বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন

কুড়িগ্রামে রাতের আঁধারে সরকারি ওষুধ পোড়ানোর অভিযোগ, তদন্তে কমিটি

কুড়িগ্রামে রাতের আঁধারে সরকারি ওষুধ পোড়ানোর অভিযোগ, তদন্তে কমিটি
ছবি : চেকপোস্ট

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ওষুধ রাতের আঁধারে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হলে বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে প্রায় ৫০ শয্যার চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে ওষুধ পোড়ানোর সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে আপত্তি জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এলেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ পাওয়া যায় না। ফলে অনেক রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়।

তাদের প্রশ্ন, রোগীরা যেখানে সরকারি ওষুধের সংকটে ভুগছেন, সেখানে হাসপাতালের গুদামে কীভাবে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হলো এবং সেগুলো সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওষুধ পোড়ানোর খবর পেয়ে রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব আল আমিনসহ কয়েকজন হাসপাতালে যান। তিনি দাবি করেন, সেখানে তিন বস্তা সরকারি ওষুধ পড়ে থাকতে দেখেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান বলেন, হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে পুরোনো কাগজপত্র সরানোর সময় কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। তার দাবি, এসব ওষুধ করোনাকালীন সময়ের এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষিত থাকায় মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

তিনি জানান, সরকারি ওষুধ কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হলো এবং তা ধ্বংস করার প্রক্রিয়ায় নিয়ম মানা হয়েছিল কি না—তা তদন্তে পরিষ্কার হবে।

ঘটনার খবর পেয়ে রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল হাসান খান ঘটনাস্থলে যান। তিনি ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেন।

ইউএনও জানান, বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন বলেন, সরকারি ওষুধ এভাবে পুড়িয়ে ফেলার কোনো নিয়ম নেই। ঘটনার প্রকৃত কারণ, ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার বিষয় এবং কারও দায় রয়েছে কি না এসব তদন্ত করে দেখা হবে।

তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে সরকারি ওষুধ যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হয়েছিল কি না, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংসের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছে কি না এবং কোনো অনিয়ম ঘটেছে কি না।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

#কুড়িগ্রাম_সংবাদ #সরকারিওষুধ #স্বাস্থ্যখাতে_অনিয়ম

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


কুড়িগ্রামে রাতের আঁধারে সরকারি ওষুধ পোড়ানোর অভিযোগ, তদন্তে কমিটি

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ওষুধ রাতের আঁধারে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হলে বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে প্রায় ৫০ শয্যার চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে ওষুধ পোড়ানোর সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে আপত্তি জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এলেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ পাওয়া যায় না। ফলে অনেক রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়।

তাদের প্রশ্ন, রোগীরা যেখানে সরকারি ওষুধের সংকটে ভুগছেন, সেখানে হাসপাতালের গুদামে কীভাবে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হলো এবং সেগুলো সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওষুধ পোড়ানোর খবর পেয়ে রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব আল আমিনসহ কয়েকজন হাসপাতালে যান। তিনি দাবি করেন, সেখানে তিন বস্তা সরকারি ওষুধ পড়ে থাকতে দেখেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান বলেন, হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে পুরোনো কাগজপত্র সরানোর সময় কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। তার দাবি, এসব ওষুধ করোনাকালীন সময়ের এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষিত থাকায় মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

তিনি জানান, সরকারি ওষুধ কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হলো এবং তা ধ্বংস করার প্রক্রিয়ায় নিয়ম মানা হয়েছিল কি না—তা তদন্তে পরিষ্কার হবে।

ঘটনার খবর পেয়ে রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল হাসান খান ঘটনাস্থলে যান। তিনি ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেন।

ইউএনও জানান, বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন বলেন, সরকারি ওষুধ এভাবে পুড়িয়ে ফেলার কোনো নিয়ম নেই। ঘটনার প্রকৃত কারণ, ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার বিষয় এবং কারও দায় রয়েছে কি না এসব তদন্ত করে দেখা হবে।

তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে সরকারি ওষুধ যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হয়েছিল কি না, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংসের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছে কি না এবং কোনো অনিয়ম ঘটেছে কি না।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত