রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

স্বাস্থ্য

ঝুঁকি নিয়ে চলছে নতুন গবেষণা

কম বয়সেই বাড়ছে মস্তিষ্কের টিউমার, কারণ জানেন কি?

কম বয়সেই বাড়ছে মস্তিষ্কের টিউমার, কারণ জানেন কি?
অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মস্তিষ্কের টিউমারের সঠিক কারণ এখনো অজানা।অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মস্তিষ্কের টিউমারের সঠিক কারণ এখনো অজানা।

ক্যানসার মানেই বয়স্কদের রোগ এমন ধারণা এখন আর পুরোপুরি সত্য নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২০, ৩০ ও ৪০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার খবর বাড়ছে। এর মধ্যে মস্তিষ্কের টিউমার নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

চিকিৎসকদের মতে, তরুণ বয়সে মস্তিষ্কের টিউমার শনাক্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে গবেষণা চলছে। জীবনযাপন, পরিবেশ, বায়ুদূষণ, কিছু রাসায়নিকের সংস্পর্শ এবং রোগ শনাক্তে দেরি এসব বিষয় আলোচনায় এসেছে। তবে এখনো পর্যন্ত তরুণদের মধ্যে মস্তিষ্কের টিউমার বাড়ার কোনো একক কারণ বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারেননি।

মস্তিষ্কের টিউমার কী?

মস্তিষ্কের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে টিউমার তৈরি হয়। সব টিউমার ক্যানসার নয়। কিছু টিউমার ধীরে বাড়ে এবং শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে না। আবার কিছু টিউমার দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ক্যানসার হিসেবে বিবেচিত হয়।

টিউমারের ধরন, অবস্থান ও আকারের ওপর নির্ভর করে রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়।

তরুণদের মধ্যে কি ক্যানসার সত্যিই বাড়ছে?

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট ক্যানসারের হার তরুণদের মধ্যে বাড়ছে। ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের নতুন রোগীর সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধীরে ধীরে বেড়েছে।

তবে সব ধরনের ক্যানসার একই হারে বাড়ছে না। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের টিউমার তরুণদের মধ্যেও দেখা যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

কম বয়সে মস্তিষ্কের টিউমারের কারণ কী?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কেন কম বয়সে মস্তিষ্কের টিউমার হচ্ছে? এর নির্দিষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স, বংশগত কিছু সমস্যা এবং নির্দিষ্ট পরিবেশগত কারণ ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই টিউমার হওয়ার পেছনে কোনো স্পষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

তাই কোনো ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট অভ্যাস বা জীবনযাপনকে সরাসরি দায়ী করা ঠিক নয়।

বায়ুদূষণ কি দায়ী?

বায়ুদূষণ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তবে মস্তিষ্কের টিউমারের সঙ্গে বায়ুদূষণের সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। এ বিষয়ে গবেষণা চলছে।

রাসায়নিকের সংস্পর্শ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

কিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ মস্তিষ্কের কিছু ধরনের টিউমারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

তবে সাধারণ জীবনে অল্প পরিমাণ রাসায়নিকের সংস্পর্শ মানেই টিউমার হবে এমন ধারণা সঠিক নয়। ঝুঁকি নির্ভর করে কোন পদার্থ, কত পরিমাণে এবং কত সময় ধরে সংস্পর্শে আসা হয়েছে তার ওপর।

বংশগত কারণও থাকতে পারে

কিছু বিরল বংশগত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বেশি হতে পারে।

তবে পরিবারের কারও মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে মানেই অন্য সদস্যদেরও একই সমস্যা হবে এমন নয়।

মাথাব্যথা হলেই কি টিউমার?

মাথাব্যথা মস্তিষ্কের টিউমারের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হলেও, সব মাথাব্যথার কারণ টিউমার নয়।

ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, মাইগ্রেন, পানিশূন্যতা বা চোখের সমস্যাসহ নানা কারণে মাথাব্যথা হতে পারে।

তবে মাথাব্যথার ধরন বদলে গেলে, ক্রমে বাড়তে থাকলে বা অন্য কোনো লক্ষণের সঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

মস্তিষ্কের টিউমারের সম্ভাব্য কিছু লক্ষণ হলো—

  • বারবার বা বাড়তে থাকা মাথাব্যথা

  • খিঁচুনি

  • বমি বা বমি বমি ভাব

  • চোখে দেখতে সমস্যা

  • কথা বলতে সমস্যা

  • হাঁটা বা ভারসাম্য রাখতে সমস্যা

  • শরীরের কোনো অংশ দুর্বল বা অবশ হওয়া

  • আচরণ বা ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন

  • মনোযোগে সমস্যা

  • অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব

এসব লক্ষণ দেখা দিলেই টিউমার হয়েছে এমন নয়। তবে নতুন কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে বা দ্রুত বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তরুণদের ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়?

কম বয়সে গুরুতর রোগ হবে না এমন ধারণার কারণে অনেক সময় লক্ষণগুলো উপেক্ষা করা হয়। মাথাব্যথা, দুর্বলতা বা মনোযোগের সমস্যাকে অনেকে কাজের চাপ বা ঘুমের অভাব বলে ধরে নেন।

ফলে কিছু ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে।

মোবাইল ফোন কি মস্তিষ্কের টিউমারের কারণ?

মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে মস্তিষ্কের টিউমারের সরাসরি কারণগত সম্পর্ক এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

তাই শুধু মোবাইল ব্যবহারের কারণে তরুণদের মধ্যে মস্তিষ্কের টিউমার বাড়ছে এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও বায়ুদূষণসহ বিভিন্ন বিষয় অনেক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তবে মস্তিষ্কের সব ধরনের টিউমার প্রতিরোধে জীবনযাপন কতটা ভূমিকা রাখে, সে বিষয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

তবুও স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে দূরে থাকা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভয় নয়, সচেতনতাই জরুরি

তরুণ বয়সে মস্তিষ্কের টিউমারের খবর শুনে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ এটি তুলনামূলক বিরল এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না।

তবে বয়স কম বলে অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। শরীরে নতুন পরিবর্তন দেখা দিলে, দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে বা লক্ষণ বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

মস্তিষ্কের টিউমার কেন তরুণদের মধ্যে হচ্ছে, তার উত্তর এখনো গবেষণাধীন। তাই ভয় নয় সচেতনতা, সময়মতো পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

#স্বাস্থ্যসতর্কতা #মস্তিষ্কেরটিউমার #ক্যানসারসচেতনতা

চেকপোস্ট

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


কম বয়সেই বাড়ছে মস্তিষ্কের টিউমার, কারণ জানেন কি?

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ক্যানসার মানেই বয়স্কদের রোগ এমন ধারণা এখন আর পুরোপুরি সত্য নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২০, ৩০ ও ৪০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার খবর বাড়ছে। এর মধ্যে মস্তিষ্কের টিউমার নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

চিকিৎসকদের মতে, তরুণ বয়সে মস্তিষ্কের টিউমার শনাক্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে গবেষণা চলছে। জীবনযাপন, পরিবেশ, বায়ুদূষণ, কিছু রাসায়নিকের সংস্পর্শ এবং রোগ শনাক্তে দেরি এসব বিষয় আলোচনায় এসেছে। তবে এখনো পর্যন্ত তরুণদের মধ্যে মস্তিষ্কের টিউমার বাড়ার কোনো একক কারণ বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারেননি।

মস্তিষ্কের টিউমার কী?

মস্তিষ্কের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে টিউমার তৈরি হয়। সব টিউমার ক্যানসার নয়। কিছু টিউমার ধীরে বাড়ে এবং শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে না। আবার কিছু টিউমার দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ক্যানসার হিসেবে বিবেচিত হয়।

টিউমারের ধরন, অবস্থান ও আকারের ওপর নির্ভর করে রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়।

তরুণদের মধ্যে কি ক্যানসার সত্যিই বাড়ছে?

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট ক্যানসারের হার তরুণদের মধ্যে বাড়ছে। ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের নতুন রোগীর সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধীরে ধীরে বেড়েছে।

তবে সব ধরনের ক্যানসার একই হারে বাড়ছে না। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের টিউমার তরুণদের মধ্যেও দেখা যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

কম বয়সে মস্তিষ্কের টিউমারের কারণ কী?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কেন কম বয়সে মস্তিষ্কের টিউমার হচ্ছে? এর নির্দিষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স, বংশগত কিছু সমস্যা এবং নির্দিষ্ট পরিবেশগত কারণ ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই টিউমার হওয়ার পেছনে কোনো স্পষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

তাই কোনো ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট অভ্যাস বা জীবনযাপনকে সরাসরি দায়ী করা ঠিক নয়।

বায়ুদূষণ কি দায়ী?

বায়ুদূষণ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তবে মস্তিষ্কের টিউমারের সঙ্গে বায়ুদূষণের সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। এ বিষয়ে গবেষণা চলছে।

রাসায়নিকের সংস্পর্শ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

কিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ মস্তিষ্কের কিছু ধরনের টিউমারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

তবে সাধারণ জীবনে অল্প পরিমাণ রাসায়নিকের সংস্পর্শ মানেই টিউমার হবে এমন ধারণা সঠিক নয়। ঝুঁকি নির্ভর করে কোন পদার্থ, কত পরিমাণে এবং কত সময় ধরে সংস্পর্শে আসা হয়েছে তার ওপর।

বংশগত কারণও থাকতে পারে

কিছু বিরল বংশগত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বেশি হতে পারে।

তবে পরিবারের কারও মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে মানেই অন্য সদস্যদেরও একই সমস্যা হবে এমন নয়।

মাথাব্যথা হলেই কি টিউমার?

মাথাব্যথা মস্তিষ্কের টিউমারের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হলেও, সব মাথাব্যথার কারণ টিউমার নয়।

ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, মাইগ্রেন, পানিশূন্যতা বা চোখের সমস্যাসহ নানা কারণে মাথাব্যথা হতে পারে।

তবে মাথাব্যথার ধরন বদলে গেলে, ক্রমে বাড়তে থাকলে বা অন্য কোনো লক্ষণের সঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

মস্তিষ্কের টিউমারের সম্ভাব্য কিছু লক্ষণ হলো—

  • বারবার বা বাড়তে থাকা মাথাব্যথা

  • খিঁচুনি

  • বমি বা বমি বমি ভাব

  • চোখে দেখতে সমস্যা

  • কথা বলতে সমস্যা

  • হাঁটা বা ভারসাম্য রাখতে সমস্যা

  • শরীরের কোনো অংশ দুর্বল বা অবশ হওয়া

  • আচরণ বা ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন

  • মনোযোগে সমস্যা

  • অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব

এসব লক্ষণ দেখা দিলেই টিউমার হয়েছে এমন নয়। তবে নতুন কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে বা দ্রুত বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তরুণদের ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়?

কম বয়সে গুরুতর রোগ হবে না এমন ধারণার কারণে অনেক সময় লক্ষণগুলো উপেক্ষা করা হয়। মাথাব্যথা, দুর্বলতা বা মনোযোগের সমস্যাকে অনেকে কাজের চাপ বা ঘুমের অভাব বলে ধরে নেন।

ফলে কিছু ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে।

মোবাইল ফোন কি মস্তিষ্কের টিউমারের কারণ?

মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে মস্তিষ্কের টিউমারের সরাসরি কারণগত সম্পর্ক এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

তাই শুধু মোবাইল ব্যবহারের কারণে তরুণদের মধ্যে মস্তিষ্কের টিউমার বাড়ছে এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও বায়ুদূষণসহ বিভিন্ন বিষয় অনেক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তবে মস্তিষ্কের সব ধরনের টিউমার প্রতিরোধে জীবনযাপন কতটা ভূমিকা রাখে, সে বিষয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

তবুও স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে দূরে থাকা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভয় নয়, সচেতনতাই জরুরি

তরুণ বয়সে মস্তিষ্কের টিউমারের খবর শুনে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ এটি তুলনামূলক বিরল এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না।

তবে বয়স কম বলে অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। শরীরে নতুন পরিবর্তন দেখা দিলে, দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে বা লক্ষণ বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

মস্তিষ্কের টিউমার কেন তরুণদের মধ্যে হচ্ছে, তার উত্তর এখনো গবেষণাধীন। তাই ভয় নয় সচেতনতা, সময়মতো পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত