দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল (রেড) টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। পরে টানা সাত ঘণ্টার চেষ্টায় সংযোগ পুনরুদ্ধার করে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। ঈদুল আজহার ছুটির পর অফিস খোলার দিনে এ ঘটনা সামনে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় কার্যালয় পরিদর্শনের সময় লাল টেলিফোনে কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানার পর বিটিসিএলের একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিকেল ৩টার দিকে সংযোগ পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়।
ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে নিরাপদ যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে এ ধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিটিসিএলের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সচিবালয়ের পুরোনো ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের কপার ক্যাবলের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোথাও তার কাটা ছিল, আবার কোথাও তার অনুপস্থিত ছিল।
এর ফলে শুধু সাধারণ টেলিফোন নয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হটলাইন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। এতে প্রশাসনিক যোগাযোগ ও কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
বিটিসিএলের ফোন-৩ শাখার ব্যবস্থাপক নাজিম হায়দারের পাঠানো চিঠিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনা হওয়া সত্ত্বেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছু দুর্বলতা রয়েছে। দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও তারা মনে করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত সচিবালয়ে অফিস করার প্রেক্ষাপটে কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং বিষয়টির তদন্তে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ বিভিন্ন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল (রেড) টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। পরে টানা সাত ঘণ্টার চেষ্টায় সংযোগ পুনরুদ্ধার করে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। ঈদুল আজহার ছুটির পর অফিস খোলার দিনে এ ঘটনা সামনে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় কার্যালয় পরিদর্শনের সময় লাল টেলিফোনে কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানার পর বিটিসিএলের একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিকেল ৩টার দিকে সংযোগ পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়।
ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে নিরাপদ যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে এ ধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিটিসিএলের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সচিবালয়ের পুরোনো ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের কপার ক্যাবলের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোথাও তার কাটা ছিল, আবার কোথাও তার অনুপস্থিত ছিল।
এর ফলে শুধু সাধারণ টেলিফোন নয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হটলাইন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। এতে প্রশাসনিক যোগাযোগ ও কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
বিটিসিএলের ফোন-৩ শাখার ব্যবস্থাপক নাজিম হায়দারের পাঠানো চিঠিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনা হওয়া সত্ত্বেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছু দুর্বলতা রয়েছে। দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও তারা মনে করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত সচিবালয়ে অফিস করার প্রেক্ষাপটে কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং বিষয়টির তদন্তে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ বিভিন্ন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
