মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

ঝুঁকিতে ডুমুরিয়া

খননকাজে বাধা শৈলমারী নদী দখলমুক্ত না হলে ডুববে ডুমুরিয়া

খননকাজে বাধা শৈলমারী নদী দখলমুক্ত না হলে ডুববে ডুমুরিয়া
ছবি : চেকপোস্ট

বর্ষা মৌসুমের মাঝামাঝি জলাবদ্ধতা নিরসনের অন্যতম প্রধান প্রকল্প শৈলনারী নদী পুন: খনন কার্যক্রম অবৈধ বাধায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে খননকৃত পলি ফেলার স্থান নির্ধারন না হওয়ায় মুল নদীর ড্রেজিং কাজও শুরু করা যাচ্ছে না। ফলে খুলনার বিল ডাকাতিয়া, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা এবং খুলনা মহানগরের একটি অংশ লাখো মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনের আশা অনিশ্চিতার মুখে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড( পাওবো) সুত্রে জানাগেছে, রামদিয়া ১০ ভেল্ট রেগুলেটর থেকে বটিয়াঘাটা সেতুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩  কিলোমিটার নদী পুন: খনননের কাজ চলতি মাসের প্রথম দিকে শুরু হয়৷ ১ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যায়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে যশোর যান্ত্রিক পানি উন্নয়ন উপ বিভাগ। 

কিন্তু কাজ শুরু হতেই নদীর তীর ও সীমানা দখল করে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাধার মুখে পড়ে প্রকল্পটি। স্থানীয়দের অভিযোগ বছরের পর বছর পড়ে থাকা পলি জমে নদী ভরাট হওয়ার সুযোগে এক শ্রেনির ব্যক্তি নদীর জমি নিজের দখলে নিয়ে স্থাপনা ও বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করেছে। এখন সরকারি খনন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সেই অবৈধ দখল উচ্ছেদের আশংকায় তারা কাজে বাধা দিচ্ছে। এতে স্বনসার্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। 

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, কাজীবাছা থেকে শরাফপুর পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার শৈলমারী নদী গত পাঁচ বছরের ব্যাপক পলি জমে ন্যাব্যতা হারিয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের বিস্তৃর্ন এলাকা ছাড়াও ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা ও খুলনা সিটি করপোরেশনের একাংশে নিয়মিত জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। এদিকে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে শৈলমারী ১০ ভেল্ট রেগুলেটরের ডাইভারশন চ্যানেলসহ নদীর আরো প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশে খনন কাজ চলমান থাকলেও মুল নদীর ড্রেজিং এখোনোও শুরু হয়নি। কারন খননকৃত বিপুল পরিমান পলি কোথায় ফেলা হবে, তা এখনোও চুড়ান্ত করা যায়নি। পাউবোর খুলনা যান্ত্রিক বিভাগের উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী ( এসডিই) আব্দুল হাই শেখ বলেন, রামদিয়া রেগুলেটর থেকে বটিয়াঘাটা ব্রিজমুখী অংশে খননে বাধার মুখে পড়ে। 

দীর্ঘ দিন কাজ বন্ধ থাকার পর উপজেলা প্রশাসন নদীর সীমানা নির্ধারন করে দেয়। এরপরও শনিবার সকালে হোগলবুনিয়ার এক ব্যক্তি পুনরায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাকে বটিয়াঘাটা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। খুলনা ড্রেজার অপারেশন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈকত বিশ্বাস বলেন, পলি ফেলার স্থান এখোনোও নির্ধারন হয়নি। একারনে মুল নদীর ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতা চাওয়া হয়েছে। 

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে ড্রেজার এসে কাজ শুরু করতে পারে। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন, নদীর জমি অবৈধ দখল করে থাকা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করতে এসিল্যান্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপর নদী খননের জন্য যেটা প্রয়োজন তাই করা হবে। খুলনা - ১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, নদী খননে কোন ধরনের বাধা গ্রহণ করা হবে না। সরকার নদী খননে বদ্ধ পরিকর। তাছাড়া বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল নদী খনন।

সুতারাং একাজে কোন ধরনের বাধা বরদাস্ত করা হবে না। বিষয়টি তদারকি করার জন্য বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন, বর্ষার শুরুতেই যখন শৈলমারী খননের জরুরি প্রয়োজন ছিল, তখন কেন দখলদারদের উচ্ছেদ পলি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আগে থেকে কেন সমাধান করা হয়নি। তাদের আশংকা প্রশাসনিক ধীরগতি ও দখলদারদের প্রভাবের কারনে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরোও বিলম্বিত হলে সামনের ভারী বর্ষনে আবারও তলিয়ে যেতে পারে বিলডাকাতিয়া সহ ডুমুরিয়ার বিস্তৃর্ন জনপদ। প্রসঙ্গত,গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষনে ডুমুরিয়ার রংপুর ইউনিয়ন সহ বেশ কয়েকটি নিন্মাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়৷ 

বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি সাময়িক উন্নতি হলেও আবহাওয়ার পুর্বাভাসে আরও ভারী বর্ষনের আশংকা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শৈলমারী নদী খনন দ্রুত সম্পন্ন না হলে আগামী দিনগুলোতে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরোও ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে।

#খুলনা_সংবাদ #শৈলমারী_নদী #ডুমুরিয়ার_জলাবদ্ধতা

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


খননকাজে বাধা শৈলমারী নদী দখলমুক্ত না হলে ডুববে ডুমুরিয়া

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

বর্ষা মৌসুমের মাঝামাঝি জলাবদ্ধতা নিরসনের অন্যতম প্রধান প্রকল্প শৈলনারী নদী পুন: খনন কার্যক্রম অবৈধ বাধায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে খননকৃত পলি ফেলার স্থান নির্ধারন না হওয়ায় মুল নদীর ড্রেজিং কাজও শুরু করা যাচ্ছে না। ফলে খুলনার বিল ডাকাতিয়া, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা এবং খুলনা মহানগরের একটি অংশ লাখো মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনের আশা অনিশ্চিতার মুখে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড( পাওবো) সুত্রে জানাগেছে, রামদিয়া ১০ ভেল্ট রেগুলেটর থেকে বটিয়াঘাটা সেতুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩  কিলোমিটার নদী পুন: খনননের কাজ চলতি মাসের প্রথম দিকে শুরু হয়৷ ১ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যায়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে যশোর যান্ত্রিক পানি উন্নয়ন উপ বিভাগ। 

কিন্তু কাজ শুরু হতেই নদীর তীর ও সীমানা দখল করে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাধার মুখে পড়ে প্রকল্পটি। স্থানীয়দের অভিযোগ বছরের পর বছর পড়ে থাকা পলি জমে নদী ভরাট হওয়ার সুযোগে এক শ্রেনির ব্যক্তি নদীর জমি নিজের দখলে নিয়ে স্থাপনা ও বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করেছে। এখন সরকারি খনন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সেই অবৈধ দখল উচ্ছেদের আশংকায় তারা কাজে বাধা দিচ্ছে। এতে স্বনসার্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। 

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, কাজীবাছা থেকে শরাফপুর পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার শৈলমারী নদী গত পাঁচ বছরের ব্যাপক পলি জমে ন্যাব্যতা হারিয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের বিস্তৃর্ন এলাকা ছাড়াও ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা ও খুলনা সিটি করপোরেশনের একাংশে নিয়মিত জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। এদিকে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে শৈলমারী ১০ ভেল্ট রেগুলেটরের ডাইভারশন চ্যানেলসহ নদীর আরো প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশে খনন কাজ চলমান থাকলেও মুল নদীর ড্রেজিং এখোনোও শুরু হয়নি। কারন খননকৃত বিপুল পরিমান পলি কোথায় ফেলা হবে, তা এখনোও চুড়ান্ত করা যায়নি। পাউবোর খুলনা যান্ত্রিক বিভাগের উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী ( এসডিই) আব্দুল হাই শেখ বলেন, রামদিয়া রেগুলেটর থেকে বটিয়াঘাটা ব্রিজমুখী অংশে খননে বাধার মুখে পড়ে। 

দীর্ঘ দিন কাজ বন্ধ থাকার পর উপজেলা প্রশাসন নদীর সীমানা নির্ধারন করে দেয়। এরপরও শনিবার সকালে হোগলবুনিয়ার এক ব্যক্তি পুনরায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাকে বটিয়াঘাটা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। খুলনা ড্রেজার অপারেশন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈকত বিশ্বাস বলেন, পলি ফেলার স্থান এখোনোও নির্ধারন হয়নি। একারনে মুল নদীর ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতা চাওয়া হয়েছে। 

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে ড্রেজার এসে কাজ শুরু করতে পারে। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন, নদীর জমি অবৈধ দখল করে থাকা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করতে এসিল্যান্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপর নদী খননের জন্য যেটা প্রয়োজন তাই করা হবে। খুলনা - ১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, নদী খননে কোন ধরনের বাধা গ্রহণ করা হবে না। সরকার নদী খননে বদ্ধ পরিকর। তাছাড়া বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল নদী খনন।

সুতারাং একাজে কোন ধরনের বাধা বরদাস্ত করা হবে না। বিষয়টি তদারকি করার জন্য বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন, বর্ষার শুরুতেই যখন শৈলমারী খননের জরুরি প্রয়োজন ছিল, তখন কেন দখলদারদের উচ্ছেদ পলি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আগে থেকে কেন সমাধান করা হয়নি। তাদের আশংকা প্রশাসনিক ধীরগতি ও দখলদারদের প্রভাবের কারনে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরোও বিলম্বিত হলে সামনের ভারী বর্ষনে আবারও তলিয়ে যেতে পারে বিলডাকাতিয়া সহ ডুমুরিয়ার বিস্তৃর্ন জনপদ। প্রসঙ্গত,গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষনে ডুমুরিয়ার রংপুর ইউনিয়ন সহ বেশ কয়েকটি নিন্মাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়৷ 

বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি সাময়িক উন্নতি হলেও আবহাওয়ার পুর্বাভাসে আরও ভারী বর্ষনের আশংকা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শৈলমারী নদী খনন দ্রুত সম্পন্ন না হলে আগামী দিনগুলোতে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরোও ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত