বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

ময়নাতদন্ত শেষে দাফন

কুড়িগ্রামে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক

কুড়িগ্রামে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক
ছবি : চেকপোস্ট

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে মাহমুদা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তিনি উপজেলার টেংরার ভিটা গ্রামের বাসিন্দা ময়নাল হোসেনের স্ত্রী। তাদের দুইটি শিশু সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে একটির বয়স মাত্র ছয় মাস। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে রান্নার সময় চুলায় বেশি জ্বালানি ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে মাহমুদা আক্তারের সঙ্গে তার শাশুড়ির বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দিনভর পারিবারিক কলহ চলতে থাকে। মাহমুদার বাবার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় তার মা আতরভান বেগম দুই শিশুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।

সন্ধ্যায় ছয় মাস বয়সী শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা মাহমুদাকে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহ নিচে নামিয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর বিকেলে বাবার বাড়িতে দাফন করা হয়।

ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী, শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নিহতের চাচাতো ভাই আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় যৌতুকের কিছু টাকা বাকি থাকায় মাহমুদাকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো। তার দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে স্বামী ময়নাল হোসেন, তার মা ও বড় ভাইসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ সাইদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

#কুড়িগ্রাম_সংবাদ #গৃহবধূ #রহস্যজনকমৃত্যু

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


কুড়িগ্রামে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে মাহমুদা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তিনি উপজেলার টেংরার ভিটা গ্রামের বাসিন্দা ময়নাল হোসেনের স্ত্রী। তাদের দুইটি শিশু সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে একটির বয়স মাত্র ছয় মাস। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে রান্নার সময় চুলায় বেশি জ্বালানি ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে মাহমুদা আক্তারের সঙ্গে তার শাশুড়ির বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দিনভর পারিবারিক কলহ চলতে থাকে। মাহমুদার বাবার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় তার মা আতরভান বেগম দুই শিশুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।

সন্ধ্যায় ছয় মাস বয়সী শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা মাহমুদাকে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহ নিচে নামিয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর বিকেলে বাবার বাড়িতে দাফন করা হয়।

ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী, শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নিহতের চাচাতো ভাই আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় যৌতুকের কিছু টাকা বাকি থাকায় মাহমুদাকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো। তার দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে স্বামী ময়নাল হোসেন, তার মা ও বড় ভাইসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ সাইদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত