মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

বিশ্ব

নারী ভোটে ধস, দুর্নীতি-অসন্তোষে বিপর্যয়

পশ্চিমবঙ্গে মমতার ভরাডুবি, নিজস্ব ভুলেই কি হার?

পশ্চিমবঙ্গে মমতার ভরাডুবি, নিজস্ব ভুলেই কি হার?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরও পরাজয় মানতে নারাজ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় বিজেপি অন্তত ১০০টি আসন লুট করেছে।

মঙ্গলবার ৫ মে বিকেল ৪টায় কলকাতার কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলনে মমতা ও অভিষেক ব্যানার্জি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

যদিও নির্বাচনের ফল বলছে, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ সত্ত্বেও এই বাস্তবতা বদলাচ্ছে না।

বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণে মমতা সরকারের পরাজয়ের পেছনে পাঁচটি বড় কারণ উঠে এসেছে

১. নারী ভোট ব্যাংকে ধস
দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডার কন্যাশ্রী সহ বিভিন্ন প্রকল্পে নারী ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছিল তৃণমূল। তবে নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে ব্যর্থতা সেই ভোটব্যাংকে ফাটল ধরিয়েছে।

২. ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব (SIR)
ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ পড়ার ঘটনায় তৃণমূল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে।

৩. দুর্নীতি ও শাসনব্যর্থতা
১৫ বছরের শাসনে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ, কাটমানি এবং কর্মসংস্থানের অভাব জনঅসন্তোষ বাড়িয়েছে। শেষ মুহূর্তের ভাতা ঘোষণা এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারেনি।

৪. ধর্মীয় মেরুকরণ
মুসলিম ভোটের ওপর নির্ভরশীলতা থাকলেও এবার হিন্দু ভোট একদিকে ঝুঁকেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। এতে লাভবান হয়েছে বিজেপি।

৫. প্রশাসনিক সুবিধা না পাওয়া
নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ও প্রশাসনে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিয়ন্ত্রণে তৃণমূল অতীতের মতো বাড়তি সুবিধা পায়নি।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর জনঅসন্তোষ, রাজনৈতিক কৌশলের ব্যর্থতা এবং নির্বাচনি বাস্তবতার সমন্বয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে।

#পশ্চিমবঙ্গনির্বাচন #বিজেপি #মমতাব্যানার্জি

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে মমতার ভরাডুবি, নিজস্ব ভুলেই কি হার?

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরও পরাজয় মানতে নারাজ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় বিজেপি অন্তত ১০০টি আসন লুট করেছে।

মঙ্গলবার ৫ মে বিকেল ৪টায় কলকাতার কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলনে মমতা ও অভিষেক ব্যানার্জি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

যদিও নির্বাচনের ফল বলছে, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ সত্ত্বেও এই বাস্তবতা বদলাচ্ছে না।

বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণে মমতা সরকারের পরাজয়ের পেছনে পাঁচটি বড় কারণ উঠে এসেছে

১. নারী ভোট ব্যাংকে ধস
দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডার কন্যাশ্রী সহ বিভিন্ন প্রকল্পে নারী ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছিল তৃণমূল। তবে নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে ব্যর্থতা সেই ভোটব্যাংকে ফাটল ধরিয়েছে।

২. ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব (SIR)
ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ পড়ার ঘটনায় তৃণমূল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে।

৩. দুর্নীতি ও শাসনব্যর্থতা
১৫ বছরের শাসনে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ, কাটমানি এবং কর্মসংস্থানের অভাব জনঅসন্তোষ বাড়িয়েছে। শেষ মুহূর্তের ভাতা ঘোষণা এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারেনি।

৪. ধর্মীয় মেরুকরণ
মুসলিম ভোটের ওপর নির্ভরশীলতা থাকলেও এবার হিন্দু ভোট একদিকে ঝুঁকেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। এতে লাভবান হয়েছে বিজেপি।

৫. প্রশাসনিক সুবিধা না পাওয়া
নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ও প্রশাসনে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিয়ন্ত্রণে তৃণমূল অতীতের মতো বাড়তি সুবিধা পায়নি।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর জনঅসন্তোষ, রাজনৈতিক কৌশলের ব্যর্থতা এবং নির্বাচনি বাস্তবতার সমন্বয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত