বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

বিশ্ব

ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি

লোহিত সাগরে তেল রপ্তানি বন্ধ, বিশ্ববাজারে বড় সংকটের শঙ্কা

লোহিত সাগরে তেল রপ্তানি বন্ধ, বিশ্ববাজারে বড় সংকটের শঙ্কা
প্রতীকী ছবি

হরমুজ প্রণালির পর এবার লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সংকট এবং তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ও অবরোধের কারণে লোহিত সাগর হয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১২ শতাংশ তেল পরিবহন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরশীল।

নিরাপত্তার কারণে অনেক তেলবাহী ট্যাঙ্কার এখন তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বা ট্র্যাকিং সংকেত বন্ধ রেখে চলাচল করছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের প্রকৃত চিত্র পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনাল ইয়ানবু থেকে ‘ডার্ক ভয়েজ’ পদ্ধতিতে তেল পরিবহনের তথ্য সামনে এসেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিশ্ব তেল বাজারে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা বাড়ছে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) জানিয়েছে, চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী দৈনিক তেল সরবরাহ ৪৩ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর আগে সংস্থাটি ৩৭ লাখ ব্যারেল ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছিল।

আইইএর নতুন হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্বে মোট দৈনিক তেল সরবরাহ প্রায় ১০ কোটি ২০ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসতে পারে, যা তাদের সর্বনিম্ন পূর্বাভাসগুলোর একটি।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কারণ জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এর প্রভাব সরাসরি পড়বে।

হুতি গোষ্ঠী গত ২০ জুলাই নতুন সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর সৌদি সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কার, ইয়ানবু অবকাঠামো এবং জাজান তেল শোধনাগার ঘিরে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এদিকে জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থাগুলোর তথ্যেও তেল পরিবহনে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলে পরিবাহিত তেলের বড় অংশ বর্তমানে এআইএস সংকেত ছাড়াই চলছে।

পরিস্থিতির কারণে অনেক ট্যাঙ্কার অপারেটর বাব আল-মান্দেব এড়িয়ে বিকল্প উত্তর রুট ব্যবহার করছে। সুয়েজ খাল ও সুমেড পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপ ও বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হলে তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে।

#তেল_বাজার #বিশ্ব_অর্থনীতি #লোহিত_সাগর_সংকট

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


লোহিত সাগরে তেল রপ্তানি বন্ধ, বিশ্ববাজারে বড় সংকটের শঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালির পর এবার লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সংকট এবং তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ও অবরোধের কারণে লোহিত সাগর হয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১২ শতাংশ তেল পরিবহন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরশীল।

নিরাপত্তার কারণে অনেক তেলবাহী ট্যাঙ্কার এখন তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বা ট্র্যাকিং সংকেত বন্ধ রেখে চলাচল করছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের প্রকৃত চিত্র পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনাল ইয়ানবু থেকে ‘ডার্ক ভয়েজ’ পদ্ধতিতে তেল পরিবহনের তথ্য সামনে এসেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিশ্ব তেল বাজারে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা বাড়ছে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) জানিয়েছে, চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী দৈনিক তেল সরবরাহ ৪৩ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর আগে সংস্থাটি ৩৭ লাখ ব্যারেল ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছিল।

আইইএর নতুন হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্বে মোট দৈনিক তেল সরবরাহ প্রায় ১০ কোটি ২০ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসতে পারে, যা তাদের সর্বনিম্ন পূর্বাভাসগুলোর একটি।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কারণ জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এর প্রভাব সরাসরি পড়বে।

হুতি গোষ্ঠী গত ২০ জুলাই নতুন সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর সৌদি সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কার, ইয়ানবু অবকাঠামো এবং জাজান তেল শোধনাগার ঘিরে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এদিকে জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থাগুলোর তথ্যেও তেল পরিবহনে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলে পরিবাহিত তেলের বড় অংশ বর্তমানে এআইএস সংকেত ছাড়াই চলছে।

পরিস্থিতির কারণে অনেক ট্যাঙ্কার অপারেটর বাব আল-মান্দেব এড়িয়ে বিকল্প উত্তর রুট ব্যবহার করছে। সুয়েজ খাল ও সুমেড পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপ ও বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হলে তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত