প্রকৃতির অন্যতম পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে পরিচিত শকুন আজ বাংলাদেশে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। মৃত প্রাণীর দেহ দ্রুত অপসারণ করে রোগ-জীবাণুর বিস্তার রোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই পাখির ভূমিকা অপরিসীম। অথচ ওষুধের বিষক্রিয়া, আবাসস্থল ধ্বংস এবং খাদ্য সংকটের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে শকুনের সংখ্যা।
বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ১৮ প্রজাতির শকুন রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া যায় ৬ প্রজাতি। এসবের মধ্যে বাংলা শকুন (Gyps bengalensis) সবচেয়ে পরিচিত এবং বর্তমানে মহাবিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, একসময় দেশের প্রায় সব এলাকাতেই শকুন দেখা গেলেও বর্তমানে বাংলাদেশে সব মিলিয়ে তিনশটিরও কম শকুন টিকে আছে। এখন মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জের কালেঙ্গা বন এবং সুন্দরবন এলাকায় তুলনামূলকভাবে কিছু শকুনের দেখা মেলে। সরকার এসব এলাকাকে শকুনের নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে।
শকুন সাধারণত বট, ডুমুরসহ বড় গাছে বাসা বাঁধে এবং বছরে একটি মাত্র ডিম পাড়ে। সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ তাদের প্রজনন মৌসুম। মৃত প্রাণীর মাংস খেয়ে বেঁচে থাকা এই পাখি পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শকুন বিলুপ্তির সবচেয়ে বড় কারণ গবাদিপশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রোফেন জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ। এসব ওষুধ প্রয়োগ করা পশু মারা গেলে তাদের দেহ খাওয়ার পর শকুনের কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যু ঘটে। পরিবেশবাদীদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর বাংলাদেশে ২০১০ সালে ডাইক্লোফেনাক নিষিদ্ধ করা হলেও এখনো এর অবৈধ ব্যবহার ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম শনিবার বিশ্ব শকুন দিবস পালনের মাধ্যমে শকুন সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাইক্লোফেনাকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত, বড় গাছ সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই উপকারী পাখিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকৃতির অন্যতম পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে পরিচিত শকুন আজ বাংলাদেশে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। মৃত প্রাণীর দেহ দ্রুত অপসারণ করে রোগ-জীবাণুর বিস্তার রোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই পাখির ভূমিকা অপরিসীম। অথচ ওষুধের বিষক্রিয়া, আবাসস্থল ধ্বংস এবং খাদ্য সংকটের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে শকুনের সংখ্যা।
বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ১৮ প্রজাতির শকুন রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া যায় ৬ প্রজাতি। এসবের মধ্যে বাংলা শকুন (Gyps bengalensis) সবচেয়ে পরিচিত এবং বর্তমানে মহাবিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, একসময় দেশের প্রায় সব এলাকাতেই শকুন দেখা গেলেও বর্তমানে বাংলাদেশে সব মিলিয়ে তিনশটিরও কম শকুন টিকে আছে। এখন মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জের কালেঙ্গা বন এবং সুন্দরবন এলাকায় তুলনামূলকভাবে কিছু শকুনের দেখা মেলে। সরকার এসব এলাকাকে শকুনের নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে।
শকুন সাধারণত বট, ডুমুরসহ বড় গাছে বাসা বাঁধে এবং বছরে একটি মাত্র ডিম পাড়ে। সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ তাদের প্রজনন মৌসুম। মৃত প্রাণীর মাংস খেয়ে বেঁচে থাকা এই পাখি পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শকুন বিলুপ্তির সবচেয়ে বড় কারণ গবাদিপশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রোফেন জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ। এসব ওষুধ প্রয়োগ করা পশু মারা গেলে তাদের দেহ খাওয়ার পর শকুনের কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যু ঘটে। পরিবেশবাদীদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর বাংলাদেশে ২০১০ সালে ডাইক্লোফেনাক নিষিদ্ধ করা হলেও এখনো এর অবৈধ ব্যবহার ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম শনিবার বিশ্ব শকুন দিবস পালনের মাধ্যমে শকুন সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাইক্লোফেনাকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত, বড় গাছ সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই উপকারী পাখিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
