ঈদুল আজহা উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী পাটগাতী পশুর হাটে অজস্র পশুর আমদানি হলেও এবার বেচাকেনা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় নেই আগের মতো ঈদের আমেজ।
মধুমতি নদীর পাড়ে শেখ লুৎফর রহমান সেতুর নিচের মাঠজুড়ে বসা এই হাটে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে খামারিরা গরু, মহিষ, ছাগল, খাসি ও ভেড়া নিয়ে আসছেন। তবে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বেচাকেনা নিম্নমুখী বলে জানান বিক্রেতারা।
খামারিরা বলছেন, এবার হাটের পরিবেশ অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই নিস্তেজ। ক্রেতা সংকটে তারা আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না। ফলে অনেকেই লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন।
ওমর আলী ফকির নামের এক বিক্রেতা বলেন, প্রতিবছর এই হাটে ব্যাপক সরগরম থাকে, কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেকটাই নিস্তেজ।
আব্দুল মাজেদ নামের আরেক খামারি জানান, উচ্চমূল্যের খাদ্যসামগ্রী খাইয়ে তিনি পাঁচটি পশু প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু বর্তমান বাজারে লাভ তো দূরের কথা, খরচ ওঠানো নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
হাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি পশু বিক্রিতে সরকার নির্ধারিত ২ টাকা ৫০ পয়সা হারে খাজনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।
পশুদের চিকিৎসা সেবায় উপজেলা ভেটেরিনারি টিমও কাজ করছে। হাটটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ বিশ্বাস জানান, উপজেলায় কোরবানির চাহিদা ৪ হাজার ১২২টি পশু, অথচ প্রস্তুত রয়েছে ৪ হাজার ২৩৯টি পশু যা চাহিদার তুলনায় ১১৭টি বেশি। এর মধ্যে রয়েছে ষাঁড়, বলদ, গাভী, ছাগল ও ভেড়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় খামারভিত্তিক উৎপাদন বাড়ায় এখন বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরতা কমেছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বেশি হলেও বাজারে পশুর দাম তুলনামূলক কম থাকায় খামারিরা শঙ্কায় রয়েছেন।
তবে শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা বাড়বে এমন আশায় এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন বিক্রেতারা।

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
ঈদুল আজহা উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী পাটগাতী পশুর হাটে অজস্র পশুর আমদানি হলেও এবার বেচাকেনা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় নেই আগের মতো ঈদের আমেজ।
মধুমতি নদীর পাড়ে শেখ লুৎফর রহমান সেতুর নিচের মাঠজুড়ে বসা এই হাটে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে খামারিরা গরু, মহিষ, ছাগল, খাসি ও ভেড়া নিয়ে আসছেন। তবে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বেচাকেনা নিম্নমুখী বলে জানান বিক্রেতারা।
খামারিরা বলছেন, এবার হাটের পরিবেশ অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই নিস্তেজ। ক্রেতা সংকটে তারা আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না। ফলে অনেকেই লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন।
ওমর আলী ফকির নামের এক বিক্রেতা বলেন, প্রতিবছর এই হাটে ব্যাপক সরগরম থাকে, কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেকটাই নিস্তেজ।
আব্দুল মাজেদ নামের আরেক খামারি জানান, উচ্চমূল্যের খাদ্যসামগ্রী খাইয়ে তিনি পাঁচটি পশু প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু বর্তমান বাজারে লাভ তো দূরের কথা, খরচ ওঠানো নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
হাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি পশু বিক্রিতে সরকার নির্ধারিত ২ টাকা ৫০ পয়সা হারে খাজনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।
পশুদের চিকিৎসা সেবায় উপজেলা ভেটেরিনারি টিমও কাজ করছে। হাটটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ বিশ্বাস জানান, উপজেলায় কোরবানির চাহিদা ৪ হাজার ১২২টি পশু, অথচ প্রস্তুত রয়েছে ৪ হাজার ২৩৯টি পশু যা চাহিদার তুলনায় ১১৭টি বেশি। এর মধ্যে রয়েছে ষাঁড়, বলদ, গাভী, ছাগল ও ভেড়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় খামারভিত্তিক উৎপাদন বাড়ায় এখন বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরতা কমেছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বেশি হলেও বাজারে পশুর দাম তুলনামূলক কম থাকায় খামারিরা শঙ্কায় রয়েছেন।
তবে শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা বাড়বে এমন আশায় এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন বিক্রেতারা।
