শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

বিশ্ব

আদালতের নির্দেশ বহালের পর

ভারতে ৭০ বছরের পুরোনো মসজিদ বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

ভারতে ৭০ বছরের পুরোনো মসজিদ বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে জেলাশাসকের কার্যালয় চত্বরের মসজিদে বুলডোজারের হানা। ছবি : এএনআই

ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে সরকারি জমি দখল করে নির্মাণের অভিযোগে প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

আদালত মসজিদটি ভেঙে ফেলার আগের নির্দেশ বহাল রাখার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সরকারি জমিতে ‘অবৈধ দখলের’ মাধ্যমে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। আদালতের নির্দেশে মসজিদ কমিটিকে প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

গত ১৭ জুলাই সংশ্লিষ্ট আদালত মসজিদটিকে বেআইনি ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। পরে সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে মুসলিম পক্ষ আপিল করে। তবে গত ৪ সেপ্টেম্বর জেলা জজের আদালত সেই আবেদন খারিজ করে আগের নির্দেশ বহাল রাখেন।

স্থানীয় মুসলিমদের দাবি, মসজিদটির বয়স প্রায় ৭০ বছর এবং নির্মাণের পর থেকেই এর রাজস্ব রেকর্ড রয়েছে। তারা আদালতে বিষয়টি নিয়ে আরও আইনি লড়াইয়ের সুযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন।

যেভাবে শুরু হয় মামলা

মামলার নথি অনুযায়ী, বজরং দলের সাবেক প্রাদেশিক সমন্বয়কারী বিকাশ ত্যাগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়াটি শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়, সংবেদনশীল প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এমন সরকারি কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে ‘অবৈধভাবে’ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া সেখানে ডাকঘর পরিচালনা এবং বিভিন্ন কক্ষ ভাড়া দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়।

শনিবার ভোরে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় এসডিএম, সিটি ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার জন্য বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও প্রভিন্সিয়াল আর্মড কনস্ট্যাবুলারি (পিএসি) মোতায়েন করা হয়। কালেক্টরেট চত্বরের প্রবেশপথগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছিল।

মুসলিমদের ক্ষোভ

মসজিদটি ভেঙে ফেলার ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।

সাবেক সাংসদ ফজলুর রহমান প্রশাসনকে হঠকারী পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, মসজিদ কর্তৃপক্ষের আইনি প্রতিকার চাওয়ার জন্য আরও সময় ছিল। বিষয়টি এখন হাইকোর্টে তোলা হবে বলেও তিনি জানান।

কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদও বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তার দাবি, বিতর্কিত জমির রাজস্ব রেকর্ডে ওয়াহিদ খান ও ইয়াকুব খানের নাম রয়েছে। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় স্থাপনা এবং ঐতিহাসিক রেকর্ডও বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে কাইরানার সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সাংসদ ইকরা হাসান সাহারানপুর যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে বাধা দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে তিনি সাহারানপুর যেতে চেয়েছিলেন।

মসজিদ উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সাহারানপুরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আদালতের নির্দেশ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

#ভারত #সাহারানপুর #মসজিদভাঙা

চেকপোস্ট

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভারতে ৭০ বছরের পুরোনো মসজিদ বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে সরকারি জমি দখল করে নির্মাণের অভিযোগে প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

আদালত মসজিদটি ভেঙে ফেলার আগের নির্দেশ বহাল রাখার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সরকারি জমিতে ‘অবৈধ দখলের’ মাধ্যমে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। আদালতের নির্দেশে মসজিদ কমিটিকে প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

গত ১৭ জুলাই সংশ্লিষ্ট আদালত মসজিদটিকে বেআইনি ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। পরে সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে মুসলিম পক্ষ আপিল করে। তবে গত ৪ সেপ্টেম্বর জেলা জজের আদালত সেই আবেদন খারিজ করে আগের নির্দেশ বহাল রাখেন।

স্থানীয় মুসলিমদের দাবি, মসজিদটির বয়স প্রায় ৭০ বছর এবং নির্মাণের পর থেকেই এর রাজস্ব রেকর্ড রয়েছে। তারা আদালতে বিষয়টি নিয়ে আরও আইনি লড়াইয়ের সুযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন।

যেভাবে শুরু হয় মামলা

মামলার নথি অনুযায়ী, বজরং দলের সাবেক প্রাদেশিক সমন্বয়কারী বিকাশ ত্যাগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়াটি শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়, সংবেদনশীল প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এমন সরকারি কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে ‘অবৈধভাবে’ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া সেখানে ডাকঘর পরিচালনা এবং বিভিন্ন কক্ষ ভাড়া দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়।

শনিবার ভোরে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় এসডিএম, সিটি ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার জন্য বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও প্রভিন্সিয়াল আর্মড কনস্ট্যাবুলারি (পিএসি) মোতায়েন করা হয়। কালেক্টরেট চত্বরের প্রবেশপথগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছিল।

মুসলিমদের ক্ষোভ

মসজিদটি ভেঙে ফেলার ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।

সাবেক সাংসদ ফজলুর রহমান প্রশাসনকে হঠকারী পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, মসজিদ কর্তৃপক্ষের আইনি প্রতিকার চাওয়ার জন্য আরও সময় ছিল। বিষয়টি এখন হাইকোর্টে তোলা হবে বলেও তিনি জানান।

কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদও বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তার দাবি, বিতর্কিত জমির রাজস্ব রেকর্ডে ওয়াহিদ খান ও ইয়াকুব খানের নাম রয়েছে। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় স্থাপনা এবং ঐতিহাসিক রেকর্ডও বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে কাইরানার সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সাংসদ ইকরা হাসান সাহারানপুর যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে বাধা দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে তিনি সাহারানপুর যেতে চেয়েছিলেন।

মসজিদ উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সাহারানপুরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আদালতের নির্দেশ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত