সংসদের বাইরে রাজপথে শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে কয়েকটি মধ্যপন্থি, বামপন্থি ও ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল। তাদের দাবি, সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখতে জামায়াতে ইসলামী কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এ অবস্থায় বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, কার্যকর বিরোধী শক্তির অভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সেই শূন্যতা পূরণে সমমনা গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের মতবিনিময় শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে জামায়াতের বিকল্প ইসলামী মোর্চা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। ফলে একদিকে গণতান্ত্রিক জোট, অন্যদিকে ইসলামপন্থি জোট-দুই ধারাতেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত এমনভাবে রাজনীতি করছে যেন তারা সরকারি দলের অংশ। তাই সমমনা গণতান্ত্রিক দলগুলোকে নিয়ে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দেশে কার্যকর বিরোধী দলের অভাব স্পষ্ট। গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল দলগুলোকে নিয়ে একটি বিকল্প রাজনৈতিক জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হকও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কার্যকর বিরোধী শক্তির শূন্যতা রয়েছে। এ শূন্যতা পূরণে নতুন জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমিভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে অন্যান্য গণতান্ত্রিক দলের সঙ্গেও যুগপৎ আন্দোলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের গঠনমূলক সমালোচনা এবং বিরোধী জোট গঠনের উদ্যোগকে বিএনপি ইতিবাচকভাবেই দেখে।
অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দাবি করেন, সংসদ ও রাজপথ-উভয় ক্ষেত্রেই তাদের দল গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিকল্প বিরোধী শক্তির আবির্ভাব স্বাভাবিক। তবে জনগণের আস্থা অর্জন এবং শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করাই হবে নতুন উদ্যোগগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
সংসদের বাইরে রাজপথে শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে কয়েকটি মধ্যপন্থি, বামপন্থি ও ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল। তাদের দাবি, সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখতে জামায়াতে ইসলামী কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এ অবস্থায় বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, কার্যকর বিরোধী শক্তির অভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সেই শূন্যতা পূরণে সমমনা গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের মতবিনিময় শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে জামায়াতের বিকল্প ইসলামী মোর্চা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। ফলে একদিকে গণতান্ত্রিক জোট, অন্যদিকে ইসলামপন্থি জোট-দুই ধারাতেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত এমনভাবে রাজনীতি করছে যেন তারা সরকারি দলের অংশ। তাই সমমনা গণতান্ত্রিক দলগুলোকে নিয়ে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দেশে কার্যকর বিরোধী দলের অভাব স্পষ্ট। গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল দলগুলোকে নিয়ে একটি বিকল্প রাজনৈতিক জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হকও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কার্যকর বিরোধী শক্তির শূন্যতা রয়েছে। এ শূন্যতা পূরণে নতুন জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমিভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে অন্যান্য গণতান্ত্রিক দলের সঙ্গেও যুগপৎ আন্দোলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের গঠনমূলক সমালোচনা এবং বিরোধী জোট গঠনের উদ্যোগকে বিএনপি ইতিবাচকভাবেই দেখে।
অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দাবি করেন, সংসদ ও রাজপথ-উভয় ক্ষেত্রেই তাদের দল গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিকল্প বিরোধী শক্তির আবির্ভাব স্বাভাবিক। তবে জনগণের আস্থা অর্জন এবং শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করাই হবে নতুন উদ্যোগগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
