গত দুই থেকে তিন মাস ধরে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ধারাবাহিক অভিযানে শহরের দীর্ঘদিনের যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরে আসে এবং শহরের সার্বিক শৃঙ্খলায়ও দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।
তবে সম্প্রতি ইউএনও ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর বদলির খবর প্রকাশের পর থেকেই শায়েস্তাগঞ্জ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবারও ফুটপাত দখল শুরু হয়েছে। বেশ কিছু ব্যবসায়ী পুনরায় সড়কের পাশে দোকান বসানোয় প্রধান সড়কগুলোতে যানজট বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নিয়মিত অভিযান ও প্রশাসনিক তদারকি অব্যাহত না থাকলে পরিস্থিতি আগের মতোই ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফজলে রাব্বানী চৌধুরীকে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মো. আসাদুজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
দায়িত্ব পালনকালে ইউএনও ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর উদ্যোগে শায়েস্তাগঞ্জে একাধিক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। এর মধ্যে খোয়াই নদীতে অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ, অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, যানজট নিরসনে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, পৌর এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম, দাউদনগর বাজার থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত ড্রেন পরিষ্কার, প্রধান সড়কের স্ট্রিট লাইট মেরামত এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে ড্রেন ও সড়কবাতি সংস্কার উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া পৌরসভার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের চারপাশের আগাছা পরিষ্কার এবং অভ্যন্তরীণ অংশের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজও সম্পন্ন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগের ফলে অচিরেই পৌর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। টমটম ভাড়া নির্ধারণে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে ভাড়ার তালিকা নির্ধারণ ও প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের নির্ধারিত ভাড়া অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয়দের মতে, দায়িত্ব পালনকালে ইউএনও ফজলে রাব্বানী চৌধুরী জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। অবৈধ দখল উচ্ছেদ, যানজট নিরসন, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা, পৌরসেবার মানোন্নয়ন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
শায়েস্তাগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের চলমান উন্নয়ন ও আইন প্রয়োগমূলক কার্যক্রম নতুন প্রশাসনের নেতৃত্বেও একই ধারাবাহিকতায় অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ ও যানজট নিরসনে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে শহরের শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং নাগরিকরা পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত পৌরশহরের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
গত দুই থেকে তিন মাস ধরে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ধারাবাহিক অভিযানে শহরের দীর্ঘদিনের যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরে আসে এবং শহরের সার্বিক শৃঙ্খলায়ও দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।
তবে সম্প্রতি ইউএনও ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর বদলির খবর প্রকাশের পর থেকেই শায়েস্তাগঞ্জ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবারও ফুটপাত দখল শুরু হয়েছে। বেশ কিছু ব্যবসায়ী পুনরায় সড়কের পাশে দোকান বসানোয় প্রধান সড়কগুলোতে যানজট বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নিয়মিত অভিযান ও প্রশাসনিক তদারকি অব্যাহত না থাকলে পরিস্থিতি আগের মতোই ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফজলে রাব্বানী চৌধুরীকে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মো. আসাদুজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
দায়িত্ব পালনকালে ইউএনও ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর উদ্যোগে শায়েস্তাগঞ্জে একাধিক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। এর মধ্যে খোয়াই নদীতে অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ, অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, যানজট নিরসনে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, পৌর এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম, দাউদনগর বাজার থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত ড্রেন পরিষ্কার, প্রধান সড়কের স্ট্রিট লাইট মেরামত এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে ড্রেন ও সড়কবাতি সংস্কার উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া পৌরসভার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের চারপাশের আগাছা পরিষ্কার এবং অভ্যন্তরীণ অংশের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজও সম্পন্ন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগের ফলে অচিরেই পৌর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। টমটম ভাড়া নির্ধারণে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে ভাড়ার তালিকা নির্ধারণ ও প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের নির্ধারিত ভাড়া অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয়দের মতে, দায়িত্ব পালনকালে ইউএনও ফজলে রাব্বানী চৌধুরী জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। অবৈধ দখল উচ্ছেদ, যানজট নিরসন, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা, পৌরসেবার মানোন্নয়ন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
শায়েস্তাগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের চলমান উন্নয়ন ও আইন প্রয়োগমূলক কার্যক্রম নতুন প্রশাসনের নেতৃত্বেও একই ধারাবাহিকতায় অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ ও যানজট নিরসনে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে শহরের শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং নাগরিকরা পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত পৌরশহরের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
