স্বামীকে খুঁজতে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসে বিপাকে পড়েছেন এক ভারতীয় নারী। তাঁর অভিযোগ, পরিচয় গোপন করে ভারতে গিয়ে তাঁকে বিয়ে করেন হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের মিজান। বিয়ের পর প্রায় তিন বছর যোগাযোগ রাখলেও একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন মিজান। এমনকি তাঁর নামে ভারতীয় একটি ব্যাংক থেকে ৪ লাখ ৭০ হাজার রুপি ঋণ নেওয়ার পর মিজান পালিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
স্বামীর সন্ধানে বাংলাদেশে এসে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বানিয়াচং থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন সিতারা বেগম নামের ওই নারী। অভিযোগে মিজান ছাড়াও তাঁর মা, ছোট ভাই ও বোনজামাতাকে আসামি করা হয়েছে।
সিতারার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলা সদরের ১ নম্বর উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামালখানী মহল্লার চানপুর এলাকার পাশে হাওরের মধ্যে মিজানের পরিবারের একটি নির্মাণাধীন বাড়ি রয়েছে। মিজান ভারতে অবস্থানকালে নিজেকে কলকাতার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেন। পরে সিতারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিয়ের পর দীর্ঘদিন তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। প্রায় তিন বছর ধরে মিজান স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে মিজান তাঁর স্ত্রীকে ভারতীয় একটি ব্যাংক থেকে ৪ লাখ ৭০ হাজার রুপি ঋণ নেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন সিতারা। ঋণের টাকা পাওয়ার পরই মিজান যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে তাঁর দাবি।
এরপর স্বামীর খোঁজে বাংলাদেশে আসেন সিতারা। বানিয়াচংয়ে এসে তিনি মিজানের পরিবারের বাড়িতে গিয়ে স্বামীর সন্ধান করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সিতারা বাংলাদেশে আসার পর মিজানও বানিয়াচংয়ে আসেন। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি কাতারে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
এ ঘটনায় গত ৩ অক্টোবর মিজানকে প্রধান আসামি করে তাঁর মা, ছোট ভাই ও বোনজামাতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় লিখিত অভিযোগ দেন সিতারা। অভিযোগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মিজানের কাছ থেকে পাওনা টাকা উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মিজান ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত আকিনুর মিয়ার আপন ছোট ভাই। পরিবারের পক্ষ থেকে আকিনুর মিয়াকে ওই আন্দোলনের নিহত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
তবে ভারতীয় নাগরিক সিতারার করা অভিযোগের সব বিষয় এখনো তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা, ঋণের টাকা নেওয়া এবং মিজানের দেশত্যাগের সঙ্গে অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
স্বামীকে খুঁজতে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসে বিপাকে পড়েছেন এক ভারতীয় নারী। তাঁর অভিযোগ, পরিচয় গোপন করে ভারতে গিয়ে তাঁকে বিয়ে করেন হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের মিজান। বিয়ের পর প্রায় তিন বছর যোগাযোগ রাখলেও একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন মিজান। এমনকি তাঁর নামে ভারতীয় একটি ব্যাংক থেকে ৪ লাখ ৭০ হাজার রুপি ঋণ নেওয়ার পর মিজান পালিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
স্বামীর সন্ধানে বাংলাদেশে এসে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বানিয়াচং থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন সিতারা বেগম নামের ওই নারী। অভিযোগে মিজান ছাড়াও তাঁর মা, ছোট ভাই ও বোনজামাতাকে আসামি করা হয়েছে।
সিতারার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলা সদরের ১ নম্বর উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামালখানী মহল্লার চানপুর এলাকার পাশে হাওরের মধ্যে মিজানের পরিবারের একটি নির্মাণাধীন বাড়ি রয়েছে। মিজান ভারতে অবস্থানকালে নিজেকে কলকাতার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেন। পরে সিতারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিয়ের পর দীর্ঘদিন তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। প্রায় তিন বছর ধরে মিজান স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে মিজান তাঁর স্ত্রীকে ভারতীয় একটি ব্যাংক থেকে ৪ লাখ ৭০ হাজার রুপি ঋণ নেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন সিতারা। ঋণের টাকা পাওয়ার পরই মিজান যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে তাঁর দাবি।
এরপর স্বামীর খোঁজে বাংলাদেশে আসেন সিতারা। বানিয়াচংয়ে এসে তিনি মিজানের পরিবারের বাড়িতে গিয়ে স্বামীর সন্ধান করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সিতারা বাংলাদেশে আসার পর মিজানও বানিয়াচংয়ে আসেন। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি কাতারে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
এ ঘটনায় গত ৩ অক্টোবর মিজানকে প্রধান আসামি করে তাঁর মা, ছোট ভাই ও বোনজামাতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় লিখিত অভিযোগ দেন সিতারা। অভিযোগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মিজানের কাছ থেকে পাওনা টাকা উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মিজান ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত আকিনুর মিয়ার আপন ছোট ভাই। পরিবারের পক্ষ থেকে আকিনুর মিয়াকে ওই আন্দোলনের নিহত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
তবে ভারতীয় নাগরিক সিতারার করা অভিযোগের সব বিষয় এখনো তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা, ঋণের টাকা নেওয়া এবং মিজানের দেশত্যাগের সঙ্গে অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
