রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

ঘটনা তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

সৈয়দপুরে চেয়ারম্যান বানানোর নামে নারী মেম্বারের ১.৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

সৈয়দপুরে চেয়ারম্যান বানানোর নামে নারী মেম্বারের ১.৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ
ছবি : চেকপোস্ট

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারী ইউপি সদস্যের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সচিবসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ তিন মাসেও দায়িত্ব না পেয়ে ওই নারী সদস্য সালিসি বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান বরখাস্ত হওয়ার পর শূন্য পদে দায়িত্ব দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ হোসনেয়ারার কাছ থেকে কয়েকজন মিলে টাকা নেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সালিসি বৈঠকের ভিডিওতে হোসনেয়ারাকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিকার চাইতে দেখা যায়।

ভিডিওতে হোসনেয়ারার বক্তব্য অনুযায়ী, ইউপি সচিব মোকছেদুল ইসলাম ৫০ হাজার টাকা, সদ্য বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সরকারের পিএস মাসুদ ৫০ হাজার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোরসালিন ২০ হাজার, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলিম ১০ হাজার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জলিল ১০ হাজার এবং ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসলেমা ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সালিসি বৈঠকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন খাতা সরানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে। ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মানিককে বলতে শোনা যায়, ইউপি সচিব তাঁকে চাবি দিয়ে রেজুলেশন খাতা নিয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারের কাছে যেতে বলেছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আব্দুল গফুর সরকার।

এদিকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জালাল উদ্দীনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে একটি রেজুলেশন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ প্রক্রিয়ায় ইউপি সচিবের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

জালাল উদ্দীন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান আলালের বিরুদ্ধে ভিডাব্লিউবি উপকারভোগীদের সঞ্চয়ের টাকা নিজের কাছে রাখার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ হোসনেয়ারার বিরুদ্ধেও ইউপি সচিবসহ কয়েকজনকে টাকা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

কামারপুকুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এর আগে অনিয়মের অভিযোগে ইউপি সচিবকে পাশের কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। পরে তিনি আবার নিজ ইউনিয়নে চাকরি করছেন। এ ছাড়া অতিরিক্ত ফি আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সচিব মোকছেদুল ইসলাম বলেন, তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নেননি। তাঁর দাবি, হোসনেয়ারা তাঁর টেবিলের ড্রয়ারে ৫ হাজার টাকা রেখে গিয়েছিলেন। ওই টাকা তিনি একটি কাজে খরচ করেছেন এবং দ্রুত ফেরত দেবেন। অন্য কেউ টাকা নিয়েছেন কি না, তা তিনি জানেন না।

সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, গ্রাম পুলিশ মানিক কেন তাঁর নাম বলেছেন, তা তিনি জানেন না। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তিকে তিনি সেখানে যেতে বলেননি। এ ঘটনায় তাঁর নাম জড়ানো হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে ইউপি সচিব কোনোভাবেই এ ধরনের কাজে জড়িত হতে পারেন না। প্রাথমিকভাবে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।

স্থানীয় সরকারের নীলফামারী জেলার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) সাইদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ভিডিও তিনি তখনও দেখেননি বলে জানান।

#সৈয়দপুর #দুর্নীতিরঅভিযোগ #কামারপুকুরইউনিয়ন

চেকপোস্ট

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


সৈয়দপুরে চেয়ারম্যান বানানোর নামে নারী মেম্বারের ১.৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারী ইউপি সদস্যের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সচিবসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ তিন মাসেও দায়িত্ব না পেয়ে ওই নারী সদস্য সালিসি বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান বরখাস্ত হওয়ার পর শূন্য পদে দায়িত্ব দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ হোসনেয়ারার কাছ থেকে কয়েকজন মিলে টাকা নেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সালিসি বৈঠকের ভিডিওতে হোসনেয়ারাকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিকার চাইতে দেখা যায়।

ভিডিওতে হোসনেয়ারার বক্তব্য অনুযায়ী, ইউপি সচিব মোকছেদুল ইসলাম ৫০ হাজার টাকা, সদ্য বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সরকারের পিএস মাসুদ ৫০ হাজার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোরসালিন ২০ হাজার, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলিম ১০ হাজার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জলিল ১০ হাজার এবং ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসলেমা ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সালিসি বৈঠকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন খাতা সরানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে। ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মানিককে বলতে শোনা যায়, ইউপি সচিব তাঁকে চাবি দিয়ে রেজুলেশন খাতা নিয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারের কাছে যেতে বলেছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আব্দুল গফুর সরকার।

এদিকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জালাল উদ্দীনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে একটি রেজুলেশন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ প্রক্রিয়ায় ইউপি সচিবের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

জালাল উদ্দীন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান আলালের বিরুদ্ধে ভিডাব্লিউবি উপকারভোগীদের সঞ্চয়ের টাকা নিজের কাছে রাখার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ হোসনেয়ারার বিরুদ্ধেও ইউপি সচিবসহ কয়েকজনকে টাকা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

কামারপুকুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এর আগে অনিয়মের অভিযোগে ইউপি সচিবকে পাশের কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। পরে তিনি আবার নিজ ইউনিয়নে চাকরি করছেন। এ ছাড়া অতিরিক্ত ফি আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সচিব মোকছেদুল ইসলাম বলেন, তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নেননি। তাঁর দাবি, হোসনেয়ারা তাঁর টেবিলের ড্রয়ারে ৫ হাজার টাকা রেখে গিয়েছিলেন। ওই টাকা তিনি একটি কাজে খরচ করেছেন এবং দ্রুত ফেরত দেবেন। অন্য কেউ টাকা নিয়েছেন কি না, তা তিনি জানেন না।

সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, গ্রাম পুলিশ মানিক কেন তাঁর নাম বলেছেন, তা তিনি জানেন না। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তিকে তিনি সেখানে যেতে বলেননি। এ ঘটনায় তাঁর নাম জড়ানো হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে ইউপি সচিব কোনোভাবেই এ ধরনের কাজে জড়িত হতে পারেন না। প্রাথমিকভাবে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।

স্থানীয় সরকারের নীলফামারী জেলার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) সাইদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ভিডিও তিনি তখনও দেখেননি বলে জানান।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত