শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

তদন্তে প্রশাসন

গোচারণ ভূমি দখল নিয়ে বিরোধ, দিরাইয়ে হামলার অভিযোগ

গোচারণ ভূমি দখল নিয়ে বিরোধ, দিরাইয়ে হামলার অভিযোগ
ছবি : চেকপোস্ট

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে গোচারণ ভূমি দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের কিত্তাগাঁও গ্রামের প্রায় ২০ একর পতিত জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এ ঘটনায় হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা নির্মল তালুকদার (৫৯) ও মনোরঞ্জন তালুকদার (৫০)। তারা দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) হামলার ঘটনায় দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকারের কাছেও অভিযোগ দিয়েছেন নির্মল তালুকদার।

২০ একর জমি নিয়ে বিরোধ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রফিনগর ইউনিয়নের কিত্তাগাঁও ও সুনামপুর গ্রামের সংলগ্ন নয়াগাঁও মৌজার জেএল নম্বর-১০ এর ৩ নম্বর দাগের প্রায় ২০ একর পতিত জমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা খেলার মাঠ, গোচারণ ভূমি ও কৃষিকাজে ব্যবহার করে আসছেন।

বর্তমানে বর্ষার পানিতে নিমজ্জিত থাকা ওই জমিতে গত ২১ আগস্ট কয়েকজন ব্যক্তি স্টিলের নৌকায় ভিটেবালু, পাইপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে ভরাটের প্রস্তুতি নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা কাজ বন্ধ করে চলে যান এবং পরে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

হামলার অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়, পরদিন ২২ আগস্ট বাংলাবাজার এলাকায় নির্মল তালুকদার ও মনোরঞ্জন তালুকদারের ওপর দলবদ্ধ হামলা চালানো হয়।

এ সময় লোহার রড, কাঠের রোল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান দুইজন।

স্থানীয় বাসিন্দা পলাশ তালুকদার বলেন, প্রায় ১০০ বছর ধরে গ্রামের মানুষ এই জায়গা গোচারণ ভূমি, খেলার মাঠ ও কৃষিকাজের জন্য ব্যবহার করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দূরের একটি গ্রামের কয়েকজন লোক নৌকায় করে বালু এনে জমি দখলের চেষ্টা করেন।

তিনি আরও বলেন, বাধা দেওয়ার পর হুমকি দেওয়া হয় এবং পরে গ্রামের লোকজনকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।

অভিযুক্ত পক্ষের দাবি

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পক্ষের নুর হামিদ বলেন, জায়গাটি খাস জমি নয়। ২০১২ সালে ভাটিপাড়ার জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে তারা জমিটি কিনেছেন।

তিনি দাবি করেন, জমির মালিকানা নিয়ে তাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

#জমি_বিরোধ #সুনামগঞ্জ_সংবাদ #দিরাই

চেকপোস্ট

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গোচারণ ভূমি দখল নিয়ে বিরোধ, দিরাইয়ে হামলার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে গোচারণ ভূমি দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের কিত্তাগাঁও গ্রামের প্রায় ২০ একর পতিত জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এ ঘটনায় হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা নির্মল তালুকদার (৫৯) ও মনোরঞ্জন তালুকদার (৫০)। তারা দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) হামলার ঘটনায় দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকারের কাছেও অভিযোগ দিয়েছেন নির্মল তালুকদার।

২০ একর জমি নিয়ে বিরোধ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রফিনগর ইউনিয়নের কিত্তাগাঁও ও সুনামপুর গ্রামের সংলগ্ন নয়াগাঁও মৌজার জেএল নম্বর-১০ এর ৩ নম্বর দাগের প্রায় ২০ একর পতিত জমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা খেলার মাঠ, গোচারণ ভূমি ও কৃষিকাজে ব্যবহার করে আসছেন।

বর্তমানে বর্ষার পানিতে নিমজ্জিত থাকা ওই জমিতে গত ২১ আগস্ট কয়েকজন ব্যক্তি স্টিলের নৌকায় ভিটেবালু, পাইপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে ভরাটের প্রস্তুতি নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা কাজ বন্ধ করে চলে যান এবং পরে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

হামলার অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়, পরদিন ২২ আগস্ট বাংলাবাজার এলাকায় নির্মল তালুকদার ও মনোরঞ্জন তালুকদারের ওপর দলবদ্ধ হামলা চালানো হয়।

এ সময় লোহার রড, কাঠের রোল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান দুইজন।

স্থানীয় বাসিন্দা পলাশ তালুকদার বলেন, প্রায় ১০০ বছর ধরে গ্রামের মানুষ এই জায়গা গোচারণ ভূমি, খেলার মাঠ ও কৃষিকাজের জন্য ব্যবহার করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দূরের একটি গ্রামের কয়েকজন লোক নৌকায় করে বালু এনে জমি দখলের চেষ্টা করেন।

তিনি আরও বলেন, বাধা দেওয়ার পর হুমকি দেওয়া হয় এবং পরে গ্রামের লোকজনকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।

অভিযুক্ত পক্ষের দাবি

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পক্ষের নুর হামিদ বলেন, জায়গাটি খাস জমি নয়। ২০১২ সালে ভাটিপাড়ার জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে তারা জমিটি কিনেছেন।

তিনি দাবি করেন, জমির মালিকানা নিয়ে তাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত