বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্তের অভিযোগ

গোপালগঞ্জে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

গোপালগঞ্জে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি : চেকপোস্ট

সম্পদের উৎস, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ১০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল এলাকার বাসিন্দা জামিরুর রহমান (তুহিন) গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, প্রকাশক, উপদেষ্টা সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, প্রতিবেদক ও প্রতিনিধি মিলিয়ে মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত মে মাসে কয়েকজন সাংবাদিক বাদীর সম্পদের উৎস, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বাদীর দাবি, প্রকাশিত সংবাদগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ায় তিনি সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এছাড়া সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করলে আরও নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। বাদীর ভাষ্যমতে, একপর্যায়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি অর্থের জন্য চাপ অব্যাহত ছিল। এ ঘটনায় তিনি প্রায় এক কোটি টাকার মানহানির শিকার হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, মামলায় আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত, স্থানীয় অনুসন্ধান এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, অর্থ দাবি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্পৃক্ততা নেই।

অভিযুক্তদের ভাষ্য, প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সম্পদ অর্জন, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উঠে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি অপচেষ্টা।

সাংবাদিকরা বলেন, সত্য ও জনস্বার্থের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে আমরা বারবার চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছি। সংবাদ প্রকাশের কারণে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাই।

এদিকে ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

#সাংবাদিকতা #গোপালগঞ্জ #অনুসন্ধানী_প্রতিবেদন

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


গোপালগঞ্জে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

সম্পদের উৎস, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ১০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল এলাকার বাসিন্দা জামিরুর রহমান (তুহিন) গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, প্রকাশক, উপদেষ্টা সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, প্রতিবেদক ও প্রতিনিধি মিলিয়ে মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত মে মাসে কয়েকজন সাংবাদিক বাদীর সম্পদের উৎস, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বাদীর দাবি, প্রকাশিত সংবাদগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ায় তিনি সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এছাড়া সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করলে আরও নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। বাদীর ভাষ্যমতে, একপর্যায়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি অর্থের জন্য চাপ অব্যাহত ছিল। এ ঘটনায় তিনি প্রায় এক কোটি টাকার মানহানির শিকার হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, মামলায় আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত, স্থানীয় অনুসন্ধান এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, অর্থ দাবি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্পৃক্ততা নেই।

অভিযুক্তদের ভাষ্য, প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সম্পদ অর্জন, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উঠে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি অপচেষ্টা।

সাংবাদিকরা বলেন, সত্য ও জনস্বার্থের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে আমরা বারবার চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছি। সংবাদ প্রকাশের কারণে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাই।

এদিকে ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত