গোপালগঞ্জে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোপালগঞ্জ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) কার্যালয় ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকে বিদ্যুৎ অফিস ও সঞ্চালনকেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা এবং বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন আশঙ্কায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ পৌর এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি। গ্রাহকদের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহের কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। দিনে ১২ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। তীব্র গরমের মধ্যে এমন পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো। ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চালাতে না পারায় ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান অনেকে।
ব্যবসায়ী মিলন সরকার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মুরসালিন ভুঁইয়া জানান, বিদ্যুৎনির্ভর কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করায় অতিরিক্ত খরচ বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে গ্রাহকদের ক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ওজোপাডিকো। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রকৌশলী নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
গোপালগঞ্জ ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ হওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেই কারণে বিদ্যুৎ অফিসে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।
গ্রাহকদের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়ে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে এনে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা হোক।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
গোপালগঞ্জে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোপালগঞ্জ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) কার্যালয় ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকে বিদ্যুৎ অফিস ও সঞ্চালনকেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা এবং বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন আশঙ্কায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ পৌর এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি। গ্রাহকদের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহের কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। দিনে ১২ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। তীব্র গরমের মধ্যে এমন পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো। ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চালাতে না পারায় ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান অনেকে।
ব্যবসায়ী মিলন সরকার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মুরসালিন ভুঁইয়া জানান, বিদ্যুৎনির্ভর কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করায় অতিরিক্ত খরচ বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে গ্রাহকদের ক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ওজোপাডিকো। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রকৌশলী নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
গোপালগঞ্জ ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ হওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেই কারণে বিদ্যুৎ অফিসে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।
গ্রাহকদের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়ে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে এনে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা হোক।
