মানুষ জীবনের নানা সিদ্ধান্তে দ্বিধায় পড়ে। নতুন কাজ শুরু, বিয়ে, চাকরি, ব্যবসা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সঠিক পথ বেছে নিতে মুসলমানরা আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন ইসতেখারার মাধ্যমে।
ইসতেখারা আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো—কোনো বিষয়ে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা। এটি এমন একটি সুন্নতি আমল, যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা ও সন্তুষ্ট থাকার শিক্ষা লাভ করে।
সাহাবি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) সাহাবিদের সব বিষয়ে ইসতেখারা করতে শেখাতেন, যেভাবে তিনি কোরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৬৬)
ইসতেখারা করার পদ্ধতি খুবই সহজ। নিয়মগুলো হলো—
১. প্রথমে ভালোভাবে অজু করতে হবে।
২. ইসতেখারার নিয়তে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে হবে।
৩. নফল নামাজের মতোই এ নামাজ আদায় করতে হবে। এর জন্য আলাদা কোনো সময় বা বিশেষ নিয়তের প্রয়োজন নেই।
৪. নামাজ শেষে আল্লাহর প্রশংসা ও মহানবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে ইসতেখারার দোয়া পড়তে হবে।
ইসতেখারার মূল দোয়ায় বান্দা আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার কাছে নিজের অক্ষমতা স্বীকার করে কল্যাণ প্রার্থনা করে।
দোয়ার শুরু:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসতাখিরুকা বি ইলমিকা, ওয়া আসতাকদিরুকা বি কুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাজলিকাল আজিম।
অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার কাছে কল্যাণ চাই। আপনার ক্ষমতার মাধ্যমে শক্তি চাই এবং আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করি। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমতাবান, আমি ক্ষমতাহীন। আপনি জানেন, আমি জানি না। আপনি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।
দোয়ায় নিজের প্রয়োজনীয় বিষয়টি মনে মনে উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হয়—যদি তা কল্যাণকর হয়, তাহলে সহজ করে দিতে এবং বরকত দিতে; আর অকল্যাণকর হলে তা দূরে সরিয়ে দিতে এবং উত্তম বিষয় নির্ধারণ করে দিতে।
অনেকের ধারণা, ইসতেখারা করার পর অবশ্যই কোনো স্বপ্ন বা বিশেষ ইঙ্গিত পাওয়া যাবে। তবে ইসলামী শিক্ষায় এমন ধারণার ভিত্তি নেই।
ইসতেখারার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া এবং তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা করা। স্বপ্ন দেখা বা কোনো বিশেষ সংকেত পাওয়া ইসতেখারার শর্ত নয়।
নামাজের মাধ্যমে ইসতেখারা করার সুযোগ না থাকলে সংক্ষিপ্তভাবে এই দোয়া পড়া যায়—
اللّهُمّ خِرْ لِي وَاخْتَرْ لِي
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা খিরলি ওয়াখতারলি।
অর্থ:
হে আল্লাহ, আমাকে কল্যাণ দান করুন এবং আমার জন্য উত্তম বিষয়টি নির্বাচন করে দিন।
ইসতেখারা মূলত আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা, তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি আত্মসমর্পণ এবং কল্যাণের প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতি আমল।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
মানুষ জীবনের নানা সিদ্ধান্তে দ্বিধায় পড়ে। নতুন কাজ শুরু, বিয়ে, চাকরি, ব্যবসা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সঠিক পথ বেছে নিতে মুসলমানরা আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন ইসতেখারার মাধ্যমে।
ইসতেখারা আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো—কোনো বিষয়ে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা। এটি এমন একটি সুন্নতি আমল, যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা ও সন্তুষ্ট থাকার শিক্ষা লাভ করে।
সাহাবি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) সাহাবিদের সব বিষয়ে ইসতেখারা করতে শেখাতেন, যেভাবে তিনি কোরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৬৬)
ইসতেখারা করার পদ্ধতি খুবই সহজ। নিয়মগুলো হলো—
১. প্রথমে ভালোভাবে অজু করতে হবে।
২. ইসতেখারার নিয়তে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে হবে।
৩. নফল নামাজের মতোই এ নামাজ আদায় করতে হবে। এর জন্য আলাদা কোনো সময় বা বিশেষ নিয়তের প্রয়োজন নেই।
৪. নামাজ শেষে আল্লাহর প্রশংসা ও মহানবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে ইসতেখারার দোয়া পড়তে হবে।
ইসতেখারার মূল দোয়ায় বান্দা আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার কাছে নিজের অক্ষমতা স্বীকার করে কল্যাণ প্রার্থনা করে।
দোয়ার শুরু:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসতাখিরুকা বি ইলমিকা, ওয়া আসতাকদিরুকা বি কুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাজলিকাল আজিম।
অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার কাছে কল্যাণ চাই। আপনার ক্ষমতার মাধ্যমে শক্তি চাই এবং আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করি। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমতাবান, আমি ক্ষমতাহীন। আপনি জানেন, আমি জানি না। আপনি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।
দোয়ায় নিজের প্রয়োজনীয় বিষয়টি মনে মনে উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হয়—যদি তা কল্যাণকর হয়, তাহলে সহজ করে দিতে এবং বরকত দিতে; আর অকল্যাণকর হলে তা দূরে সরিয়ে দিতে এবং উত্তম বিষয় নির্ধারণ করে দিতে।
অনেকের ধারণা, ইসতেখারা করার পর অবশ্যই কোনো স্বপ্ন বা বিশেষ ইঙ্গিত পাওয়া যাবে। তবে ইসলামী শিক্ষায় এমন ধারণার ভিত্তি নেই।
ইসতেখারার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া এবং তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা করা। স্বপ্ন দেখা বা কোনো বিশেষ সংকেত পাওয়া ইসতেখারার শর্ত নয়।
নামাজের মাধ্যমে ইসতেখারা করার সুযোগ না থাকলে সংক্ষিপ্তভাবে এই দোয়া পড়া যায়—
اللّهُمّ خِرْ لِي وَاخْتَرْ لِي
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা খিরলি ওয়াখতারলি।
অর্থ:
হে আল্লাহ, আমাকে কল্যাণ দান করুন এবং আমার জন্য উত্তম বিষয়টি নির্বাচন করে দিন।
ইসতেখারা মূলত আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা, তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি আত্মসমর্পণ এবং কল্যাণের প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতি আমল।
