বিশ্বব্যাপী চামড়াজাত পণ্যের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও বাংলাদেশের চামড়া শিল্প ক্রমেই প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পনেতাদের মতে, দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, অবকাঠামোগত সংকট এবং পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতার কারণে সম্ভাবনাময় এ শিল্প এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে।
একসময় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত ছিল চামড়া শিল্প। বর্তমানে সেই রপ্তানি আয় এক বিলিয়ন ডলারেরও নিচে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, চামড়া খাত দেশের অন্যতম উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী রপ্তানি শিল্প হলেও বর্তমান সংকট ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিশেষ করে কার্যকর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ সম্ভব হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশগত মান পূরণ না হওয়ায় ইউরোপ ও আমেরিকার বহু ক্রেতা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এর ফলে রপ্তানি বাজার সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোও তারল্য সংকটে পড়েছে।
লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে গরুর চামড়া মাত্র ৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক কম।
এ অবস্থায় কোরবানির চামড়ার আয়ের ওপর নির্ভরশীল মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশগত মান নিশ্চিত করা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক সনদ অর্জন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশ আবারও বৈশ্বিক চামড়া বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
তাদের মতে, প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো সহায়ক নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প আবারও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাতে পরিণত হতে পারে।

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
বিশ্বব্যাপী চামড়াজাত পণ্যের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও বাংলাদেশের চামড়া শিল্প ক্রমেই প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পনেতাদের মতে, দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, অবকাঠামোগত সংকট এবং পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতার কারণে সম্ভাবনাময় এ শিল্প এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে।
একসময় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত ছিল চামড়া শিল্প। বর্তমানে সেই রপ্তানি আয় এক বিলিয়ন ডলারেরও নিচে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, চামড়া খাত দেশের অন্যতম উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী রপ্তানি শিল্প হলেও বর্তমান সংকট ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিশেষ করে কার্যকর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ সম্ভব হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশগত মান পূরণ না হওয়ায় ইউরোপ ও আমেরিকার বহু ক্রেতা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এর ফলে রপ্তানি বাজার সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোও তারল্য সংকটে পড়েছে।
লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে গরুর চামড়া মাত্র ৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক কম।
এ অবস্থায় কোরবানির চামড়ার আয়ের ওপর নির্ভরশীল মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশগত মান নিশ্চিত করা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক সনদ অর্জন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশ আবারও বৈশ্বিক চামড়া বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
তাদের মতে, প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো সহায়ক নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প আবারও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাতে পরিণত হতে পারে।
