বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

খেলা

৫ বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সুযোগ

ফিফার স্বীকৃতি পেল আফগান নারী শরণার্থী ফুটবল দল

ফিফার স্বীকৃতি পেল আফগান নারী শরণার্থী ফুটবল দল
আফগান নারী শরনার্থী দল, ছবি: সংগৃহীত

প্রায় পাঁচ বছর নির্বাসিত জীবনের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সুযোগ পেল আফগানিস্তানের নারী ফুটবলাররা। আফগান নারী শরণার্থী দলকে আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

মঙ্গলবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন নিয়মের আওতায় আফগান উইমেন ইউনাইটেড নামে পরিচিত দলটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে ফিফা। ফলে দলটি এখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আফগানিস্তানের নারী ফুটবল দল হিসেবে অংশ নিতে পারবে।

যদিও ২০২৭ নারী বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার সময় তাদের হাতে নেই, তবে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের বাছাইপর্বে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ফিফা সভাপতি  এক বিবৃতিতে বলেন, আফগান উইমেন ইউনাইটেডের এই যাত্রা নিয়ে ফিফা গর্বিত। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতে যেসব দেশের নারী দল নানা কারণে আন্তর্জাতিকভাবে নিবন্ধিত হতে পারছে না, তাদের জন্যও এই উদ্যোগ নতুন পথ দেখাবে।

আফগান নারী ফুটবলারদের স্বীকৃতির লড়াইয়ে বড় অগ্রগতি আসে গত অক্টোবরে। তখন মরক্কোয় চাদ, লিবিয়া ও তিউনিসিয়াকে নিয়ে আয়োজিত একটি টুর্নামেন্টে অংশ নেয় আফগান শরণার্থী দল। দীর্ঘদিন ধরে সাবেক অধিনায়ক ও অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রচেষ্টার ফলেই ফিফার এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

খালিদা পোপাল বলেন, পাঁচ বছর ধরে আমাদের বলা হয়েছিল আফগান নারী দল আর কখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরতে পারবে না। আজকের এই সিদ্ধান্ত শুধু আফগান নারীদের জন্য নয়, ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতিতে পড়া অন্য দলগুলোর জন্যও বড় জয়।

বর্তমানে ৮০ জনের বেশি আফগান নারী শরণার্থী ফুটবলার অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় তাদের জন্য দুটি প্রস্তুতি ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। কোচ পলিন হ্যামিলের অধীনে দলটি জুন মাসের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে।

আফগানিস্তানের নারী ফুটবল দল সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিল ২০১৮ সালে। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর দেশটিতে নারীদের খেলাধুলা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক নারী ফুটবলার দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

এদিকে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার আগেও আফগান নারী ফুটবলে নানা সংকট ছিল। আফগানিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে নারী ফুটবলারদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পরে ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি কে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে ফিফা।

#আফগান_নারী_ফুটবল #ফিফা #WomenFootball

চেকপোস্ট

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


ফিফার স্বীকৃতি পেল আফগান নারী শরণার্থী ফুটবল দল

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

প্রায় পাঁচ বছর নির্বাসিত জীবনের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সুযোগ পেল আফগানিস্তানের নারী ফুটবলাররা। আফগান নারী শরণার্থী দলকে আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

মঙ্গলবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন নিয়মের আওতায় আফগান উইমেন ইউনাইটেড নামে পরিচিত দলটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে ফিফা। ফলে দলটি এখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আফগানিস্তানের নারী ফুটবল দল হিসেবে অংশ নিতে পারবে।

যদিও ২০২৭ নারী বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার সময় তাদের হাতে নেই, তবে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের বাছাইপর্বে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ফিফা সভাপতি  এক বিবৃতিতে বলেন, আফগান উইমেন ইউনাইটেডের এই যাত্রা নিয়ে ফিফা গর্বিত। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতে যেসব দেশের নারী দল নানা কারণে আন্তর্জাতিকভাবে নিবন্ধিত হতে পারছে না, তাদের জন্যও এই উদ্যোগ নতুন পথ দেখাবে।

আফগান নারী ফুটবলারদের স্বীকৃতির লড়াইয়ে বড় অগ্রগতি আসে গত অক্টোবরে। তখন মরক্কোয় চাদ, লিবিয়া ও তিউনিসিয়াকে নিয়ে আয়োজিত একটি টুর্নামেন্টে অংশ নেয় আফগান শরণার্থী দল। দীর্ঘদিন ধরে সাবেক অধিনায়ক ও অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রচেষ্টার ফলেই ফিফার এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

খালিদা পোপাল বলেন, পাঁচ বছর ধরে আমাদের বলা হয়েছিল আফগান নারী দল আর কখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরতে পারবে না। আজকের এই সিদ্ধান্ত শুধু আফগান নারীদের জন্য নয়, ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতিতে পড়া অন্য দলগুলোর জন্যও বড় জয়।

বর্তমানে ৮০ জনের বেশি আফগান নারী শরণার্থী ফুটবলার অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় তাদের জন্য দুটি প্রস্তুতি ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। কোচ পলিন হ্যামিলের অধীনে দলটি জুন মাসের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে।

আফগানিস্তানের নারী ফুটবল দল সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিল ২০১৮ সালে। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর দেশটিতে নারীদের খেলাধুলা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক নারী ফুটবলার দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

এদিকে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার আগেও আফগান নারী ফুটবলে নানা সংকট ছিল। আফগানিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে নারী ফুটবলারদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পরে ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি কে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে ফিফা।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত