মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

বিশ্ব

হোটেল ছাড়ছেন বাংলাদেশিরা

কলকাতায় হোটেল বন্ধ, বিপাকে হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক

কলকাতায় হোটেল বন্ধ, বিপাকে হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক
কলকাতার মারকুইজ স্ট্রিটের সাম্প্রতিক ছবি। ছবি : দ্য উইক

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযান শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ, পৌরসভা, দমকল ও বিদ্যুৎ বিভাগ।

মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকার ২০০-এর বেশি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই নিউমার্কেট এলাকায় হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা শুরু হয়।

কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, দমকল ও বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি শহরের সাড়ে ৩ হাজারের বেশি হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে।

বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা

হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা। বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার পর্যটক নিউমার্কেট এলাকায় ছিলেন।

অনেকেই বাধ্য হয়ে কলকাতা ছাড়ছেন। কেউ নতুন হোটেল খুঁজছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পর্যটকদের অভিযোগ, নতুন হোটেল পেতে সমস্যা হচ্ছে। কোথাও কোথাও আগের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পর্যটন ব্যবসায় চাপ

বাংলাদেশি পর্যটকদের ঘিরে নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও কেনাকাটার বড় বাজার গড়ে উঠেছে। হোটেল বন্ধের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তরা বলছেন, সীমান্ত থেকে নিয়মিত পর্যটক কলকাতায় আসছেন। কিন্তু থাকার জায়গার সংকট তৈরি হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জন

এর আগে ১৮ আগস্ট গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ৯ জনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ২ জন ভারতীয় ছিলেন। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ছিলেন আকরাম আলী, দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শিরমিন, সর্নাশীষ দত্ত, বাবু আহমেদ, রেবতী সরকার ও এস. এম. আলিমুজ্জামান।

ভারতীয় নিহতদের মধ্যে ছিলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান ও শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগারওয়াল।

#নিউমার্কেট #কলকাতাখবর #বাংলাদেশিপর্যটক

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


কলকাতায় হোটেল বন্ধ, বিপাকে হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযান শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ, পৌরসভা, দমকল ও বিদ্যুৎ বিভাগ।

মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকার ২০০-এর বেশি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই নিউমার্কেট এলাকায় হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা শুরু হয়।

কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, দমকল ও বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি শহরের সাড়ে ৩ হাজারের বেশি হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে।

বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা

হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা। বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার পর্যটক নিউমার্কেট এলাকায় ছিলেন।

অনেকেই বাধ্য হয়ে কলকাতা ছাড়ছেন। কেউ নতুন হোটেল খুঁজছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পর্যটকদের অভিযোগ, নতুন হোটেল পেতে সমস্যা হচ্ছে। কোথাও কোথাও আগের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পর্যটন ব্যবসায় চাপ

বাংলাদেশি পর্যটকদের ঘিরে নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও কেনাকাটার বড় বাজার গড়ে উঠেছে। হোটেল বন্ধের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তরা বলছেন, সীমান্ত থেকে নিয়মিত পর্যটক কলকাতায় আসছেন। কিন্তু থাকার জায়গার সংকট তৈরি হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জন

এর আগে ১৮ আগস্ট গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ৯ জনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ২ জন ভারতীয় ছিলেন। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ছিলেন আকরাম আলী, দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শিরমিন, সর্নাশীষ দত্ত, বাবু আহমেদ, রেবতী সরকার ও এস. এম. আলিমুজ্জামান।

ভারতীয় নিহতদের মধ্যে ছিলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান ও শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগারওয়াল।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত