রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনলাইন হাজিরা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এক প্রধান শিক্ষক। মোবাইল নেটওয়ার্ক না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আমগাছে উঠে হাজিরা পাঠাতে বাধ্য হন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের অনলাইন হাজিরা কার্যক্রমের প্রথম দিন সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) সকালে এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর নিয়ম চালু করা হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত এই বিদ্যালয়ে কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় তিনি বিপাকে পড়েন।
বিদ্যালয়টি দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচু এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ছাদেও নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি। এরপর তিনি পাহাড়ের চূড়ায় ওঠেন, কিন্তু সেখানেও সিগন্যাল না পেয়ে শেষে একটি আমগাছে ওঠেন।
প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, নেটওয়ার্ক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত গাছে উঠে সংযোগ পেয়েছি। চাকরি ও দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতায় এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিতে হয়েছে।
ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই দুর্গম এলাকায় অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় বিকল্প পদ্ধতির দাবি জানিয়েছেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৮টি বিদ্যালয় থেকে অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক আছে সেখান থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ধীরে ধীরে এই ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার এই ঘটনা আবারও অনলাইন সেবার বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও নেটওয়ার্ক সমস্যার বিষয়টি সামনে এনেছে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনলাইন হাজিরা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এক প্রধান শিক্ষক। মোবাইল নেটওয়ার্ক না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আমগাছে উঠে হাজিরা পাঠাতে বাধ্য হন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের অনলাইন হাজিরা কার্যক্রমের প্রথম দিন সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) সকালে এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর নিয়ম চালু করা হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত এই বিদ্যালয়ে কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় তিনি বিপাকে পড়েন।
বিদ্যালয়টি দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচু এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ছাদেও নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি। এরপর তিনি পাহাড়ের চূড়ায় ওঠেন, কিন্তু সেখানেও সিগন্যাল না পেয়ে শেষে একটি আমগাছে ওঠেন।
প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, নেটওয়ার্ক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত গাছে উঠে সংযোগ পেয়েছি। চাকরি ও দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতায় এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিতে হয়েছে।
ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই দুর্গম এলাকায় অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় বিকল্প পদ্ধতির দাবি জানিয়েছেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৮টি বিদ্যালয় থেকে অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক আছে সেখান থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ধীরে ধীরে এই ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার এই ঘটনা আবারও অনলাইন সেবার বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও নেটওয়ার্ক সমস্যার বিষয়টি সামনে এনেছে।
