বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

৩ দশক ধরে পিতৃসম্পত্তি থেকে বঞ্চিত রাসেল মিয়া, মিলছে শুধু নির্যাতনের অভিযোগ

৩ দশক ধরে পিতৃসম্পত্তি থেকে বঞ্চিত রাসেল মিয়া, মিলছে শুধু নির্যাতনের অভিযোগ

প্রায় তিন দশক ধরে পিতৃসম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের পরিবহন ব্যবসায়ী মো. রাসেল মিয়া। তার দাবি, পৈতৃক সম্পত্তির প্রায় ১৫ কানি জমি থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নিজের অধিকার ফিরে পেতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করলেও বারবার হামলা, মারধর ও হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রাসেল মিয়া জানান, তার বাবা মৃত আইয়ুব আলী মেম্বার ১৯৯৬ সালে মারা যান। তারা তিন ভাই ও তিন বোন। বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তিতে তারও ওয়ারিশি অংশ থাকার কথা থাকলেও প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি সেই সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে দাবি করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রাসেল মিয়ার সঙ্গে তার ভাই রুবেল মিয়াসহ কয়েকজনের বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে তিনি একাধিকবার মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে তার অভিযোগ, প্রতিবার অভিযোগ দায়েরের পরও অভিযুক্তরা প্রভাব বিস্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

রাসেল মিয়ার অভিযোগ, গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ রাতে তাকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি এবং এ বিষয়ে মাধবপুর থানায় অভিযোগও দায়ের করেন।

এরপর গত ৫ মে ২০২৬ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে পরমানন্দপুরে নিজ বসতবাড়ির উঠানে কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন রাসেল মিয়া। এতে তিনি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। মাথায় আঘাতের কারণে চিকিৎসা নিতে হয় এবং কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট তেলিয়াপাড়া বাজারেও তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাসেল মিয়া। এতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

রাসেল মিয়ার আরও অভিযোগ, তার পৈতৃক সম্পত্তি ওয়ারিশদের অনুমতি ছাড়াই ভূমি ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করা হয়েছে। তিনি এসব লেনদেনকে জালিয়াতি বলে দাবি করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

রাসেল মিয়া বলেন, “যুগের পর যুগ ধরে আমি নির্যাতনের শিকার। এত ত্যাগ স্বীকার করেও আজ আমি আমার অধিকার পাচ্ছি না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। আমি মাননীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনাগুলো তদন্ত করে ন্যায়বিচার দাবি করছি।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা ফিরে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ ও যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রুবেল মিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


৩ দশক ধরে পিতৃসম্পত্তি থেকে বঞ্চিত রাসেল মিয়া, মিলছে শুধু নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

প্রায় তিন দশক ধরে পিতৃসম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের পরিবহন ব্যবসায়ী মো. রাসেল মিয়া। তার দাবি, পৈতৃক সম্পত্তির প্রায় ১৫ কানি জমি থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নিজের অধিকার ফিরে পেতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করলেও বারবার হামলা, মারধর ও হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।


রাসেল মিয়া জানান, তার বাবা মৃত আইয়ুব আলী মেম্বার ১৯৯৬ সালে মারা যান। তারা তিন ভাই ও তিন বোন। বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তিতে তারও ওয়ারিশি অংশ থাকার কথা থাকলেও প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি সেই সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে দাবি করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রাসেল মিয়ার সঙ্গে তার ভাই রুবেল মিয়াসহ কয়েকজনের বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে তিনি একাধিকবার মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে তার অভিযোগ, প্রতিবার অভিযোগ দায়েরের পরও অভিযুক্তরা প্রভাব বিস্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

রাসেল মিয়ার অভিযোগ, গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ রাতে তাকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি এবং এ বিষয়ে মাধবপুর থানায় অভিযোগও দায়ের করেন।


এরপর গত ৫ মে ২০২৬ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে পরমানন্দপুরে নিজ বসতবাড়ির উঠানে কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন রাসেল মিয়া। এতে তিনি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। মাথায় আঘাতের কারণে চিকিৎসা নিতে হয় এবং কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট তেলিয়াপাড়া বাজারেও তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাসেল মিয়া। এতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


রাসেল মিয়ার আরও অভিযোগ, তার পৈতৃক সম্পত্তি ওয়ারিশদের অনুমতি ছাড়াই ভূমি ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করা হয়েছে। তিনি এসব লেনদেনকে জালিয়াতি বলে দাবি করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।


রাসেল মিয়া বলেন, “যুগের পর যুগ ধরে আমি নির্যাতনের শিকার। এত ত্যাগ স্বীকার করেও আজ আমি আমার অধিকার পাচ্ছি না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। আমি মাননীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনাগুলো তদন্ত করে ন্যায়বিচার দাবি করছি।”


তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা ফিরে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ ও যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রুবেল মিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত