অর্থায়নভিত্তিক এ স্কলারশিপের আওতায় তিনি মাসিক ৪ হাজার চীনা ইউয়ান ভাতা, আন্তর্জাতিক বিমান টিকিট, আবাসন ও উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

জাবিপ্রবি থেকে ফিশারিজ বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করা সাবিত হাসানের সিজিপিএ ৩.২৯৮। তবে তাঁর এ অর্জনের মূল ভিত্তি গবেষণায় দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর ১১টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া একাধিক গবেষণা প্রকল্পে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গবেষণা পরিচালনায় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে সাবিত হাসান বলেন, "তুলনামূলকভাবে কম সিজিপিএ এবং শুধু এমওআই নিয়ে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই স্কলারশিপ অর্জন সহজ ছিল না। তবে গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র আমার প্রোফাইলকে শক্তিশালী করেছে। আল্লাহর অশেষ রহমত এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফলেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সবার আগে আমি আমার স্ত্রী ও পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁদের মানসিক সমর্থন আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। ২০২০ সালে শ্রদ্ধেয় সৈয়দ আরিফুল হক স্যারের হাত ধরে গবেষণায় আমার যাত্রা শুরু হয়। পরে নিয়মিত বিভিন্ন গবেষণায় যুক্ত থেকেছি। চীনে এই স্কলারশিপ অর্জনের পেছনে মো. ফখরুল ইসলাম (সুমন) স্যারের দিকনির্দেশনা এবং আমাদের সিনিয়র মো. মেহেদী হাসান (সানি) ভাইয়ের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সাবিতের গবেষণা সুপারভাইজার ও ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ আলী বলেন, সাবিত আমার দুটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করেছে। সে অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং গবেষণার কাজের প্রতি আন্তরিক। এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ তার প্রাপ্য ছিল। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে সে দেশের জন্য আরও বড় অবদান রাখবে।

ফিশারিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে সাবিত চীনে পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ অর্জন করেছে। এটি বিভাগের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের মতে, সাবিত হাসানের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি জাবিপ্রবিতে গবেষণার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত