শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

রাজনীতি

উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য

গণভোটের রায় না মানলে গণআন্দোলন: এনসিপির আখতার

গণভোটের রায় না মানলে গণআন্দোলন: এনসিপির আখতার
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার থেকে সরে এসে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেছেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে এবং একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করতে হবে। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে বিরোধী দলের চলমান আন্দোলন অদূর ভবিষ্যতে গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) জুলাই সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় এনসিপির অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য যেসব সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল, এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়। পরে ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটের অংশগ্রহণে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই সনদ তৈরি করা হয়। সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি দাবি করেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাই সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক না বাড়িয়ে জনগণের রায় কার্যকর করা উচিত। কিন্তু বিএনপি সরকার গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের জন্য একদলীয় কমিটি গঠন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আখতার বলেন, গণভোটের প্রশ্নে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, সংসদের উচ্চকক্ষ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের পৃথক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে পৌঁছানো সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব প্রস্তাবের কোনটি দেশের বা জনগণের জন্য ক্ষতিকর, তা সরকার স্পষ্ট করে বলতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য, জনগণই রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। তাই সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও গণভোটের রায় উপেক্ষা করার অধিকার সরকারের নেই।

জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, সরকার বারবার সনদটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না।

সনদের একটি শর্তের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে কোনো রাজনৈতিক দল কোনো বিষয় উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে সে বিষয়ে নিজস্ব ব্যবস্থা নিতে পারবে—এমন একটি নোট সনদে যুক্ত করা হয়েছিল।

আখতার হোসেনের দাবি, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে ১৭ তারিখে পাঠানো চূড়ান্ত খসড়ায় ওই নোট ছিল না। সনদ স্বাক্ষরের দিন সরকারদলীয় একজন ব্যক্তি তা যুক্ত করেন। ভবিষ্যতে সংস্কার বাস্তবায়ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখতেই শর্তটি যুক্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি গণভোটের রায়কে কখনো অসাংবিধানিক, কখনো অকার্যকর হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। অথচ গণভোটের আগে দলটির নেতারা এর পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আখতারের অভিযোগ, বিএনপির ৩১ দফায় সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের কথা থাকলেও ক্ষমতায় আসার পর দলটি সেই অবস্থান থেকে সরে গেছে। জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে বিএনপির ভিন্নমত বা আপত্তি ছিল না, সেগুলোরও বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের সংসদীয় আসনগুলোতে উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগও তোলেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সরকারি দলের আসনগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের আসনগুলো বঞ্চিত হচ্ছে।

তাঁর দাবি, সরকারি দলের আসনগুলোতে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রায় আট হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিরোধী দলের আসনগুলোকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া টিআর, কাবিখা ও দুর্যোগ মোকাবিলার বরাদ্দেও বৈষম্য করা হচ্ছে।

আখতার বলেন, সরকারি দলের আসনে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের আসনে শূন্য থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকারি দলের ২০৩টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থী কোনো ইউনিয়নে জয়ী না হলে সেখানে উন্নয়নকাজ করা হবে না এমন বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধের কারণে জনগণকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা যায় না বলে মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।

সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ

সারের ডিলার নিয়োগেও দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেন আখতার হোসেন। তাঁর দাবি, বিএনপি নেতাদের ভাই, স্ত্রী, ভগ্নিপতি ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি কিছু আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করেও কেউ কেউ দলীয় পরিচয়ের কারণে লাইসেন্স পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আখতার বলেন, সারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন এমন ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হলে চলমান সারসংকট আরও বাড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবর্তে সরকার দলীয়করণকে প্রাধান্য দিচ্ছে। সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয় প্রভাবের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নির্বাচন প্রভাবিত করার আশঙ্কা

আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনে নিজেদের অনুগত ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রধান হিসেবে দলীয় অনুগত কাউকে নিয়োগ দিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে সরকার। এ আশঙ্কা থেকেই সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে চায় না বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, অতীতেও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করার কারণে দেশে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এবারও একই পথে এগোলে এর পরিণতি শুধু বিএনপিকে নয়, পুরো দেশকে ভোগ করতে হতে পারে।

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানিতে শোক

সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন আখতার হোসেন। তাঁর দাবি, রিসোর্টটিতে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা নিয়ে আগে থেকেই সমস্যা ছিল এবং কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে এনসিপির সদস্যসচিব দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করার আহ্বান জানান। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে বিরোধী দলের চলমান আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

#গণভোট #জুলাইসনদ #আখতারহোসেন

চেকপোস্ট

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


গণভোটের রায় না মানলে গণআন্দোলন: এনসিপির আখতার

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার থেকে সরে এসে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেছেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে এবং একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করতে হবে। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে বিরোধী দলের চলমান আন্দোলন অদূর ভবিষ্যতে গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) জুলাই সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় এনসিপির অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য যেসব সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল, এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়। পরে ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটের অংশগ্রহণে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই সনদ তৈরি করা হয়। সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি দাবি করেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাই সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক না বাড়িয়ে জনগণের রায় কার্যকর করা উচিত। কিন্তু বিএনপি সরকার গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের জন্য একদলীয় কমিটি গঠন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আখতার বলেন, গণভোটের প্রশ্নে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, সংসদের উচ্চকক্ষ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের পৃথক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে পৌঁছানো সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব প্রস্তাবের কোনটি দেশের বা জনগণের জন্য ক্ষতিকর, তা সরকার স্পষ্ট করে বলতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য, জনগণই রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। তাই সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও গণভোটের রায় উপেক্ষা করার অধিকার সরকারের নেই।

জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, সরকার বারবার সনদটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না।

সনদের একটি শর্তের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে কোনো রাজনৈতিক দল কোনো বিষয় উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে সে বিষয়ে নিজস্ব ব্যবস্থা নিতে পারবে—এমন একটি নোট সনদে যুক্ত করা হয়েছিল।

আখতার হোসেনের দাবি, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে ১৭ তারিখে পাঠানো চূড়ান্ত খসড়ায় ওই নোট ছিল না। সনদ স্বাক্ষরের দিন সরকারদলীয় একজন ব্যক্তি তা যুক্ত করেন। ভবিষ্যতে সংস্কার বাস্তবায়ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখতেই শর্তটি যুক্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি গণভোটের রায়কে কখনো অসাংবিধানিক, কখনো অকার্যকর হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। অথচ গণভোটের আগে দলটির নেতারা এর পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আখতারের অভিযোগ, বিএনপির ৩১ দফায় সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের কথা থাকলেও ক্ষমতায় আসার পর দলটি সেই অবস্থান থেকে সরে গেছে। জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে বিএনপির ভিন্নমত বা আপত্তি ছিল না, সেগুলোরও বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের সংসদীয় আসনগুলোতে উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগও তোলেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সরকারি দলের আসনগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের আসনগুলো বঞ্চিত হচ্ছে।

তাঁর দাবি, সরকারি দলের আসনগুলোতে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রায় আট হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিরোধী দলের আসনগুলোকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া টিআর, কাবিখা ও দুর্যোগ মোকাবিলার বরাদ্দেও বৈষম্য করা হচ্ছে।

আখতার বলেন, সরকারি দলের আসনে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের আসনে শূন্য থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকারি দলের ২০৩টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থী কোনো ইউনিয়নে জয়ী না হলে সেখানে উন্নয়নকাজ করা হবে না এমন বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধের কারণে জনগণকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা যায় না বলে মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।

সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ

সারের ডিলার নিয়োগেও দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেন আখতার হোসেন। তাঁর দাবি, বিএনপি নেতাদের ভাই, স্ত্রী, ভগ্নিপতি ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি কিছু আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করেও কেউ কেউ দলীয় পরিচয়ের কারণে লাইসেন্স পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আখতার বলেন, সারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন এমন ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হলে চলমান সারসংকট আরও বাড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবর্তে সরকার দলীয়করণকে প্রাধান্য দিচ্ছে। সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয় প্রভাবের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নির্বাচন প্রভাবিত করার আশঙ্কা

আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনে নিজেদের অনুগত ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রধান হিসেবে দলীয় অনুগত কাউকে নিয়োগ দিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে সরকার। এ আশঙ্কা থেকেই সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে চায় না বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, অতীতেও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করার কারণে দেশে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এবারও একই পথে এগোলে এর পরিণতি শুধু বিএনপিকে নয়, পুরো দেশকে ভোগ করতে হতে পারে।

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানিতে শোক

সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন আখতার হোসেন। তাঁর দাবি, রিসোর্টটিতে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা নিয়ে আগে থেকেই সমস্যা ছিল এবং কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে এনসিপির সদস্যসচিব দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করার আহ্বান জানান। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে বিরোধী দলের চলমান আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত