রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

সাশ্রয়ী চিকিৎসার টোপ, সাতক্ষীরায় ন্যাচারাল হেলথ সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

সাশ্রয়ী চিকিৎসার টোপ, সাতক্ষীরায় ন্যাচারাল হেলথ সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
ছবি : চেকপোস্ট

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চৌধুরীপাড়ায় ন্যাচারাল হেলথ সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা কার্যক্রম ঘিরে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সাশ্রয়ী চিকিৎসার প্রচারণা চালিয়ে রোগীদের আকৃষ্ট করার পর পরে নির্দিষ্ট ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত হাফিজুর রহমান নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা ও সুস্থতার নিশ্চয়তার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

‘সব রোগের সমাধান’ দাবিতে প্রশ্ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হার্ট ব্লক, কিডনি ও পিত্তথলির পাথর, সিস্ট, টিউমার, পাইলস, ফিস্টুলা, এনাল ফিসারসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার দাবি করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এ ছাড়া রক্ত, কিডনি, লিভার, থাইরয়েড, ভিটামিন, ইউরিক এসিডসহ বিভিন্ন পরীক্ষার পাশাপাশি এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, এন্ডোস্কোপি, কোলনোস্কোপি ও ক্যানসার শনাক্তকরণের মতো জটিল পরীক্ষার কথাও প্রচারণায় উল্লেখ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এত বিস্তৃত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও দক্ষ জনবল রয়েছে কি না।

নির্দিষ্ট ওষুধ কেনার অভিযোগ

অভিযোগকারীরা জানান, প্রথমে কম খরচে চিকিৎসার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে ব্যবস্থাপত্রে এমন ওষুধ দেওয়া হয়, যা ওই প্রতিষ্ঠান থেকেই কিনতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাদের দাবি, এর মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রোগী সংগ্রহ ও প্রতিষ্ঠানমুখী করতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা দালাল কাজ করছে।

প্রচারণা নিয়ে উদ্বেগ

জেলার বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট, ফেস্টুন ও ব্যানারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশেষ করে দীর্ঘদিনের রোগে আক্রান্ত, আর্থিকভাবে দুর্বল ও সহজ-সরল মানুষকে লক্ষ্য করে এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ নারী অধিকার উন্নয়ন সংস্থার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই পরিচয়ের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের সম্পর্ক ও বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

তদন্তের দাবি

স্থানীয় সচেতন মহল প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা, চিকিৎসকের যোগ্যতা ও নিবন্ধন, রোগ নির্ণয়ের অনুমোদন, ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা এবং ওষুধ বিক্রির বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের দাবি, অভিযোগ সত্য হলে চিকিৎসার নামে মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ন্যাচারাল হেলথ সেন্টারের হাফিজুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল গ্রহণ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, চিকিৎসাসেবা ও রোগ নির্ণয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদন, চিকিৎসকের বৈধ নিবন্ধন ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা জরুরি।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের বাইরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালালে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরিচয়, যোগ্যতা ও প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।

#সাতক্ষীরা_সংবাদ #চিকিৎসা_প্রতারণা #স্বাস্থ্য_সেবা

চেকপোস্ট

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


সাশ্রয়ী চিকিৎসার টোপ, সাতক্ষীরায় ন্যাচারাল হেলথ সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চৌধুরীপাড়ায় ন্যাচারাল হেলথ সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা কার্যক্রম ঘিরে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সাশ্রয়ী চিকিৎসার প্রচারণা চালিয়ে রোগীদের আকৃষ্ট করার পর পরে নির্দিষ্ট ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত হাফিজুর রহমান নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা ও সুস্থতার নিশ্চয়তার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

‘সব রোগের সমাধান’ দাবিতে প্রশ্ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হার্ট ব্লক, কিডনি ও পিত্তথলির পাথর, সিস্ট, টিউমার, পাইলস, ফিস্টুলা, এনাল ফিসারসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার দাবি করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এ ছাড়া রক্ত, কিডনি, লিভার, থাইরয়েড, ভিটামিন, ইউরিক এসিডসহ বিভিন্ন পরীক্ষার পাশাপাশি এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, এন্ডোস্কোপি, কোলনোস্কোপি ও ক্যানসার শনাক্তকরণের মতো জটিল পরীক্ষার কথাও প্রচারণায় উল্লেখ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এত বিস্তৃত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও দক্ষ জনবল রয়েছে কি না।

নির্দিষ্ট ওষুধ কেনার অভিযোগ

অভিযোগকারীরা জানান, প্রথমে কম খরচে চিকিৎসার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে ব্যবস্থাপত্রে এমন ওষুধ দেওয়া হয়, যা ওই প্রতিষ্ঠান থেকেই কিনতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাদের দাবি, এর মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রোগী সংগ্রহ ও প্রতিষ্ঠানমুখী করতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা দালাল কাজ করছে।

প্রচারণা নিয়ে উদ্বেগ

জেলার বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট, ফেস্টুন ও ব্যানারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশেষ করে দীর্ঘদিনের রোগে আক্রান্ত, আর্থিকভাবে দুর্বল ও সহজ-সরল মানুষকে লক্ষ্য করে এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ নারী অধিকার উন্নয়ন সংস্থার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই পরিচয়ের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের সম্পর্ক ও বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

তদন্তের দাবি

স্থানীয় সচেতন মহল প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা, চিকিৎসকের যোগ্যতা ও নিবন্ধন, রোগ নির্ণয়ের অনুমোদন, ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা এবং ওষুধ বিক্রির বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের দাবি, অভিযোগ সত্য হলে চিকিৎসার নামে মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ন্যাচারাল হেলথ সেন্টারের হাফিজুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল গ্রহণ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, চিকিৎসাসেবা ও রোগ নির্ণয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদন, চিকিৎসকের বৈধ নিবন্ধন ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা জরুরি।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের বাইরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালালে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরিচয়, যোগ্যতা ও প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত