বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

লাল পতাকা নির্দেশনা মানছেন না অনেক পর্যটক

কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, লাল পতাকা উপেক্ষা করে ঝুঁকিতে সাগরস্নান

কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, লাল পতাকা উপেক্ষা করে ঝুঁকিতে সাগরস্নান
ছবি: চেকপোস্ট

ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণের বিরতির পর আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে সৈকতজুড়ে নেমেছে পর্যটকের ঢল। তবে উত্তাল সাগর আর লাল পতাকার সতর্কতা উপেক্ষা করে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে সমুদ্রস্নানে নামছেন, যা বাড়াচ্ছে নিরাপত্তা শঙ্কা।

গত কয়েকদিনের বৈরী আবহাওয়ার পর রোববার (০৩ মে ২০২৬) সৈকতজুড়ে আবারও দেখা গেছে প্রাণচাঞ্চল্য। বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্রসৈকতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করছেন হাজারো পর্যটক। কেউ বালুচরে খেলায় মেতেছেন, কেউ সমুদ্রস্নানে, আবার কেউ জেটস্কি, ঘোড়ায় চড়া কিংবা বিচে বসে উপভোগ করছেন নোনাজলের সৌন্দর্য।

ঢাকা মিরপুর থেকে আসা পর্যটক হাবিবুর রহমান বলেন, জীবনে প্রথমবার ঘোড়ায় চড়ার অভিজ্ঞতা দারুণ লেগেছে। নরসিংদী থেকে আসা পিয়াল রহমান জানান, পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে ঘুরতে এসে অসাধারণ সময় কাটছে। কুমিল্লার শাহেদ আলম বলেন, কক্সবাজার তার কাছে মানসিক প্রশান্তির জায়গা—বারবার এখানে ফিরতে চান তিনি।

তবে এই আনন্দঘন পরিবেশের মাঝেও সাগরে বিরাজ করছে ঝুঁকি। বঙ্গোপসাগর-এ বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সম্প্রতি ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছিল। যদিও তা নামিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবুও সাগর এখনও উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা টানিয়ে সতর্কতা জারি করেছে সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থা। কিন্তু অনেক পর্যটক সেই নির্দেশনা না মেনে গভীর পানিতে নেমে পড়ছেন।

সংস্থাটির সিনিয়র লাইফগার্ড রুহুল আমিন বলেন, “সাগর বর্তমানে খুবই উত্তাল। তাই লাল পতাকা দিয়ে বিপদজনক এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যটকদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে—হাঁটু পানির বেশি গভীরে না যেতে এবং নির্ধারিত সীমার বাইরে না যেতে।”

লাইফগার্ডরা নিয়মিত মাইকিং করে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন এবং সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।

এদিকে পর্যটক আকর্ষণে কক্সবাজারের হোটেল-রিসোর্টগুলোতে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড়। অনেক প্রতিষ্ঠানেই ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় চালু রয়েছে। হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় বুকিংও বেড়েছে এবং সামনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

সব মিলিয়ে কক্সবাজারে ফিরেছে পর্যটনের জোয়ার, তবে আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তা সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

#কক্সবাজার_সংবাদ #সমুদ্রসৈকত #নিরাপত্তাসতর্কতা

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, লাল পতাকা উপেক্ষা করে ঝুঁকিতে সাগরস্নান

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণের বিরতির পর আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে সৈকতজুড়ে নেমেছে পর্যটকের ঢল। তবে উত্তাল সাগর আর লাল পতাকার সতর্কতা উপেক্ষা করে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে সমুদ্রস্নানে নামছেন, যা বাড়াচ্ছে নিরাপত্তা শঙ্কা।

গত কয়েকদিনের বৈরী আবহাওয়ার পর রোববার (০৩ মে ২০২৬) সৈকতজুড়ে আবারও দেখা গেছে প্রাণচাঞ্চল্য। বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্রসৈকতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করছেন হাজারো পর্যটক। কেউ বালুচরে খেলায় মেতেছেন, কেউ সমুদ্রস্নানে, আবার কেউ জেটস্কি, ঘোড়ায় চড়া কিংবা বিচে বসে উপভোগ করছেন নোনাজলের সৌন্দর্য।

ঢাকা মিরপুর থেকে আসা পর্যটক হাবিবুর রহমান বলেন, জীবনে প্রথমবার ঘোড়ায় চড়ার অভিজ্ঞতা দারুণ লেগেছে। নরসিংদী থেকে আসা পিয়াল রহমান জানান, পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে ঘুরতে এসে অসাধারণ সময় কাটছে। কুমিল্লার শাহেদ আলম বলেন, কক্সবাজার তার কাছে মানসিক প্রশান্তির জায়গা—বারবার এখানে ফিরতে চান তিনি।

তবে এই আনন্দঘন পরিবেশের মাঝেও সাগরে বিরাজ করছে ঝুঁকি। বঙ্গোপসাগর-এ বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সম্প্রতি ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছিল। যদিও তা নামিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবুও সাগর এখনও উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা টানিয়ে সতর্কতা জারি করেছে সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থা। কিন্তু অনেক পর্যটক সেই নির্দেশনা না মেনে গভীর পানিতে নেমে পড়ছেন।

সংস্থাটির সিনিয়র লাইফগার্ড রুহুল আমিন বলেন, “সাগর বর্তমানে খুবই উত্তাল। তাই লাল পতাকা দিয়ে বিপদজনক এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যটকদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে—হাঁটু পানির বেশি গভীরে না যেতে এবং নির্ধারিত সীমার বাইরে না যেতে।”

লাইফগার্ডরা নিয়মিত মাইকিং করে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন এবং সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।

এদিকে পর্যটক আকর্ষণে কক্সবাজারের হোটেল-রিসোর্টগুলোতে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড়। অনেক প্রতিষ্ঠানেই ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় চালু রয়েছে। হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় বুকিংও বেড়েছে এবং সামনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

সব মিলিয়ে কক্সবাজারে ফিরেছে পর্যটনের জোয়ার, তবে আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তা সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত