শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

২৫ হাজার বেতন, ৮ বছরে কোটি টাকার সম্পদ! নিশান এনজিওর সাবেক কর্মকর্তাকে ঘিরে রহস্য

২৫ হাজার বেতন, ৮ বছরে কোটি টাকার সম্পদ! নিশান এনজিওর সাবেক কর্মকর্তাকে ঘিরে রহস্য
ছবি: জামাল মিয়া

মাত্র ২৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনের চাকরি। কয়েক বছর আগেও ছিল মাটির ঘর। অথচ মাত্র আট বছরের ব্যবধানে সেই মাটির ঘরের জায়গায় গড়ে উঠেছে বিলাসবহুল বাড়ি। সঙ্গে জমি-জমাসহ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ অন্তত ২০ কোটি টাকা

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের বাসিন্দা জামাল মিয়াকে ঘিরে এখন এমনই নানা প্রশ্ন উঠেছে। তিনি নিশান সোসাইটির সাবেক এরিয়া ম্যানেজার

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিশান সোসাইটিতে দায়িত্ব পালনকালে গ্রাহকদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আস্থাকে কাজে লাগিয়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আমানত হিসেবে সংগ্রহ করেন জামাল মিয়া। শুরুতে নিয়মিত মুনাফা দেওয়ায় গ্রাহকদের বিশ্বাস আরও বাড়তে থাকে। এরপর একপর্যায়ে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার পর তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অভিযোগ অনুযায়ী, জামাল মিয়ার কাছে বিভিন্ন ব্যক্তির বিপুল পরিমাণ টাকা পাওনা রয়েছে

ভুক্তভোগীরা জানান, মনির মিয়ার লাখ টাকা, সুমন মিয়ার লাখ টাকা, মীর হৃদয়ের লাখ টাকা, মোশাররফ হোসেনের ১৭ লাখ ১৮ লাখ টাকা, পারভীন আক্তারের লাখ টাকা, জাহাঙ্গীর মিয়ার ১৪ লাখ টাকা, নার্গিস আক্তারের ১৩ লাখ টাকা এবং বাবু মিয়ার লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে এছাড়া বিজয়নগরের মেঘশিমুল গ্রামের এমদাদ মিয়াও টাকা দেওয়ার দাবি করেছেন এমদাদ মিয়া বলেন, লাখ টাকা দিয়েছি। প্রথম দিকে যোগাযোগ ছিল। পরে আর টাকা ফেরত দেয়নি। এখন ফোনেও পাওয়া যায় না।

ভবানীপুরের মোশাররফ হোসেনের অভিযোগ, তিনি বিশ্বাস করে জামালকে বড় অঙ্কের টাকা দিয়েছিলেন। তার ভাষায়, বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছিলাম। এখন টাকাও নেই, মানুষটাও নেই।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের মতো আরও অনেক মানুষ জামালের কাছে টাকা দিয়েছেন। তবে অভিযোগকারীদের দেওয়া সব দাবির স্বতন্ত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় জামাল মিয়ার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ। সাহেবনগর গ্রামে তাদের ছিল মাটির ঘর। কিন্তু নিশান সোসাইটিতে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তার জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসতে থাকে বলে স্থানীয়দের দাবি অভিযোগ রয়েছে, চাকরির কয়েক বছরের মধ্যেই জমি কেনা, বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন সম্পদ গড়ে তোলেন তিনি

পুরোনো মাটির ঘর ভেঙে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ব্যয়বহুল বাড়ি। স্থানীয়দের দাবি, শুধু বাড়িই নয়, আশপাশে বিভিন্ন জায়গায় জমি-জমা অন্যান্য সম্পদও রয়েছে তার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, মাত্র ২৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনের চাকরি করে আট বছরের মধ্যে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব?

তবে জামাল মিয়ার কথিত ২০ কোটি টাকার সম্পদের দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তার নামে ঠিক কত সম্পদ রয়েছে, সেগুলোর ক্রয়মূল্য কত এবং এসব সম্পদের অর্থের উৎস কী? তা নির্ধারণে প্রয়োজন সরকারি নথি আর্থিক তদন্ত

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, জামাল মিয়া টাকা নেওয়ার সময় নিশান সোসাইটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পদমর্যাদা ব্যবহার করেছিলেন কি না তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা হিসেবে জামালের ওপর আস্থা রেখেই তারা টাকা দিয়েছেন। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, এসব টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে কি না যদি টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না হয়ে থাকে, তাহলে তা কোথায় গেছে এবং কার কাছে গেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন

একই সঙ্গে নিশান সোসাইটির অভ্যন্তরীণ হিসাব, আমানত সংগ্রহের রসিদ, ব্যাংক লেনদেন, গ্রাহকদের হিসাব এবং জামালের দায়িত্বকালীন আর্থিক নথি যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা

টাকা ফেরত না পেয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে চেক প্রতারণাসহ একাধিক মামলা হয়েছে কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা মামলা হওয়ার পর জামালকে এলাকায় নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি তাদের তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে

জামাল মিয়ার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি তবে তার স্ত্রী হাসিনা বেগম অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কিছু দুষ্টু প্রকৃতির মানুষ আমাদের ক্ষতি করতে চায়। আল্লাহ সহায় থাকলে কেউ কিছু করতে পারবে না।

জামাল মিয়া প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করার সময়ই গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিনি কীভাবে আমানত সংগ্রহ করতেন, সেই অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা হতো কি না, তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের কোনো অভ্যন্তরীণ তদন্ত হয়েছিল কি না এবং চাকরি ছাড়ার পর তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কোনো হিসাব-নিকাশ বাকি আছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয় বিষয়ে নিশান সোসাইটি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

ভুক্তভোগীদের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও দাবি, জামাল মিয়ার নামে থাকা জমি, বাড়ি অন্যান্য সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হোক তাদের প্রশ্ন, যদি তার বৈধ আয় চাকরির বেতন দিয়ে এসব সম্পদ অর্জন সম্ভব না হয়, তাহলে সম্পদের অর্থের উৎস কী? জন্য তার আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমির দলিল নামজারি, বাড়ি নির্মাণের ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেন তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা

তবে কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ

মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও টাকা ফেরত না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত আইনগত ব্যবস্থা চান তাদের দাবি, জামাল মিয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছেন, সেগুলোর প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হোক। টাকা নিশান সোসাইটির হিসাবে জমা হয়েছিল কি না, ব্যক্তিগত হিসাবে লেনদেন হয়েছিল কি না এবং শেষ পর্যন্ত অর্থ কোথায় গেছে, তা তদন্ত করে বের করা হোক একই সঙ্গে তার নামে থাকা সম্পদের বৈধ উৎস অনুসন্ধান, মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আদালতের জারি করা পরোয়ানা থাকলে তা আইন অনুযায়ী কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা

মাত্র ২৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগের সঙ্গে যদি আমানত আত্মসাতের অভিযোগের কোনো যোগসূত্র থাকে, তাহলে তার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক আইনগত তদন্তেইআর সেই তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন টাকা হারানো ভুক্তভোগীরা


চেকপোস্ট

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


২৫ হাজার বেতন, ৮ বছরে কোটি টাকার সম্পদ! নিশান এনজিওর সাবেক কর্মকর্তাকে ঘিরে রহস্য

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মাত্র ২৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনের চাকরি। কয়েক বছর আগেও ছিল মাটির ঘর। অথচ মাত্র আট বছরের ব্যবধানে সেই মাটির ঘরের জায়গায় গড়ে উঠেছে বিলাসবহুল বাড়ি। সঙ্গে জমি-জমাসহ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ অন্তত ২০ কোটি টাকা

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের বাসিন্দা জামাল মিয়াকে ঘিরে এখন এমনই নানা প্রশ্ন উঠেছে। তিনি নিশান সোসাইটির সাবেক এরিয়া ম্যানেজার

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিশান সোসাইটিতে দায়িত্ব পালনকালে গ্রাহকদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আস্থাকে কাজে লাগিয়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আমানত হিসেবে সংগ্রহ করেন জামাল মিয়া। শুরুতে নিয়মিত মুনাফা দেওয়ায় গ্রাহকদের বিশ্বাস আরও বাড়তে থাকে। এরপর একপর্যায়ে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার পর তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অভিযোগ অনুযায়ী, জামাল মিয়ার কাছে বিভিন্ন ব্যক্তির বিপুল পরিমাণ টাকা পাওনা রয়েছে

ভুক্তভোগীরা জানান, মনির মিয়ার লাখ টাকা, সুমন মিয়ার লাখ টাকা, মীর হৃদয়ের লাখ টাকা, মোশাররফ হোসেনের ১৭ লাখ ১৮ লাখ টাকা, পারভীন আক্তারের লাখ টাকা, জাহাঙ্গীর মিয়ার ১৪ লাখ টাকা, নার্গিস আক্তারের ১৩ লাখ টাকা এবং বাবু মিয়ার লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে এছাড়া বিজয়নগরের মেঘশিমুল গ্রামের এমদাদ মিয়াও টাকা দেওয়ার দাবি করেছেন এমদাদ মিয়া বলেন, লাখ টাকা দিয়েছি। প্রথম দিকে যোগাযোগ ছিল। পরে আর টাকা ফেরত দেয়নি। এখন ফোনেও পাওয়া যায় না।

ভবানীপুরের মোশাররফ হোসেনের অভিযোগ, তিনি বিশ্বাস করে জামালকে বড় অঙ্কের টাকা দিয়েছিলেন। তার ভাষায়, বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছিলাম। এখন টাকাও নেই, মানুষটাও নেই।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের মতো আরও অনেক মানুষ জামালের কাছে টাকা দিয়েছেন। তবে অভিযোগকারীদের দেওয়া সব দাবির স্বতন্ত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় জামাল মিয়ার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ। সাহেবনগর গ্রামে তাদের ছিল মাটির ঘর। কিন্তু নিশান সোসাইটিতে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তার জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসতে থাকে বলে স্থানীয়দের দাবি অভিযোগ রয়েছে, চাকরির কয়েক বছরের মধ্যেই জমি কেনা, বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন সম্পদ গড়ে তোলেন তিনি

পুরোনো মাটির ঘর ভেঙে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ব্যয়বহুল বাড়ি। স্থানীয়দের দাবি, শুধু বাড়িই নয়, আশপাশে বিভিন্ন জায়গায় জমি-জমা অন্যান্য সম্পদও রয়েছে তার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, মাত্র ২৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনের চাকরি করে আট বছরের মধ্যে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব?

তবে জামাল মিয়ার কথিত ২০ কোটি টাকার সম্পদের দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তার নামে ঠিক কত সম্পদ রয়েছে, সেগুলোর ক্রয়মূল্য কত এবং এসব সম্পদের অর্থের উৎস কী? তা নির্ধারণে প্রয়োজন সরকারি নথি আর্থিক তদন্ত

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, জামাল মিয়া টাকা নেওয়ার সময় নিশান সোসাইটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পদমর্যাদা ব্যবহার করেছিলেন কি না তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা হিসেবে জামালের ওপর আস্থা রেখেই তারা টাকা দিয়েছেন। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, এসব টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে কি না যদি টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না হয়ে থাকে, তাহলে তা কোথায় গেছে এবং কার কাছে গেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন

একই সঙ্গে নিশান সোসাইটির অভ্যন্তরীণ হিসাব, আমানত সংগ্রহের রসিদ, ব্যাংক লেনদেন, গ্রাহকদের হিসাব এবং জামালের দায়িত্বকালীন আর্থিক নথি যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা

টাকা ফেরত না পেয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে চেক প্রতারণাসহ একাধিক মামলা হয়েছে কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা মামলা হওয়ার পর জামালকে এলাকায় নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি তাদের তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে

জামাল মিয়ার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি তবে তার স্ত্রী হাসিনা বেগম অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কিছু দুষ্টু প্রকৃতির মানুষ আমাদের ক্ষতি করতে চায়। আল্লাহ সহায় থাকলে কেউ কিছু করতে পারবে না।

জামাল মিয়া প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করার সময়ই গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিনি কীভাবে আমানত সংগ্রহ করতেন, সেই অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা হতো কি না, তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের কোনো অভ্যন্তরীণ তদন্ত হয়েছিল কি না এবং চাকরি ছাড়ার পর তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কোনো হিসাব-নিকাশ বাকি আছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয় বিষয়ে নিশান সোসাইটি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

ভুক্তভোগীদের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও দাবি, জামাল মিয়ার নামে থাকা জমি, বাড়ি অন্যান্য সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হোক তাদের প্রশ্ন, যদি তার বৈধ আয় চাকরির বেতন দিয়ে এসব সম্পদ অর্জন সম্ভব না হয়, তাহলে সম্পদের অর্থের উৎস কী? জন্য তার আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমির দলিল নামজারি, বাড়ি নির্মাণের ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেন তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা

তবে কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ

মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও টাকা ফেরত না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত আইনগত ব্যবস্থা চান তাদের দাবি, জামাল মিয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছেন, সেগুলোর প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হোক। টাকা নিশান সোসাইটির হিসাবে জমা হয়েছিল কি না, ব্যক্তিগত হিসাবে লেনদেন হয়েছিল কি না এবং শেষ পর্যন্ত অর্থ কোথায় গেছে, তা তদন্ত করে বের করা হোক একই সঙ্গে তার নামে থাকা সম্পদের বৈধ উৎস অনুসন্ধান, মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আদালতের জারি করা পরোয়ানা থাকলে তা আইন অনুযায়ী কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা

মাত্র ২৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগের সঙ্গে যদি আমানত আত্মসাতের অভিযোগের কোনো যোগসূত্র থাকে, তাহলে তার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক আইনগত তদন্তেইআর সেই তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন টাকা হারানো ভুক্তভোগীরা



চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত