সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

২২ ক্যাম্পের বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ

নীলফামারীতে চার দফা দাবিতে উর্দুভাষীদের লংমার্চ, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান

নীলফামারীতে চার দফা দাবিতে উর্দুভাষীদের লংমার্চ, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান
ছবি : চেকপোস্ট

স্থায়ী পুনর্বাসন, নাগরিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতসহ চার দফা দাবিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে লংমার্চ করেছেন বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর কয়েকশ মানুষ। পরে তারা নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ি এলাকার স্ট্র্যান্ডেড পিপলস জেনারেল রিহ্যাবিলিটেশন কমিটি (এসপিজিআরসি) কার্যালয় থেকে লংমার্চ শুরু হয়। অটোরিকশাযোগে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অংশগ্রহণকারীরা নীলফামারী জেলা শহরের উদ্দেশে রওনা হন।

বাংলাদেশে বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন এসপিজিআরসির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সৈয়দপুর শহরের ২২টি ক্যাম্পের বাসিন্দারা অংশ নেন। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

পরে তারা নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে চার দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেন।

চার দফা দাবি

এসপিজিআরসির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • উচ্ছেদকৃত ক্যাম্পবাসীদের স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করা;
  • স্থায়ী পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো ক্যাম্প উচ্ছেদ না করা;
  • পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পবাসীদের নাগরিক ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না করা;
  • সব ক্যাম্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জানমালের যথাযথ সুরক্ষা দেওয়া।

এসপিজিআরসির সৈয়দপুরের নেতা মোবারক বলেন, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হলেও নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি বলেন, এখনো ছোট কক্ষে অনেক মানুষকে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে। “আমরা করুণা চাই না, আমাদের মৌলিক অধিকার চাই”— দাবি করেন তিনি।

সংগঠনের নেতারা বলেন, নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বাস্তবে তারা অন্য নাগরিকদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্প উচ্ছেদের ঘটনাও ঘটছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

তাদের দাবি, নারায়ণগঞ্জে একটি ক্যাম্পের ২৫০ পরিবার উচ্ছেদের পরও স্থায়ী পুনর্বাসন না হওয়ায় পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বিদ্যুৎ সুবিধার বিষয়ে নেতারা বলেন, তারা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ চান না। অন্যান্য নাগরিকের মতো তারাও নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল দিতে প্রস্তুত। তবে এর পাশাপাশি অন্যান্য নাগরিকের মতো প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে সকাল থেকেই সৈয়দপুরের বাঁশবাড়ি এলাকায় এসপিজিআরসি কার্যালয়ে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে লোকজন জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা সংগঠিতভাবে লংমার্চ নিয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন।

এসপিজিআরসি নেতারা জানান, শুধু সৈয়দপুর নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এসব কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। একই স্মারকলিপি কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় লংমার্চ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়ার কথাও জানান তারা।

Image

#স্থায়ী_পুনর্বাসন #উর্দুভাষীদের_লংমার্চ #নাগরিক_অধিকার

চেকপোস্ট

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


নীলফামারীতে চার দফা দাবিতে উর্দুভাষীদের লংমার্চ, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

স্থায়ী পুনর্বাসন, নাগরিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতসহ চার দফা দাবিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে লংমার্চ করেছেন বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর কয়েকশ মানুষ। পরে তারা নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ি এলাকার স্ট্র্যান্ডেড পিপলস জেনারেল রিহ্যাবিলিটেশন কমিটি (এসপিজিআরসি) কার্যালয় থেকে লংমার্চ শুরু হয়। অটোরিকশাযোগে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অংশগ্রহণকারীরা নীলফামারী জেলা শহরের উদ্দেশে রওনা হন।

বাংলাদেশে বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন এসপিজিআরসির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সৈয়দপুর শহরের ২২টি ক্যাম্পের বাসিন্দারা অংশ নেন। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

পরে তারা নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে চার দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেন।

চার দফা দাবি

এসপিজিআরসির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • উচ্ছেদকৃত ক্যাম্পবাসীদের স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করা;
  • স্থায়ী পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো ক্যাম্প উচ্ছেদ না করা;
  • পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পবাসীদের নাগরিক ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না করা;
  • সব ক্যাম্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জানমালের যথাযথ সুরক্ষা দেওয়া।

এসপিজিআরসির সৈয়দপুরের নেতা মোবারক বলেন, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হলেও নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি বলেন, এখনো ছোট কক্ষে অনেক মানুষকে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে। “আমরা করুণা চাই না, আমাদের মৌলিক অধিকার চাই”— দাবি করেন তিনি।

সংগঠনের নেতারা বলেন, নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বাস্তবে তারা অন্য নাগরিকদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্প উচ্ছেদের ঘটনাও ঘটছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

তাদের দাবি, নারায়ণগঞ্জে একটি ক্যাম্পের ২৫০ পরিবার উচ্ছেদের পরও স্থায়ী পুনর্বাসন না হওয়ায় পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বিদ্যুৎ সুবিধার বিষয়ে নেতারা বলেন, তারা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ চান না। অন্যান্য নাগরিকের মতো তারাও নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল দিতে প্রস্তুত। তবে এর পাশাপাশি অন্যান্য নাগরিকের মতো প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে সকাল থেকেই সৈয়দপুরের বাঁশবাড়ি এলাকায় এসপিজিআরসি কার্যালয়ে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে লোকজন জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা সংগঠিতভাবে লংমার্চ নিয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন।

এসপিজিআরসি নেতারা জানান, শুধু সৈয়দপুর নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এসব কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। একই স্মারকলিপি কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় লংমার্চ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়ার কথাও জানান তারা।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত