প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত কক্সবাজার। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি জেলার সবুজ পাহাড়গুলোও এই অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে গত কয়েক বছরে নগরায়ণ, আবাসন প্রকল্প, সড়ক উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ বাড়ছে।
বর্ষা মৌসুমে এসব অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাতের আঁধার, ছুটির দিন কিংবা ভারী বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে একটি চক্র পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নিচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নজর এড়াতে দ্রুত এক্সকাভেটর ও ট্রাক ব্যবহার করে মাটি অপসারণ করা হয়। পরে অনেক ক্ষেত্রে কাটার চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়।
পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কলিম উল্লাহ বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালিত হলেও দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও কার্যকর আইন প্রয়োগের অভাবে একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা, খুরুশকুল, লিংক রোড, কলাতলী, ঈদগাঁওসহ কয়েকটি এলাকায় পাহাড় কাটার ঘটনা আলোচনায় এসেছে। তবে প্রতিটি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক এলাকায় পাহাড় কেটে আবাসন প্রকল্প, বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ কিংবা জমি ভরাটের জন্য মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ছোট ছোট টিলা ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে পাহাড় কাটার ঘটনা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টিতে প্রাকৃতিক ক্ষয় ও অবৈধ কাটার চিহ্ন অনেক সময় একাকার হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিয়মিত তদারকিও বাধাগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতের বেলায় এক্সকাভেটর, ট্রাক ও ডাম্পার ব্যবহার করে দ্রুত মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। ভোর হওয়ার আগেই এসব যানবাহন এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
কক্সবাজারে অতীতের ভূমিধসের ঘটনাগুলো পাহাড় ধ্বংসের ভয়াবহ পরিণতি সামনে এনেছে। পাহাড় কাটার কারণে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। অপরাধ প্রমাণিত হলে জরিমানা, কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
তবে পরিবেশবিদদের প্রশ্ন আইন থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠছে? কার্যকর নজরদারি ও কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে কক্সবাজারের পাহাড় রক্ষা করা সম্ভব কি না, এখন সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ।

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত কক্সবাজার। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি জেলার সবুজ পাহাড়গুলোও এই অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে গত কয়েক বছরে নগরায়ণ, আবাসন প্রকল্প, সড়ক উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ বাড়ছে।
বর্ষা মৌসুমে এসব অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাতের আঁধার, ছুটির দিন কিংবা ভারী বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে একটি চক্র পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নিচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নজর এড়াতে দ্রুত এক্সকাভেটর ও ট্রাক ব্যবহার করে মাটি অপসারণ করা হয়। পরে অনেক ক্ষেত্রে কাটার চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়।
পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কলিম উল্লাহ বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালিত হলেও দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও কার্যকর আইন প্রয়োগের অভাবে একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা, খুরুশকুল, লিংক রোড, কলাতলী, ঈদগাঁওসহ কয়েকটি এলাকায় পাহাড় কাটার ঘটনা আলোচনায় এসেছে। তবে প্রতিটি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক এলাকায় পাহাড় কেটে আবাসন প্রকল্প, বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ কিংবা জমি ভরাটের জন্য মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ছোট ছোট টিলা ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে পাহাড় কাটার ঘটনা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টিতে প্রাকৃতিক ক্ষয় ও অবৈধ কাটার চিহ্ন অনেক সময় একাকার হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিয়মিত তদারকিও বাধাগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতের বেলায় এক্সকাভেটর, ট্রাক ও ডাম্পার ব্যবহার করে দ্রুত মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। ভোর হওয়ার আগেই এসব যানবাহন এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
কক্সবাজারে অতীতের ভূমিধসের ঘটনাগুলো পাহাড় ধ্বংসের ভয়াবহ পরিণতি সামনে এনেছে। পাহাড় কাটার কারণে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। অপরাধ প্রমাণিত হলে জরিমানা, কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
তবে পরিবেশবিদদের প্রশ্ন আইন থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠছে? কার্যকর নজরদারি ও কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে কক্সবাজারের পাহাড় রক্ষা করা সম্ভব কি না, এখন সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ।
