শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

মাহফিলের কথা বলে ডেকে নিয়ে মাদরাসা শিক্ষককে ব্ল্যাকমেইল

মাহফিলের কথা বলে ডেকে নিয়ে মাদরাসা শিক্ষককে ব্ল্যাকমেইল
ছবি: চেকপোস্ট

রাজশাহীর এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় দোয়ার মাহফিলে আমন্ত্রণের কথা বলে এক মাদরাসা শিক্ষককে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. গোলাম মোস্তফা (৫২)। তিনি পবা উপজেলার পুঠিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

গোলাম মোস্তফা জানান, চলতি বছরের ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীসহ কয়েকজন পুরুষ ফোন করে তাঁদের বাড়িতে আয়োজিত দোয়ার মাহফিলে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। সরল বিশ্বাসে ১৯ জানুয়ারি রাতে তিনি এয়ারপোর্ট থানার একটি নির্দিষ্ট স্থানে যান। সেখানে পৌঁছালে এক নারী ও এক পুরুষ তাঁকে কৌশলে একটি দোতলা বাড়িতে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই বাড়িতে আগে থেকে থাকা ৪-৫ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক তাঁর পোশাক খুলে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে এসব ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়।

ঘটনার সময় কৌশলে ছেলেকে ফোন করে বিষয়টি জানান গোলাম মোস্তফা। পরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে বিষয়টি জানালে অভিযুক্তরা পুলিশকে অবহিত করার বিষয়টি টের পেয়ে তাঁকে ছেড়ে দেয় বলে দাবি করেন তিনি।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই শিক্ষক। তবে অভিযোগের পর দীর্ঘ সময়েও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।

গোলাম মোস্তফা আরও অভিযোগ করেন, গত ২ সেপ্টেম্বর চক্রটি আবার সক্রিয় হয়। ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে ফোন করে আগের ভিডিওর কথা বলে তাঁর কাছে পুনরায় অর্থ দাবি করা হয়। চপল, শাহীন সাগর ও রাজিব নামের কয়েকজন তাঁকে বারবার দেখা করতে বলেন এবং ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

গোলাম মোস্তফার দাবি, প্রকাশিত ভিডিও পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে একটি চক্রের সঙ্গে আঁতাত করে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। জালিয়াতি ও ব্ল্যাকমেইলে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

#রাজশাহী #ব্ল্যাকমেইল #মাদরাসাশিক্ষক

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মাহফিলের কথা বলে ডেকে নিয়ে মাদরাসা শিক্ষককে ব্ল্যাকমেইল

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজশাহীর এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় দোয়ার মাহফিলে আমন্ত্রণের কথা বলে এক মাদরাসা শিক্ষককে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. গোলাম মোস্তফা (৫২)। তিনি পবা উপজেলার পুঠিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

গোলাম মোস্তফা জানান, চলতি বছরের ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীসহ কয়েকজন পুরুষ ফোন করে তাঁদের বাড়িতে আয়োজিত দোয়ার মাহফিলে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। সরল বিশ্বাসে ১৯ জানুয়ারি রাতে তিনি এয়ারপোর্ট থানার একটি নির্দিষ্ট স্থানে যান। সেখানে পৌঁছালে এক নারী ও এক পুরুষ তাঁকে কৌশলে একটি দোতলা বাড়িতে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই বাড়িতে আগে থেকে থাকা ৪-৫ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক তাঁর পোশাক খুলে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে এসব ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়।

ঘটনার সময় কৌশলে ছেলেকে ফোন করে বিষয়টি জানান গোলাম মোস্তফা। পরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে বিষয়টি জানালে অভিযুক্তরা পুলিশকে অবহিত করার বিষয়টি টের পেয়ে তাঁকে ছেড়ে দেয় বলে দাবি করেন তিনি।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই শিক্ষক। তবে অভিযোগের পর দীর্ঘ সময়েও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।

গোলাম মোস্তফা আরও অভিযোগ করেন, গত ২ সেপ্টেম্বর চক্রটি আবার সক্রিয় হয়। ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে ফোন করে আগের ভিডিওর কথা বলে তাঁর কাছে পুনরায় অর্থ দাবি করা হয়। চপল, শাহীন সাগর ও রাজিব নামের কয়েকজন তাঁকে বারবার দেখা করতে বলেন এবং ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

গোলাম মোস্তফার দাবি, প্রকাশিত ভিডিও পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে একটি চক্রের সঙ্গে আঁতাত করে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। জালিয়াতি ও ব্ল্যাকমেইলে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত