শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

আতঙ্কে খামারিরা বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণ

গঙ্গাচড়ায় লাম্পি স্কিনে তাণ্ডব: ১৫ দিনে দুই শতাধিক গরুর মৃত্যু

গঙ্গাচড়ায় লাম্পি স্কিনে তাণ্ডব: ১৫ দিনে দুই শতাধিক গরুর মৃত্যু
আক্রান্ত গরুর শরীরজুড়ে শক্ত গুটি বা ক্ষত সৃষ্টি হয়। ছবি : চেকপোস্ট

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় গবাদিপশুর মধ্যে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি)। গত ১৫ দিনে বিভিন্ন ইউনিয়নে এই রোগে প্রায় দুই শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি শত শত গরু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যা খামারিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

লাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD) মূলত গরু ও মহিষের একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত চর্মরোগ, যা ক্যাপ্রিপক্স ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও গবাদিপশুর ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আক্রান্ত গরুর শরীরে প্রথমে জ্বর দেখা দেয়, এরপর খাবারে অরুচি, চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরজুড়ে শক্ত গুটি বা ক্ষত সৃষ্টি হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে অনেক গরু মারা যাচ্ছে, বিশেষ করে বাছুরগুলোর মৃত্যু হার বেশি।

কৃষক পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, তার একটি গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং চেষ্টা করেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। একইভাবে কৃষক আবুল মিয়া জানান, চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার গাভী মারা গেছে এবং এলাকায় আরও অনেক খামারের গরু আক্রান্ত হচ্ছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ইউসুফ আলী সরকার বলেন, রোগটি ভাইরাসজনিত এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, আক্রান্ত পশুকে আলাদা রাখা, মশা-মাছি নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জীবাণুনাশক ব্যবহার করলে সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজার রহমান বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি আক্রান্ত গরু চিকিৎসার জন্য আনা হচ্ছে। যারা দ্রুত চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই সুস্থ হচ্ছে, তবে দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে কিছু মৃত্যু ঘটছে।

তিনি আরও জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগ মাঠপর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং খামারিদের নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় খামারিরা দ্রুত রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

#গঙ্গাচড়া #লাম্পি_স্কিন_ডিজিজ #গবাদিপশু_রোগ

চেকপোস্ট

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


গঙ্গাচড়ায় লাম্পি স্কিনে তাণ্ডব: ১৫ দিনে দুই শতাধিক গরুর মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় গবাদিপশুর মধ্যে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি)। গত ১৫ দিনে বিভিন্ন ইউনিয়নে এই রোগে প্রায় দুই শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি শত শত গরু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যা খামারিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

লাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD) মূলত গরু ও মহিষের একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত চর্মরোগ, যা ক্যাপ্রিপক্স ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও গবাদিপশুর ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আক্রান্ত গরুর শরীরে প্রথমে জ্বর দেখা দেয়, এরপর খাবারে অরুচি, চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরজুড়ে শক্ত গুটি বা ক্ষত সৃষ্টি হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে অনেক গরু মারা যাচ্ছে, বিশেষ করে বাছুরগুলোর মৃত্যু হার বেশি।

কৃষক পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, তার একটি গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং চেষ্টা করেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। একইভাবে কৃষক আবুল মিয়া জানান, চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার গাভী মারা গেছে এবং এলাকায় আরও অনেক খামারের গরু আক্রান্ত হচ্ছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ইউসুফ আলী সরকার বলেন, রোগটি ভাইরাসজনিত এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, আক্রান্ত পশুকে আলাদা রাখা, মশা-মাছি নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জীবাণুনাশক ব্যবহার করলে সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজার রহমান বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি আক্রান্ত গরু চিকিৎসার জন্য আনা হচ্ছে। যারা দ্রুত চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই সুস্থ হচ্ছে, তবে দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে কিছু মৃত্যু ঘটছে।

তিনি আরও জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগ মাঠপর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং খামারিদের নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় খামারিরা দ্রুত রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত