মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

সিন্ডিকেটের দাপটে বাজারে অস্থিরতা

ছাতক-দোয়ারাবাজার সীমান্তে ভারতীয় গরু ঢল, ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় খামারিরা

ছাতক-দোয়ারাবাজার সীমান্তে ভারতীয় গরু ঢল, ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় খামারিরা
ছবি : চেকপোস্ট

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দোয়ারাবাজার সীমান্ত পেরিয়ে আসা এসব পশু ছাতকের সুরমা সেতু হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাত নামলেই সীমান্ত এলাকায় শুরু হয় গরু-মহিষের অবৈধ চালান আনার কার্যক্রম, যা এখন অনেকটা ওপেন সিক্রেট -এ পরিণত হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এসব পশু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। পরে বোগলাবাজার, নরসিংপুরসহ বিভিন্ন বাজারের রশিদ সংগ্রহ করে ভারতীয় পশুকে দেশীয় গরু হিসেবে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া, পেঁকপাড়া, ঝুমগাঁও, মোকামছড়া, ভোগলা ইউনিয়নের বাগানবাড়ি, গাছগড়া, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গাপাড়া ও মাঠগাঁও, বাশতলা সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত এসব এলাকায় দলে দলে গরু-মহিষ আনা হয় এবং পরে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হয়।

একাধিক খামারি অভিযোগ করেন, ভারতীয় পশুর অবাধ প্রবেশে দেশীয় খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে স্থানীয় খামার শিল্প বড় সংকটে পড়বে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত পার হওয়ার পর কম দামে কেনা এসব পশুর জন্য বাজার থেকে রশিদ সংগ্রহ করা হয়, যার মাধ্যমে এগুলোকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এর পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, অনেক সময় পুলিশের চেকপোস্টের সামন দিয়েই গরুভর্তি ট্রাক চলাচল করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ভারতীয় গরু প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাতক সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুহাম্মদ মুরসালিন জানান, বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তিন দিন ধরে অভিযান চলছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয় বিজিবির এখতিয়ারভুক্ত হলেও তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

#ছাতক #সীমান্ত #কোরবানিরহাট #দোয়ারাবাজার #খামারি

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


ছাতক-দোয়ারাবাজার সীমান্তে ভারতীয় গরু ঢল, ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় খামারিরা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দোয়ারাবাজার সীমান্ত পেরিয়ে আসা এসব পশু ছাতকের সুরমা সেতু হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাত নামলেই সীমান্ত এলাকায় শুরু হয় গরু-মহিষের অবৈধ চালান আনার কার্যক্রম, যা এখন অনেকটা ওপেন সিক্রেট -এ পরিণত হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এসব পশু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। পরে বোগলাবাজার, নরসিংপুরসহ বিভিন্ন বাজারের রশিদ সংগ্রহ করে ভারতীয় পশুকে দেশীয় গরু হিসেবে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া, পেঁকপাড়া, ঝুমগাঁও, মোকামছড়া, ভোগলা ইউনিয়নের বাগানবাড়ি, গাছগড়া, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গাপাড়া ও মাঠগাঁও, বাশতলা সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত এসব এলাকায় দলে দলে গরু-মহিষ আনা হয় এবং পরে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হয়।

একাধিক খামারি অভিযোগ করেন, ভারতীয় পশুর অবাধ প্রবেশে দেশীয় খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে স্থানীয় খামার শিল্প বড় সংকটে পড়বে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত পার হওয়ার পর কম দামে কেনা এসব পশুর জন্য বাজার থেকে রশিদ সংগ্রহ করা হয়, যার মাধ্যমে এগুলোকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এর পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, অনেক সময় পুলিশের চেকপোস্টের সামন দিয়েই গরুভর্তি ট্রাক চলাচল করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ভারতীয় গরু প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাতক সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুহাম্মদ মুরসালিন জানান, বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তিন দিন ধরে অভিযান চলছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয় বিজিবির এখতিয়ারভুক্ত হলেও তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত