রোববার, ৩১ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩,১০৮ টন

গোপালগঞ্জে ১৫ কোটি টাকার উচ্ছে বিক্রির আশা, বাড়ছে চাষাবাদ

গোপালগঞ্জে ১৫ কোটি টাকার উচ্ছে বিক্রির আশা, বাড়ছে চাষাবাদ
ছবি : চেকপোস্ট

গোপালগঞ্জে উৎপাদন খরচের তুলনায় বেশি লাভ হওয়ায় উচ্ছে চাষে কৃষকদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। স্বল্প সময়ে দীর্ঘমেয়াদি এ সবজির ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় জেলার কৃষকদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৪৮ হেক্টর জমিতে উচ্ছে চাষ হয়েছে। গত বছর এ আবাদ ছিল ১২৮ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ২০ হেক্টর জমিতে উচ্ছে চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রতি হেক্টরে ২০ থেকে ২২ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন উচ্ছে উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

জেলার সদর উপজেলার রঘুনাথপুর, সিলনা ও বারখাদিয়া এবং কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা, হাতিয়াড়া ও রাহুথড় এলাকায় ব্যাপকভাবে উচ্ছে চাষ হয়েছে। এসব এলাকার ক্ষেতজুড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে উচ্ছে। কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ফসল সংগ্রহে।

উৎপাদিত উচ্ছে জেলার চাহিদা পূরণ করে রাজধানী ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

কৃষকদের ভাষ্য, একবার গাছ রোপণ করলে প্রায় চার মাস পর্যন্ত উচ্ছে সংগ্রহ করা যায়। ভালো ফলন হলে প্রতি সপ্তাহে বিঘাপ্রতি প্রায় ৩০ মণ পর্যন্ত উচ্ছে পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি মণ উচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি বিঘা জমি থেকে মাসে প্রায় এক লাখ টাকার উচ্ছে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বারখাদিয়া গ্রামের কৃষক দুলাল হীরা জানান, এক বিঘা জমিতে উচ্ছে চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি ৮০ হাজার টাকার উচ্ছে বিক্রি করেছেন। ক্ষেতে এখনও প্রচুর ফল রয়েছে এবং আরও এক লাখ টাকার বেশি উচ্ছে বিক্রির আশা করছেন।

একই গ্রামের কৃষক রঞ্জিত ভক্ত জানান, ৩০ শতক জমিতে উচ্ছে চাষে তার খরচ হয়েছে ২২ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ৪৫ হাজার টাকার উচ্ছে বিক্রি করেছেন এবং আরও ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার উচ্ছে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

বারখাদিয়া বাজারের আড়তদার সমীর মজুমদার বলেন, প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি পিকআপে উচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি পাইকাররা সরাসরি এসে উচ্ছে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

বৌলতলী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, এ ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক কৃষক উচ্ছে চাষের সঙ্গে যুক্ত। কম খরচ ও অধিক লাভের কারণে কৃষকদের মধ্যে এ ফসলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছেন। সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলার কৃষকরা প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার উচ্ছে বিক্রি করতে সক্ষম হবেন।

#গোপালগঞ্জ #উচ্ছেচাষ #কৃষিসাফল্য

চেকপোস্ট

রোববার, ৩১ মে ২০২৬


গোপালগঞ্জে ১৫ কোটি টাকার উচ্ছে বিক্রির আশা, বাড়ছে চাষাবাদ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জে উৎপাদন খরচের তুলনায় বেশি লাভ হওয়ায় উচ্ছে চাষে কৃষকদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। স্বল্প সময়ে দীর্ঘমেয়াদি এ সবজির ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় জেলার কৃষকদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৪৮ হেক্টর জমিতে উচ্ছে চাষ হয়েছে। গত বছর এ আবাদ ছিল ১২৮ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ২০ হেক্টর জমিতে উচ্ছে চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রতি হেক্টরে ২০ থেকে ২২ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন উচ্ছে উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

জেলার সদর উপজেলার রঘুনাথপুর, সিলনা ও বারখাদিয়া এবং কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা, হাতিয়াড়া ও রাহুথড় এলাকায় ব্যাপকভাবে উচ্ছে চাষ হয়েছে। এসব এলাকার ক্ষেতজুড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে উচ্ছে। কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ফসল সংগ্রহে।

উৎপাদিত উচ্ছে জেলার চাহিদা পূরণ করে রাজধানী ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

কৃষকদের ভাষ্য, একবার গাছ রোপণ করলে প্রায় চার মাস পর্যন্ত উচ্ছে সংগ্রহ করা যায়। ভালো ফলন হলে প্রতি সপ্তাহে বিঘাপ্রতি প্রায় ৩০ মণ পর্যন্ত উচ্ছে পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি মণ উচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি বিঘা জমি থেকে মাসে প্রায় এক লাখ টাকার উচ্ছে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বারখাদিয়া গ্রামের কৃষক দুলাল হীরা জানান, এক বিঘা জমিতে উচ্ছে চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি ৮০ হাজার টাকার উচ্ছে বিক্রি করেছেন। ক্ষেতে এখনও প্রচুর ফল রয়েছে এবং আরও এক লাখ টাকার বেশি উচ্ছে বিক্রির আশা করছেন।

একই গ্রামের কৃষক রঞ্জিত ভক্ত জানান, ৩০ শতক জমিতে উচ্ছে চাষে তার খরচ হয়েছে ২২ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ৪৫ হাজার টাকার উচ্ছে বিক্রি করেছেন এবং আরও ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার উচ্ছে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

বারখাদিয়া বাজারের আড়তদার সমীর মজুমদার বলেন, প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি পিকআপে উচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি পাইকাররা সরাসরি এসে উচ্ছে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

বৌলতলী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, এ ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক কৃষক উচ্ছে চাষের সঙ্গে যুক্ত। কম খরচ ও অধিক লাভের কারণে কৃষকদের মধ্যে এ ফসলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছেন। সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলার কৃষকরা প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার উচ্ছে বিক্রি করতে সক্ষম হবেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত