রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

প্রতি পদে ব্যয় ৪৩ হাজার টাকা

হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষার অভিযোগ, খুলনা ওয়াসার নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক

হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষার অভিযোগ, খুলনা ওয়াসার নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক
ছবি : চেকপোস্ট

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ উপেক্ষা করে খুলনা ওয়াসায় নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ব্যয়, অনিয়ম ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির অভিযোগও তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে খুলনা ওয়াসা ২১টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য প্রচলিত নিয়মে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের সুযোগ থাকলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে তা রাখা হয়নি। এ বিষয়ে বঞ্চিত ২৪ জন কর্মচারী হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর স্থিতাবস্থা বা নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ দেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

তাদের আরও অভিযোগ, আদালতের আদেশের কপি খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ঝুমুর বালাকে সরাসরি দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। ডাকযোগে পাঠানো কপিও গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরও গত শুক্রবার (১০ জুলাই) ছুটির দিনে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, খুলনা ওয়াসার একটি অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষার সম্ভাব্য ব্যয় বাবদ জনতা ব্যাংক পিএলসির খুলনা কর্পোরেট শাখা থেকে ৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৩০ টাকা অগ্রিম উত্তোলন করা হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২১টি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৪৩ হাজার ৭১২ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া ডিএমডি ঝুমুর বালার বিরুদ্ধে অতীতের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তুলে ধরেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, বাগেরহাট জেলা পরিষদে কর্মরত অবস্থায় ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একটি ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করে মামলা দায়ের করেছিল, যা বর্তমানে বিচারাধীন। এছাড়া বরিশালের উজিরপুরে দায়িত্ব পালনকালে টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, খুলনা ওয়াসায় চলমান বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে যারা কথা বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, শোকজ ও চাকরিচ্যুতির ভয় দেখানো হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ডিএমডি ঝুমুর বালার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, উপরের প্রতিবেদনটি অভিযোগকারীদের বক্তব্য ও দাবির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে তা যুক্ত করে প্রতিবেদন হালনাগাদ করা উচিত।

#হাইকোর্ট #খুলনাওয়াসা #নিয়োগবিতর্ক

চেকপোস্ট

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষার অভিযোগ, খুলনা ওয়াসার নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ উপেক্ষা করে খুলনা ওয়াসায় নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ব্যয়, অনিয়ম ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির অভিযোগও তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে খুলনা ওয়াসা ২১টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য প্রচলিত নিয়মে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের সুযোগ থাকলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে তা রাখা হয়নি। এ বিষয়ে বঞ্চিত ২৪ জন কর্মচারী হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর স্থিতাবস্থা বা নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ দেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

তাদের আরও অভিযোগ, আদালতের আদেশের কপি খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ঝুমুর বালাকে সরাসরি দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। ডাকযোগে পাঠানো কপিও গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরও গত শুক্রবার (১০ জুলাই) ছুটির দিনে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, খুলনা ওয়াসার একটি অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষার সম্ভাব্য ব্যয় বাবদ জনতা ব্যাংক পিএলসির খুলনা কর্পোরেট শাখা থেকে ৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৩০ টাকা অগ্রিম উত্তোলন করা হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২১টি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৪৩ হাজার ৭১২ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া ডিএমডি ঝুমুর বালার বিরুদ্ধে অতীতের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তুলে ধরেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, বাগেরহাট জেলা পরিষদে কর্মরত অবস্থায় ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একটি ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করে মামলা দায়ের করেছিল, যা বর্তমানে বিচারাধীন। এছাড়া বরিশালের উজিরপুরে দায়িত্ব পালনকালে টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, খুলনা ওয়াসায় চলমান বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে যারা কথা বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, শোকজ ও চাকরিচ্যুতির ভয় দেখানো হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ডিএমডি ঝুমুর বালার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, উপরের প্রতিবেদনটি অভিযোগকারীদের বক্তব্য ও দাবির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে তা যুক্ত করে প্রতিবেদন হালনাগাদ করা উচিত।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত