সবুজ চায়ের বাগান চোখ জুড়ালেও এর আড়ালে লুকিয়ে আছে চা শ্রমিকদের কঠিন বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের দিনে যখন বিশ্বজুড়ে শ্রমের মর্যাদা উদযাপিত হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা এখনও ন্যূনতম মজুরি ও মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
চা বাগানে কাজ করা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা এই পেশার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে যে মজুরি তারা পান, তা দিয়ে বর্তমান বাজারে একটি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব নয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে তাদের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে আরও কষ্টকর।
শুধু মজুরি নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন সুবিধার ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে। অধিকাংশ শ্রমিককে ভাঙাচোরা ঘরে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। উন্নত চিকিৎসা সেবা ও সন্তানের উচ্চশিক্ষার সুযোগের অভাবে তারা একই চক্রে আটকে পড়ছেন।
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, সারাদিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ করলেও দিন শেষে তাদের ভাগ্যে জোটে অবহেলা। একজন শ্রমিকের ভাষায়, আমরা অন্যকে চা খাইয়ে সতেজ রাখি, কিন্তু আমাদের জীবনটাই থেকে যায় তেতো।
শ্রমিকদের দাবি, তারা আর শুধু পর্যটকদের ক্যামেরায় বন্দি ‘সুখী মুখ’ হয়ে থাকতে চান না। তারা চান ন্যায্য মজুরি, উন্নত বাসস্থান, চিকিৎসা সুবিধা ও সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ।
চা শ্রমিক নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মজুরি বৃদ্ধি, ভূমির অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে এর খুব কমই বাস্তবায়ন হয়েছে। ফলে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
চা বোর্ডের তথ্যমতে, দেশে ১৬৭টি চা বাগান রয়েছে, যার বড় অংশ মৌলভীবাজারে। দেশের মোট চা উৎপাদনের প্রায় ৭৫ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। তবে এ খাতের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এখনও কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।
বর্তমানে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি প্রায় ১৭৮ টাকা ৫০ পয়সা, যা বাস্তবতার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। যদিও প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির কথা রয়েছে, তবুও তা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
সবুজ চায়ের বাগান চোখ জুড়ালেও এর আড়ালে লুকিয়ে আছে চা শ্রমিকদের কঠিন বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের দিনে যখন বিশ্বজুড়ে শ্রমের মর্যাদা উদযাপিত হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা এখনও ন্যূনতম মজুরি ও মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
চা বাগানে কাজ করা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা এই পেশার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে যে মজুরি তারা পান, তা দিয়ে বর্তমান বাজারে একটি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব নয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে তাদের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে আরও কষ্টকর।
শুধু মজুরি নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন সুবিধার ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে। অধিকাংশ শ্রমিককে ভাঙাচোরা ঘরে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। উন্নত চিকিৎসা সেবা ও সন্তানের উচ্চশিক্ষার সুযোগের অভাবে তারা একই চক্রে আটকে পড়ছেন।
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, সারাদিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ করলেও দিন শেষে তাদের ভাগ্যে জোটে অবহেলা। একজন শ্রমিকের ভাষায়, আমরা অন্যকে চা খাইয়ে সতেজ রাখি, কিন্তু আমাদের জীবনটাই থেকে যায় তেতো।
শ্রমিকদের দাবি, তারা আর শুধু পর্যটকদের ক্যামেরায় বন্দি ‘সুখী মুখ’ হয়ে থাকতে চান না। তারা চান ন্যায্য মজুরি, উন্নত বাসস্থান, চিকিৎসা সুবিধা ও সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ।
চা শ্রমিক নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মজুরি বৃদ্ধি, ভূমির অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে এর খুব কমই বাস্তবায়ন হয়েছে। ফলে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
চা বোর্ডের তথ্যমতে, দেশে ১৬৭টি চা বাগান রয়েছে, যার বড় অংশ মৌলভীবাজারে। দেশের মোট চা উৎপাদনের প্রায় ৭৫ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। তবে এ খাতের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এখনও কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।
বর্তমানে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি প্রায় ১৭৮ টাকা ৫০ পয়সা, যা বাস্তবতার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। যদিও প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির কথা রয়েছে, তবুও তা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
